রাজধানী ঢাকায় চলন্ত মাইক্রোবাসে আদিবাসী তরুণীকে গণধর্ষণের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার তোপখানা রোডের একটি বাসায় তরুণীকে (২৬) টানা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ধর্ষণের শিকার তরুণী নিজেই শাহবাগ থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। ধর্ষণে অভিযুক্ত মোহাম্মদ উল্লাহ ইমন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষার পর ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেলে অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেফতারে অভিযান চালাবে পুলিশ।
ধর্ষণের শিকার তরুণীর বরাত দিয়ে শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম জানান, তোপখানা রোডের ২৬/৯/৮ নম্বর বাসায় ইমনের সঙ্গে ৯ মাস ধরে ছিলেন ওই তরুণী। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীতে। প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি ঢাকায় ইমনের বাসায় এসে ওঠেন। এরপর ইমন একজন কাজীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ‘মৌখিকভাবে’ তাকে বিয়েও করেন। তবে সে সময় কাবিননামা করা হয়নি। কিছুদিন ধরে ওই তরুণী তাকে কাবিননামা করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন।
একপর্যায়ে শনিবার সকালে ইমন কাবিননামা করতে অস্বীকৃতি জানান এবং ওই তরুণীকে বাসা থেকে বের করে দেন। পরে সন্ধ্যায় তরুণী পুলিশের শরণাপন্ন হন। পরে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার জন্য রাত ১০টায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ওই তরুণী জানান, বিয়ের নাটক করে ইমন দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করেছেন। তিনি ইমনের শাস্তি চান।
এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেলে এ বিষয়ে মামলা হবে। তখন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২১ মে রাতে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোড থেকে আদিবাসী গারো সম্প্রদায়ের এক তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরদিন ভাটারা থানায় মামলা করেন ওই তরুণী। পরে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর গুলশান ও পটুয়াখালী থেকে আশরাফ খান ওরফে তুষার ও জাহিদুল ইসলাম লাভলুকে আটক করে র্যাব। পরে গত বৃহস্পতিবার ওই দুজনকে ১০ দিন করে পুলিশ রিমান্ডে নেয়ার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


