ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়াপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার হয়ে সাক্ষাত হচ্ছে কী না তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানান আলোচনা। মোদির সফরের সকল কর্মসূচি চূড়ান্ত ভাবে ঘোষিত হওয়ার পরও খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের নির্দিষ্ট সময় ও সূচি না জানানোতেই আলোচনার সূত্রপাত। এ নিয়ে বিএনপি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়লেও দলের নেতারা সাক্ষাতের বিষয়ে আশাবাদী। বিএনপি বলছে, নয়াদিল্লি থেকে সাক্ষাত সূচি নির্ধারিত হয়েছে। তবে বিএনপির এ দাবি নিশ্চিত করা যায়নি।
বুধবার ৩ জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র জানিয়েছে, এখনো বিএনপি চেয়াপার্সনের সঙ্গে সাক্ষাত সূচি নির্ধারণ হয়নি। তবে একাধিক সূত্রের খবর, ২০১৩ সালের মার্চে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ঢাকা সফরে জামায়াতের হরতালের দোহাই দিয়ে খালেদা জিয়া সাক্ষাৎ করতে যাননি। সে সময় কংগ্রেস জোট সরকারের প্রতি নাখোশ হয়ে বিষয়টি করা হলেও এখন সেই বিষয়টিই বিএনপিকে ভোগাচ্ছে বলে সূত্রের খবর। যদিও ওই সিদ্ধান্ত বিএনপির ভুল ছিল বলে এখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে বিএনপি। কিন্তু তাতেও খুব কাজ হচ্ছে না বলেই খোদ বিএনপি সূত্রগুলোই বলছে। যদিও ২০১২ সালের নভেম্বরে খালেদা জিয়ার ভারত সফর অনেকটাই সফল হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। সেই সময় খালেদা জিয়া নয়াদিল্লীতে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা করেন। শুধু কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়ার সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি।
সূত্র জানায়, রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের কোনও পদে না থাকায় বিএনপি চেয়াপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত সূচি নেই। রাষ্ট্রীয় সফরে শুধু রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়গুলো আছে। বিএনপি চেয়াপার্সন খালেদা জিয়া এখন বিরোধীদলীয় নেত্রীও নন। তার কোন ওসরকারি পদই নেই। একারণেই সর্বশেষ চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রীসহ একাধিক ভিআইপি সফরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত হয়নি। তবে সফরকারি যেকোনও পর্যায়ের ব্যাক্তির সঙ্গে স্বউদ্যোগে সাক্ষাতের সূচি রাখতেই পারে। সেহিসেবে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন থেকে বিএনপি চেয়াপার্সনের কার্যালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সূচি নির্ধারণের কথা।
কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য, বিএনপির পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিতে মোদির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক আবেদন করে সাক্ষাত প্রার্থণা করা হয়েছে। আবেদনের চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনও সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। বরং দুই বছর আগে রাষ্ট্রপতি প্রণব মূখার্জির সঙ্গে সাক্ষাতের সূচি নির্ধারণ করার পরও খালেদা জিয়ার দেখা না করার সিদ্ধান্তে এখনো নাখোশ থাকার কথা বিভিন্ন ভাবে জানান দিল্লির সাউথ ব্লকের কর্মকর্তারা।
সফর আয়োজনের সঙ্গে সংশ্বিষ্ট এক কর্মকর্তা বুধবার রাতে নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কমের এই প্রতিবেদককে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি তার সফরের দ্বিতীয় দিনে বঙ্গভবন থেকে হোটেলে ফিরে একাধিক রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারেন। এর মধ্যে আছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদ। সেখানে আরো কিছু সময় এখনো অনির্ধারিত রয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকের জন্য সফরের দ্বিতীয় দিনে রবিবার দুপুরে পর ৪৫ মিনিট ‘সময়’ রেখেছেন মোদি।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা আশা করছি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ভারত পৃথিবীর বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। আর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আছে। বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ আজ অশান্ত ও অস্থিতিশীল। বিষয়টি ভারতও অনুধাবন করছে।
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


