নবগঠিত কমিটি প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ১৬ জুন জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ। শনিবার ১৩ জুন দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘জাতীয় প্রেসক্লাব দখলদারমুক্ত করতে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ সমাবেশে’ তিনি এ ঘোষণা দেন।
সভাপতির বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বলেন, ‘১৬ জুন হচ্ছে সাংবাদিকতার কালো দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে রোধ করা হয়েছিল। এরপর চলতি বছরের গত ২৮ মে দেশের সাংবাদিকতায় আরো একটি কালো দিবস রচিত হয়েছে। তাই আবারও প্রেসক্লাবকে অবৈধ দখলদার মুক্ত করতে সেই ১৬ জুন আমরা সাংবাদিক সমাবেশের আয়োজন করেছি। সেখান থেকে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
নির্বাচন কমিশনকে দেয়া হুমকির কারণেই আজ দীর্ঘ দিন ধরে প্রেসক্লাবে নির্বাচন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন শওকত মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘জাতীয় প্রেসক্লাবে দীর্ঘ দিন নির্বাচন না দেয়ার কারণ হিসেবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে- তাদেরকে হুমকি দেয়া হয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে জানতে চাই, কারা আপনাদের হুমকি দিয়েছে, তাদের নাম প্রকাশ করুন। তদের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।’
বিএফইউজে’র এই সভাপতি বলেন, ‘আমরা কেউ প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট হতে চাই না। আমরা চাই, প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে একটি নির্বাচন হোক। তাহলেই কেবল প্রাণের সংগঠন এই জাতীয় প্রেসক্লাব অবৈধ দখলদার মুক্ত হবে।’
আদালত নবগঠিত কমিটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উল্লেখ তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি আদালত প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই নোটিশ দিয়েছেন। তাদের উচিৎ মহামান্য আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে সেই নির্দেশ মেনে চলা। প্রেসক্লাব দখলমুক্ত করে বের হয়ে যাওয়া।’
এ সময় ডিইউজে’র সভাপতি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, ‘প্রেসক্লাবে আর কোনো মানুষ নাই, এটা ডাকাতের গ্রামে পরিনত হয়েছে। কুকুর পাগল হলে তাকে সুস্থাতার জন্য ইনজেকশন দেয়া হয় বা তারপর সিটি করপোরেশনের ট্রাকে করে ভাগারে নিক্ষেপ করা হয়। তেমনি প্রেসক্লাবের অবৈধ দখলদাররা পাগলা কুকুর হয়েছে। তাদেরকে টেনেহিঁচড়ে প্রেসক্লাব থেকে বের করে দিতে হবে।’
আব্দুল হাই শিকদার আরো বলেন, ‘মনে রাখতে হবে বেশ্যাকে সবাই উপভোগ করে, কখনই স্ত্রীর মর্যাদা দেয় না। আজ যারা প্রেসক্লাবে অরাজকতা করছে, তারা আওয়ামী লীগের বেশ্যা, তাদের কোনো দলীয় মর্যাদা নেই। আওয়ামী লীগ তাদের ব্যবহার করছে মাত্র। তাদের প্রতি এখন পর্যন্ত আমরা যথেষ্ট ভদ্র আচরণ করেছি।’ তারা যদি তাদের এই অপকর্ম বন্ধ না করে, ভবিষ্যতে এর পরিনতি খুব একটা ভালো হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, সাংবাদিক নেতা জাহাঙ্গীর আলসম, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের মীর হোসেন মীরসহ বিএনপি-জামায়াতপন্থি সাংবাদিক নেতারা।
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


