মালয়েশিয়ায় ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন বন্দী শিবিরে আটক রোহিঙ্গা নারীদের গণধর্ষণ করত তাঁদের আটককারীরা। মালয়েশিয়ার সরকারি গণমাধ্যম বারনামার খবর অনুযায়ী এদের মধ্যে অন্তত দুজন নারী গর্ভবতী হয়ে পড়েছিলেন। আজ মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার গণমাধ্যমের খবরের বরাত দিয়ে এএফপি এ তথ্য জানায়।
বন্দীশিবির থেকে বেঁচে ফিরে আসা এক নারীর বরাত দিয়ে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বারনামা জানায়, বন্দীশিবিরে আটক নারীদের প্রায় রাতেই ক্যাম্প থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো। ওই নারী থাইল্যান্ডে পাদাং বেসারের কাছে একটি বন্দিশিবিরে আটক ছিলেন।
ওই নারী গত বছরের শেষ দিয়ে পাচারকারীদের মুক্তিপণ দিয়ে বন্দিশিবির থেকে ছাড়া পেয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করে।
বারনামাকে এই নারী আরও বলেন, ‘প্রতি রাতে নিরাপত্তারক্ষীরা তিন থেকে চারজন সুন্দরী রোহিঙ্গা নারীকে ক্যাম্প থেকে বের করে গোপন কোনো স্থানে নিয়ে যেত। সম্ভবত নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের গণধর্ষণ করত। এ রকম ঘটনার পর ক্যাম্পের দুজন নারী গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল। কখনো কখনো তাঁদের বেশ কয়েক দিনের জন্য নিয়ে যাওয়া হতো। আমরা ওই সব নারীদের চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শুনতে পেতাম। কারণ তাঁদের যে জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করা হতো, তা ক্যাম্পের কাছেই ছিল। কিন্তু তখন রাত হওয়ায় কী হতো আমরা কিছু বুঝতে পারতাম না।’
বারনামা ওই নারীর স্বামীর সঙ্গেও কথা বলেন। তিনিও মালয়েশিয়ার সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের একাধিক ঘটনা দেখতে পাওয়ার কথা বলেছেন।
গত মাসের শেষের দিকে প্রথমে মালয়েশিয়ায়, পরে থাইল্যান্ডে মানবপাচারের শিকার বন্দীদের বেশ কিছু ক্যাম্পের খোঁজ পাওয়া যায়। পাশাপাশি বেশ কিছু গণকবরের সন্ধানও পাওয়া যায়।
ওয়েব ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


