বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বৃষ্টি বাধার ফতুল্লা টেস্টে ভারত ২১৮/০

BD-India-Fatullah-Test-Newsworldbdবাংলাদেশের সঙ্গে ফতুল্লায় টেস্টের প্রথম দিনে বৃস্টির বাধা সত্ত্বেও মজবুত ভিত তৈরি করে নিয়েছে ভারত। বুধবার ১০ জুন খেলার প্রথম দিন শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ বিনা উইকেটে ২১৮। ওপেনার শিখর ধাওয়ান ১৫০ ও মুরলি বিজয় ৮৯ রানে অপরাজিত আছেন। বিজয় ১৭৮ বল খেললেও ধাওয়ান খেলেন ১৫৮ বল। ধাওয়ান আগ্রাসী খেললেও দিনের একমাত্র ছক্কাটি হাঁকান বিজয়।

বৃষ্টির কারণে খেলা প্রায় চার ঘন্টা বন্ধ থাকায় দিনে মোট খেলা হয়েছে ৫৬ ওভার। ব্যাটিং পিচ পেয়ে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট চালিয়েছে ভারত। শিখর ধাওয়ানের পাশাপাশি মুরলি বিজয়ও হাত খুলে খেলছেন। ৪৪ ওভারেই ২০০ পার করে ফেলে ধাওয়ান-বিজয় জুটি। তখন ধাওয়ান ১২৫ আর বিজয় ৮০ রানে খেলছিলেন।

ঢাকার পাশে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দিনের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ছিলেন ভারতের ওপেনার শিখর ধাওয়ান। বৃষ্টি থামার পরও সে ধারা চলছে। ৩৬তম ওভারে লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেনের বলে চার মেরে শতরান পূর্ণ করেন তিনি। অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা এই ওপেনার দ্বিতীয় শতকটি করেছিলেন ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। ১০১ বলে শতরান পূর্ণ করার পথে তিনি ১৬টি চার মারেন। ১৪ টেস্টে এটি ধাওয়ানের তৃতীয় টেস্ট শতক।

বাংলাদেশ-ভারত টেস্টের প্রথম দিনে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটে যাওয়া ভারতের বৃষ্টি নামার আগে সংগ্রহ ছিল ২৩.৩ ওভারে বিনা উইকেটে ১০৭ রান। বৃষ্টি থেকে মাঠ কিছুটা শুকানোর পর ফের মাঠে বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে মাঠে নামে দুই দল। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভারতের সংগ্রহ ৩৭ ওভারে বিনা উইকেটে ১৬৮। ধাওয়ান ১০৪ ও মুরলি বিজয় ৬৪ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশ মাত্র একজন পেসার- মোহাম্মদ শহিদকে নিয়ে খেলতে নেমেছে।

ফতুল্লার উইকেটের ঘাস নিয়ে অনেক কথা বলেছেন দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম ও কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। পিচে প্রচুর সবুজ ঘাস রয়েছে বলে তারা জানান। এবং এমন পিচ কখনও দেখেন নি বলে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানান তারা। এই পিচে পেসাররা ভাল করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু টেস্ট ম্যাচ যেখানে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট দখলের চেষ্টা থাকে সেখানে মাত্র একজন পেসার নিয়ে মাঠে নামায় অনেকের প্রশ্ন জেগেছে।

আর ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের স্পিন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে খেলার গল্প তো অনেক পুরনো। অভিজ্ঞ পেসার রুবেল হোসেনকেও দলে রাখা হয় নি। তবে বাংলাদেশের দল দেখে মনে হচ্ছে তারা ব্যাটিংয়ের দিকেই বেশি নজর দিয়েছে। আটজন ব্যাটসম্যান নিয়ে মাঠে নেমেছে তারা। স্পেশালিস্ট বোলার বলতে আছেন মাত্র তিনজন। একজন পেসার ও দু’জন স্পিনারÑ তাইজুল ইসলাম ও লেগ স্পিনার জুবাইর হোসেন।

অন্যদিকে ভারত একাদশের চিত্র ভিন্ন। তারা তিনজন স্পেশালিস্ট সোর নিয়ে মাঠে নেমেছে। ইশান্ত শর্মা, উমেশ যাদব ও বরুণ আরোন। আর স্পিন বল করতে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সঙ্গে দলে ফিরেছেন হরভজন সিং। তারা দলে রেখেছে পাঁচজন স্পেশালিস্ট বোলার। আর শুরুতে পাঁচজন স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান তো আছেই।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসান, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস (অভিষেক), শুভাগত হোম, জুবায়ের হোসন লিখন, তাইজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শহীদ।

ভারত দল: শিখর ধাওয়ান, মুরলি বিজয়, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, আজিঙ্কা রাহানে, ঋদ্ধিমান সাহা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, হরভজন সিং, উমেশ যাদব, ইশান্ত শর্মা ও বরুন আরন।

ক্রীড়া প্রতিবেদক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন