বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ফেরত চায় পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি

Daho-gramভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময়ই দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ভারতের হাতে তুলে দিতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানানো হবে। কলকাতায় নিয়োজিত বাংলাদেশী হাইকমিশনের মাধ্যমে এ আবেদন জানাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি। রাজ্য বিজেপির সভাপতি রাহুল সিনহা সম্প্রতি একথা বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন, এর পর তিন বিঘা করিডোর নিয়ে দ্বিতীয়বার বিবেচনা করা হবে। ভারতের অনলাইন দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকা এ খবর দিয়েছে।

ওদিকে নরেন্দ্র মোদি যখন সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন ইস্যুতে ঢাকা সফর করবেন তখন কুচবিহারে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে প্রতীকী প্রতিবাদ করবে কুচলিবাড়ি সংগ্রাম সমিতি (কেএসএস)।

তিন বিঘা করিডোর ও আঙ্গরপোতা-দহগ্রাম ইস্যুতে তারা ৬ই জুন এই প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন। তাদের দাবি, সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের আগে তিন বিঘা করিডোর ইস্যুটি মিটমাট করা উচিত ভারত সরকারের।

ভারতের অনলাইন দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকা এ খবর দিয়ে বলেছে, ৬ই জুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঢাকা সফরে আসছেন। তার সঙ্গে থাকছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ সফরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ঐতিহাসিক এ ঘটনার দিকে এখন দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, বিশ্বের বিভিন্ন মহল তাকিয়ে আছে। আর এমন সময়কে বেছে নিয়েছে কেএসএস। তাদেরকে সমর্থন দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)।

কেএসএসের উপদেষ্টা ও আরএসএসের নেতা সাধন কুমার পাল বলেছেন, সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ছিল তিন বিঘা করিডোর সমস্যার সমাধান করা। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার যে ভুল করেছে তা আগেভাগেই সংশোধন করা উচিত ছিল সরকারের। কিন্তু ভারতের জনগণের স্বার্থে এই সরকার কোন কিছুই করে নি। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘আচ্ছে দিন’ বলতে কি বুঝিয়েছেন। কিন্তু কুচলিবাড়ির মানুষের জন্য কোন আচ্ছে দিন বা সুদিন নেই। সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জাতীয় স্বার্থে। কিন্তু বাংলাদেশের ভিতরে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা সমস্যা রয়েই যাচ্ছে। এই দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতাকে দেখা হয় ভারত বিরোধীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে। এ বিষয়ে কোনই মনোযোগ দেয়া হয় নি। সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়ার পরও তিন বিঘা করিডোর থেকে যাবে।

তিন বিঘা করিডোর বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে আঙ্গরপোতা ও দহগ্রামকে। এই দুটি স্থানকে বাংলাদেশী ছিটমহল হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। সাধন কুমার পাল বলেন, কুচলিবাড়ি হলো ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এটা পরিণত হবে আরেকটি ছিটমহলে। বর্তমানের সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে এমনটা হবে। সাধন কুমার পাল বলেন, সম্প্রতি রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাহুল সিনহা বলেছেন, সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে গেলেও শতকরা দুই ভাগ সমস্যা যা আঙ্গরপোতা-দহগ্রামের জন্য থেকে যাবে, তা সমাধান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় আমরা এ বিষয়ে কলকাতায় নিয়োজিত হাইকমিশনারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানাবো। তাতে তাদেরকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতাকে ভারতের হাতে ছেড়ে দেয়ার আবেদন করবো। তিন বিঘা করিডোর নিয়ে দ্বিতীয়বার বিবেচনা করা হবে।

সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পরে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন ভারতীয় ও বাংলাদেশী ছিটমহলের বেশ কিছু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত লোকজন। ভূমি ও জাতীয়তা নিয়ে ভারতীয় যেসব ছিটমহলের মানুষকে হুমকি দেয়া হয়েছে সেখানে আগে থেকেই সতর্কতামূলক অবস্থান নিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন রাজ্যসভার এমপি ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং কুচ বিহারের এমপি রেনুকা সিনহা।

কুচ বিহারভিত্তিক বিণ্নি সংস্থা এরই মধ্যে একই ধরনের চিঠি লিখেছে মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কাছে। এসব চিঠিতে তারা ভারতীয় ছিটমহলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাতে সহযোগিতা দিতে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বিএসএফের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন