বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাজপেয়ীর বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা নিলেন মোদি

Modi-Bangabhaban১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি হিসেবে অবদান রাখার জন্য ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি অটল বিহারী বাজপেয়ীকে ‘বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা’ দিয়ে সম্মানিত করল হাসিনা সরকার। ঢাকা সফরে আসা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে এই সম্মাননার স্মারক তুলে দিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। ৭ জুন বেলা সোয়া একটার দিকে রাষ্ট্রপতির বাসভবন ‘বঙ্গভবন’-এ স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া দরবার হলের ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার সদস্যরা ছাড়াও সম্মানিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মাননা গ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন মোদি।

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মোদি প্রথমবারের মতো ৬ জুন শনিবার সকালে বাংলাদেশে আসেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে বঙ্গভবনে যান মোদি। তাঁকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।

বিকেলে মোদির সঙ্গে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির নেত্রী রওশন এরশাদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

এদিন সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে জনবক্তৃতা দেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বক্তৃতা অনুষ্ঠান শেষে সরাসরি বিমানবন্দরে গিয়ে দিল্লির পথে যাত্রা করবেন মোদি।

বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিনে রবিবার ঢাকায় ব্যস্ত সময় পার করেন মোদি। সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির এবং রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন দর্শন করেন তিনি।

এরপর ঢাকার বারিধারা কূটনৈতিক জোনের দূতাবাস সড়কে ভারতীয় হাইকমিশনে তিনি নতুন চ্যান্সারি উদ্বোধন করেছেন।

এর আগে রবিবার দিনের শুরুতে সকাল পৌনে নয়টার দিকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মধ্য দিয়ে সফরের দ্বিতীয় দিনের কার্যসূচি শুরু করেন তিনি। সেখানে তাঁকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয়। মন্দির দর্শন এবং প্রার্থনায় অংশ নেওয়ায় পর মোদির হাতে স্মারক ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। পরিয়ে দেওয়া হয় উত্তরীয়।

এরপর ৯টা ১০ মিনিটের দিকে মোদি যান রামকৃষ্ণ মিশনে। সেখানেও তাঁকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। তিনি রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন দর্শন করেন। অংশ নেন প্রার্থনায়। সেখানেও তাকে বেশকিছু স্মারক ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়।

রামকৃষ্ণ মিশন থেকে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মোদি রওনা দেন বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনের উদ্দেশে। সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি সেখানে পৌঁছান। দূতাবাস প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণের পর নতুন চ্যান্সেরি উদ্বোধন করেন মোদি।

এ সময় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে একটি অ্যাম্বুলেন্স উপহার দেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ভারত সরকারের সহায়তায় নির্মিত ছয়টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন তিনি। পরে সেখান থেকে হোটেল সোনারগাঁওয়ে ফেরেন তিনি। দুপুরে এখান থেকে বঙ্গভবনে যান।

বিশেষ প্রতিনিধি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন