বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ধ্বসের কারণে কাওরান বাজারে সার্ক ফোয়ারা-পান্থপথ সড়ক বন্ধ

images (4)রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিমুখী রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন ভবনের সীমানা প্রাচীরে দেখা দেওয়া ফাটলে ধস দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে নয়টার দিকে ওই অংশটি বিকট শব্দে ধসে পড়ে। নতুন করে ধসের পর সার্ক ফোয়ারা থেকে পান্থপথ সড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিকেলে ওই অংশটিতে ফাটল দেখা দেয়।

কারওয়ান বাজার এলাকায় বুধবার সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে দুই দফা ন্যাশনাল ব্যাংকের নির্মাণাধীন ‘টুইন টাওয়ার’ ভবনের পাইলিংয়ের একটি অংশসহ পাশের সড়ক ধসে পড়ে। এতে হুমকির মুখে পড়ে সুন্দরবন হোটেল। দুপুর ৩টার দিকে ধসে পড়া ওই স্থানে বালু ফেলার সময় ফের ধস দেখা দেয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সুন্দরবন হোটেলের বেজমেন্টের একটি অংশও ভেঙে পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বসুন্ধরা সিটিমুখী রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন ভবনের সীমানা প্রাচীরে ফাটল এবং পরবর্তী সময়ে ধস দেখা দেওয়ায় সুন্দরবন হোটেলের পর ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা।

ভারি বর্ষণ হলে ন্যাশন্যাল ব্যাংকের নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের উত্তর পাশের (বসুন্ধরা সিটিমুখী রাস্তা) পাইলিং ধসে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর রাস্তাটি ধসে পড়লে সার্ক ফোয়ারাটিও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

ধসের আশঙ্কায় এরই মধ্যে ওই পাশে অবস্থিত বিলবোর্ড, লোকজন ও হকারদের সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আনিসুল হক। শঙ্কা প্রকাশ করে আনিসুল হক দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাতের বাম পাশে (কারওয়ান বাজার মোড়সংলগ্ন এলাকা) অনেক বেশি প্রেসার রয়েছে। এ কারণে ওখান থেকে বিলবোর্ড সরিয়ে দিচ্ছি।’

এদিকে দুর্ঘটনার ৩৪ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত শঙ্কামুক্ত হয়নি হোটেল সুন্দরবন। বালি দিয়ে ধসে যাওয়া স্থানটি ভরাট করার কথা থাকলেও গাড়ি ও বালির অভাবে তা সম্ভব হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই দুর্ঘটনা মোকাবেলার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আনিসুল হক।

তবে সংশ্লিষ্টদের অনেকে বলছেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও রাজউকসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় দুর্ঘটনা মোকাবেলায় উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যত তারা ব্যর্থ হয়েছে। এ জন্য শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে দুর্ঘটনা মোকাবেলায় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে মেয়র আনিসুল হক বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়া সংক্রান্ত ফাইলে স্বাক্ষর করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কাছে ওই চিঠি পাঠানো হচ্ছে।’ এ সময় তিনি কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সামনে কনস্ট্রাকশন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) আনিসুল হক টেলিফোনে বলেন, ‘আপনি সাড়ে ৩০০ ট্রাকের কথা বলেছেন। এখন পর্যন্ত একটি ট্রাকও আসেনি। আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছি। বৃষ্টি এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে দায়িত্ব আপনার।’

এদিকে রাজউক বলেছে দুর্ঘটনার সব দায়ভার ভবন মালিক অর্থাৎ ন্যাশনাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম

আরও পড়ুন