বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ভারত মহাসাগরে ফের চিনা সাবমেরিন!

sabmerin-সোমালিয়া উপকূলে জলদস্যুদের উৎপাত রোখার কোনও ‘সদুদ্দেশ্য’ নিয়ে ভারত মহাসাগরে ফের চিনা পরমাণু সাবমেরিনের আনাগোনা শুরু হয়নি৷ এর পিছনে আছে অন্য অভিসন্ধি৷ এমনটাই মত ভারতীয় নৌবাহিনীর একাধিক অফিসারের৷ এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে নিরন্তরভাবে ও পর্যায়ক্রমে চিনা পরমাণু যুদ্ধ সাবমেরিনের আনাগোনা আসলে এক নিপুণ ছন্দোবদ্ধ সামরিক মহড়া৷ ভারত মহাসাগরে অনেক দিন ধরেই প্রভাব বলয় বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে লালচিন৷তাদের পরমাণু যুদ্ধ সাবমেরিনের ক্রমাগত আসা-যাওয়া সেই প্রভাব বিস্তারেরই প্রয়াস৷

ভারতের নৌবাহিনী সূত্র বলছে, যদিও এখনও পর্যন্ত ভারতীয় তল্লাটের জলসীমায় চিনা পরমাণু সাবমেরিনের অনুপ্রবেশের জোরাল প্রমাণ মেলেনি, তবু সাবমেরিন স্নায়ুযুদ্ধের এক নয়া পর্ব যে চিন এভাবে শুরু করতে চাইছে, ভারতকে চাপে ফেলার জন্য আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের লড়াইয়ে এক নতুন গ্রেট গেমে নামতে যে তারা উদ্যত, ভারত মহাসাগরে তাদের যুদ্ধ সাবমেরিনের আনাগোনা তারই ইঙ্গিত৷

যদিও ভারতের নৌ-অফিসারদের আশ্বাস, চিনা সাবমেরিনের বিচরণে এতটুকুও বিচলিত হওয়ার কারণ নেই৷ প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে এক দুর্ঘটনায় অত্যাধুনিক ভারতীয় সাবমেরিন আইএনএস সিন্ধুরক্ষক ঘায়েল হয়৷ওই সাবমেরিনের ১৮ জন অফিসার ও নাবিকের মৃত্যু ঘটে৷ এর পর গত বছর আর এক ভারতীয় সাবমেরিন আইএনএস সিন্ধুরত্নেও একটি দুর্ঘটনা ঘটে৷ তাতে মারা যান দুজন অফিসার৷ দুটি ঘটনার পিছনেই অন্তর্ঘাতের ইঙ্গিত মিলেছিল৷ তা সত্ত্বেও, ভারতের নৌবাহিনীর একাধিক অফিসারের মতে, বর্তমানে ভারতের ভাঁড়ারে রয়েছে ১৪টি যুদ্ধ সাবমেরিনের আস্ত একখানা ফ্লিট৷ এই ফ্লিট যে কোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় সম্পূর্ণত সক্ষম৷এই সাবমেরিনগুলির মধ্যে ন’টি সাবমেরিনই আটের দশকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতকে দিয়েছিল৷সেগুলিকে হালে আরও উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হয়েছে৷

নয়া দিল্লি প্রতিনিধি

নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম

 

আরও পড়ুন