বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শুধু তিস্তা নয়, ইন্দো-বাংলা ৫৪ নদীর চিরস্থায়ী সমাধান চায় ঢাকা

border_riverস্থল সীমান্ত চুক্তির পর এবার ভারতের সঙ্গে অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানি নিয়ে একটি স্থায়ী ও সমন্বিত সমাধানে আসতে চায় বাংলাদেশ। এ মুহূর্তে শুধু তিস্তা চুক্তি নিয়েই ভাবছে না বাংলাদেশ। অভিন্ন নদীগুলোর পানি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য ভারতের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকালে বাংলাদেশের প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বিষয়টি জোরালভাবে উত্থাপন করেছেন। মোদির সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনা এ বার্তাই দিয়েছেন যে, অভিন্ন নদীগুলোর পানির বিষয়টি যদি সমাধান হয়ে যায় তবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক যে কতটা উচ্চতায় পৌঁছবে তা কেউ চিন্তাও করতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একটি কূটনৈতিক সূত্র জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোদিকে একটি প্রতীকী নৌকা উপহার দিয়েছেন। সূত্রের দাবি, নৌকা উপহার দেয়ার উদ্দেশ্যে এই নয় যে, নৌকা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক। বরং মোদিকে এ বার্তা দেয়া যে, ঠিকমতো নৌকা চালাতে নদীগুলোতে পানির প্রবাহ দরকার।

সরকারের অন্য একটি সূত্র জানায়, নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন ইস্যুটি শেখ হাসিনা যথাযথভাবে উত্থাপন করতে পেরেছিলেন। যৌথ নদী ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এসব বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া কী ছিল জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান, মোদি বলেছেন পানি একটি মানবিক ইস্যুু। মানবিক দিক বিবেচনা করেই বিষয়টি যত দ্রুত সমাধান করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন মোদি। ওই কর্মকর্তার দাবি মোদি বাংলাদেশকে এ বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে, মানবিক কোনো বিষয় নিয়ে মোদি সরকার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না। যেটি বাংলাদেশের জন্য একটি শুভ বার্তা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরও এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে দুদেশের মধ্যে অন্তর্র্বতী যে সমঝোতা হয়েছিল সেটির দ্রুত ইতি টানতে নরেন্দ্র মোদিকে অনুরোধ করেছেন শেখ হাসিনা। পদ্মা নদীর ওপর গঙ্গা বাঁধের বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছেন শেখ হাসিনা। মোদি এও বলেন, ভারতের আন্তঃসংযোগ প্রকল্পের ফলে বাংলাদেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টিও তার সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। তিনি বলেন, টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়ে বাংলাদেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না ভারত।

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন