বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাজপেয়ীর পরিবারের হাতে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা দিলেন মোদি

Modi-Bajpai-Home-11-06-15বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়িকে দেওয়া ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ তাঁর পরিবারের কাছে তুলে দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১১ জুন বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ির পরিবারের সদস্য রঞ্জন ভট্টাচার্য, নমিতা ভট্টাচার্য ও নীহারিকা ভট্টাচার্যের হাতে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ তুলে দেন নরেন্দ্র মোদী । এ সময় সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ উপস্থিত ছিলেন।

বাজয়েপির পরিবারের কাছে সম্মাননা তুলে দেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি তাঁর টুইটারে লিখেছেন, ‘ অটল জির সঙ্গে দেখা করে ও তাঁর পরিবারের হাতে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’ তুলে দিতে পেরে আনন্দিত’।

জুন মাসের ৬ ও ৭ তারিখ বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদি। ৭ জুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছ থেকে অটল বিহারি বাজপেয়ির পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন মোদি। ৯০ বছর বয়সী বাজপেয়ি অসুস্থতার কারণে বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেননি।

১৯৭১ সালের ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভার সদস্য বাজপেয়ি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রাখেন।ঢাকায় ৭ জুন সম্মাননা গ্রহণ অনুষ্ঠানে মোদি বলেছিলেন, আজ সব ভারতীয়র জন্য গর্বের দিন। এদিন অটল বিহারি বাজপেয়ির মতো একজন মহান নেতা সম্মানিত হয়েছেন। তিনি দেশের জন্য ও সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে পুরো জীবন উৎসর্গ করেছেন। মোদি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সমর্থনে বাজপেয়ির ডাকে সত্যাগ্রহে তিনিও (মোদি) যোগ দিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছিলেন, বাজপেয়িকে সম্মাননা জানিয়ে আমরা বিনীত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। রাষ্ট্রপতি বলেন, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় যে সেনাসদস্যরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। এর মাধ্যমে আমরা তাঁদের প্রতি বিনীত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, অটল বিহারি বাজপেয়ির অকুণ্ঠ সমর্থন ভারতীয় রাজনীতিকদের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি আরও বলেন, পরে বাজপেয়ি বাংলাদেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা দেখিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে এবং পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়েও। বাজপেয়িকে বাংলাদেশের একজন প্রকৃত বন্ধু উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁকে সম্মাননা দিয়ে সম্মানিত বোধ করছি।

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা হিসেবে বাজপেয়ি ১৯৯৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৩ দিন দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদান রেখেছেন এমন বিদেশি বন্ধুদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা জানিয়ে আসছে সরকার। ইতিমধ্যেই অনেক বিদেশি বন্ধুকে সম্মাননা জানানো হয়েছে। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ২০১২ সালের ২৫ জুলাই মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হয়। ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ ও কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ২০১২ সালে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ওই সম্মাননা গ্রহণ করেন। ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে সম্মাননা জানানো হয়।

কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন