বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শিলং না ছাড়াসহ দুই শর্তে জামিন সালাহ উদ্দিনের

Salahuddin-Shlongমনজুর আহমেদ বড়ভূঁইয়া, শিলচর (আসাম) থেকে॥
ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ের আদালতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের জামিন আবেদন শেষ পর্যন্ত মঞ্জুর হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে শিলংয়ের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সালাহ উদ্দিনের পক্ষে আবার জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে দুই শর্তে অন্তর্বর্তী জামিন দেন।

সালাহ উদ্দিন আহমেদের আইনজীবী জানান, আদালত সালাহ উদ্দিনকে প্রতি মাসে হাজিরা এবং শিলং না ছাড়ার শর্ত দিয়েছেন।

এর আগেও গত ২২ মে শিলংয়ের আদালতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সালাহ উদ্দিনের পক্ষে জামিন আবেদন করেছিলেন তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। ওই আবেদন আদালত নামঞ্জুর করেছিলেন।

সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ এখন শিলংয়ে অবস্থান করছেন।

ঢাকা থেকে অন্তর্ধানের দুই মাস পর গত ১১ মে বাংলাদেশের সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহ উদ্দিনকে মেঘালয় পুলিশ আটক করে। পরে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্টে তার বিরুদ্ধে মামলা করে শিলং পুলিশ।

গত ১০ মার্চ ঢাকা থেকে নিখোঁজের ৬৩ দিন পর ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে খোঁজ মেলে সালাহ উদ্দিনের। ১২ মে সালাহ উদ্দিনকে শিলং সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগের দিন তাঁকে উদ্ধার করে একটি মানসিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এদিনই বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশ করায় ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী অনুপ্রবেশের অভিযোগে ফরেনার্স অ্যাক্টে তার বিরুদ্ধে মামলা করে শিলং পুলিশ।

উন্নত চিকিৎসার জন্য শিলং থেকে অন্য কোনো দেশে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে স্থানান্তর করার জন্য ২২ মে শিলং আদালতে জামিন আবেদন করেন স্ত্রী হাসিনা আহমেদ। এরপর ২৩ মে জামিন আবেদন আমলে নিয়ে ২৯ মে শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত।

ওই দিন আদালত জানিয়েছেন, সালাহ উদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল)-এর রেড এলার্ট জারি থাকায় জামিন মঞ্জুর সম্ভব হলো না।

অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যে গত ১০ মার্চ ঢাকার উত্তরার একটি বাসায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হন সালাহ উদ্দিন আহমেদ।

এরপর দুই মাস দু’দিন পর গত ১২ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ের মিমহ্যানস্ হাসপাতাল থেকে স্ত্রী হাসিনা আহমেদকে ফোনে জানান, তিনি বেঁচে আছেন।

এদিন শিলং পুলিশ সংবাদমাধ্যমকে জানায়, ১১ মে সকালে শিলংয়ের গলফ লিংক এলাকা থেকে সালাহ উদ্দিন আহমেদকে আটক করা হয়। এসময় তার সঙ্গে ভ্রমণের কাগজপত্র না থাকায় স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বিধ্বস্ত চেহারা ও অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তাকে মেঘালয় ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ্ (মিমহ্যানস) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এর পর দুই দফায় হাসপাতাল পরিবর্তন করে প্রথমে শিলং সিভিল হাসপাতাল ও সর্বশেষ শিলং নর্থ ইস্টার্ন ইন্দিরা গান্ধী রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড মেডিক্যাল সায়েন্সেস (নেগ্রিমস) ভর্তি করা হয়।

স্বামীর সন্ধান পাওয়ার পাঁচ দিন পর ১৭ মে শিলংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন হাসিনা আহমেদ। পরের দিন শিলংয়ে পৌঁছে স্বামীর জামিনের জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেন তিনি।

শিলচর ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন