বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা চার কোটি মানুষেরও বেশি। এ হার মহামারি আকারে বাড়ছে।বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ সাংবাদিকতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এ সব তথ্য জানানো হয়।
রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নবীন নেওয়াজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মানসের সভাপতি ডা. অরুপ রতন চৌধুরী।
দৈনিক সকালের খবর পত্রিকার সম্পাদক মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এ কে এম জোবায়ের ও এন্টি টোবাকো জার্নালিস্ট এ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক মর্তুজা হায়দার লিটন।
অনুষ্ঠানে চারজন সাংবাদিককে এন্টি টোবাকো জার্নালিস্ট এ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এরা হলেন- দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার হামিদ-উজ-জামান মামুন, ডেইলি স্টারের লালমনিরহাট প্রতিনিধি এস দিলীপ রায়, এনটিভির আশিকুর রহমান চৌধুরী ও দৈনিক জালালাবাদ পত্রিকার আবু বক্কর সিদ্দিক। প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রজ্ঞা পরিচালিত (২০১১) গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ২৬ শতাংশ সিগারেট-বিড়ি চুরুট এবং ১৪ শতাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য অবৈধবাবে বিক্রি হয়।
মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ইংল্যান্ড, ভিয়েতনাম, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশসহ ৫০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা শতাধিক ব্রান্ডের অবৈধ তাপাকপণ্যের বাজার এখন বাংলাদেশ।
অবৈধ সিগারেট ও চুরুটের অধিকাংশই আসে সমুদ্র ও বিমানপথে। ধোঁয়াহীন তামাকপণ্যের প্রায় পুরোটাই আসে স্থলপথে এবং প্রধানত পাশের দেশ ভারত থেকে। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত তামাকপণ্যেরও একটা অংশ কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা হয়।
অন্যদিকে তামাকের অবৈধ বাণিজ্যের পথ ধরে দেশব্যাপী বাড়ছে সংঘবদ্ধ চোরাকারবার, মাদকপাচার ও মানবপাচারের মত ভয়াবহ ঘটনার ঝুঁকি।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন এ্যালায়েন্স (এফসিএ) ও হেলথ ব্রিজ পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী (২০১০) বাংলাদেশে তামাকের অবৈধ বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে ৬৮৪ মিলিয়ন টাকা এবং এর ফলে প্রতিবছর সরকারকে ২ হাজার ৪৩২ মিলিয়ন টাকার রাজস্ব হারাতে হয়।
রাজস্ব ক্ষতি ছাড়াও তামাকের অবৈধ বাণিজ্যের ফলে দেশে কেবল কমদামী সিগারেটের সহজপ্রাপ্যতাই বাড়ছে না একই সাথে তামাকপণ্যে ক্রমশ সস্তা হয়ে পড়ায় জনগণ বিশেষ করে তরুণ নিম্নবিত্ত ও স্বল্প শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মাঝে এর ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্লোব্যাল এ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে অনুযায়ী (২০০৯), দেশে মাত্র ৫ বছরের (২০০৪ থেকে ২০০৯) ব্যবধানে তামাক ব্যবহারকারীর হার বেড়েছে ৬ শতাংশ (৩৭ শতাংশ থেকে ৪৩ শতাংশ) বর্তমানে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৪ কোটিরও বেশি।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম


