প্রথম দিন থেকেই ফতুল্লা টেস্টের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেছে বৃষ্টি। পুরো ম্যাচে ১৫ সেশনের মধ্যে খেলা হয়েছে মাত্র ৭ সেশন। বৈরি আবহাওয়ার কারণে আগে থেকেই অনুমাণ করা গিয়েছিল বাংলাদেশ বনাম ভারতের মধ্যকার একমাত্র টেস্টের ফল কী হবে। তবে ড্রয়ের আগে ফলোঅন লজ্জায় পড়তে হয় স্বাগতিকদের। সফরকারীদের চেয়ে ২০৬ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার নামেন তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস যথারীতি সূচনা করেন। ১৫ ওভার ব্যাটিং করে এই জুটি ২৩ রান সংগ্রহের পর ড্র মেনে নিয়েই নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে মাঠ ছেড়েছে দুই পক্ষ। আর এতে সাদা পোশাকে ১৩ তম ড্রয়ের স্বাদ পেলো টাইগাররা।
রবিবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে টেস্টের শেষ দিনে প্রথম সেশনের খেলা হয়নি। বৃষ্টির কারণে ভেস্তে যায় পুরো সেশন। মধ্যাহ্ন বিরতির পর দুপুর পৌনে একটায় মাঠে নামে দুই দল। ৩ উইকেটে ১১১ রান নিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতির পর পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। ইমরুল কায়েস (৫৯) ও সাকিব আল হাসান (০) রানে ব্যাটিং শুরু করেন।
শুরুতেই সাকিব আল হাসান ইশান্ত শর্মার বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে রানের খাতা খোলেন। পরের ওভারে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ফুললেন্থ ডেলিভারিকে কভার দিয়ে আরেকটি বাউন্ডারি হাঁকান টেস্টর সেরা অলরাউন্ডার। কিন্তু দুই বল পরই স্বাগতিক দর্শকদের হতাশ করেন তিনি। অশ্বিনের শর্ট বলে কাট করতে গিয়ে ঋদ্ধিমান সাহার গ্লাভসবন্দি হন সাকিব। ৯ রানেই শেষ সাকিবের ইনিংস।
এরপর সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েস ভারতীয় বোলারদেরকে বেশ দাপটের সঙ্গে খেলতে থাকেন। দ্রুত রান তোলায় ব্যস্ত ছিলেন এই দুই বাঁহাতি। সৌম্য ছিলেন তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক। দ্রুত ৫১ রান যোগ করেন তারা। এরপরই বিপত্তি টেনে আনেন ইমরুল। হরভজন সিংয়ের বলে স্ট্যাম্পিং হন ৭২ রান করা ইমরুল।
চার বলের ব্যবধানে বরুণ অ্যারনের বলে বোল্ড হন সৌম্য (৩৭)। উইকেটের অনেক বাইরের বল ড্রাইভ করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় বল লেগে সোজা সৌম্যর স্ট্যাম্পে আঘাত করে। ৫৪ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৩৭ রান আসে সৌম্যর ব্যাট থেকে। পঞ্চম উইকেটে সৌম্য-ইমরুল ৫১ রানের জুটি গড়েন।
দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে ফেলার পর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অভিষিক্ত লিটন কুমার দাস ও শুভাগত হোম। সপ্তম উইকেটে ৪৩ রান যোগ করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। যাতে শুভাগত হোম যোগ করেন মাত্র ৯ রান। কেন শুভাগতকে টেস্ট দলে নেওয়া হয়েছে- এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে নির্বাচকদের। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে নিজেকে প্রমাণের সেই সুযোগটিও নষ্ট করেছেন শুভাগত। বোলিংয়ে ১৪ ওভারে উইকেটশূন্য থাকার পর তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৯ রান! অশ্বিনের বলে লেগসিøপে রোহিত শর্মার হাতে ধরা পড়েন তিনি।
শুভাগতের বিদায়ের পরও লড়ে যান লিটন। কিন্তু নিজের ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারেননি উইকেটরক্ষক এই ব্যাটসম্যান। ৪৫ বলে ৪৪ রান করে অশ্বিনের পঞ্চম শিকারে পরিণত হন লিটন। অনেকটা শুভাগতের মতই আউট হন তিনি। অশ্বিনের বলে লেগসিøপে রোহিতের হাতে ধরা পড়েন তিনিও। এরপর আর পেরে ওঠেনি বাংলাদেশ। মোহাম্মদ শহীদ, তাইজুল ইসলামরা একে একে নিজেদের উইকেট বিলিয়ে এসেছেন। শহীদ ৬ ও জুবায়ের শূন্য রানে আউট হন। ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন তাইজুল।
বল হাতে অশ্বিন একাই নেন ৫ উইকেট। ৮৮ আন্তর্জাতিক ম্যাচ পর জাতীয় দলে ফিরে আসা হরভজন সিং নেন ৩ উইকেট। ১টি উইকেট নেন বরুণ অ্যারন।
এর আগে শুক্রবার তৃতীয় দিন শেষে ৬ উইকেটে ৪৬২ রান করেছিল সফরকারীরা। শনিবার চতুর্থ দিনে আর ব্যাটিংয়ে না নেমে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ১৭৩ রান করেন শিখর ধাওয়ান। ১৯৫ বলে ২৩ বাউন্ডারিতে ইনিংসটি সাজান এই বাঁহাতি ওপেনার।
আরেক ওপেনার মুরলি বিজয় করেন ১৫০ রান। এটি ছিল তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরির ইনিংস। ২৭২ বলে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ১৫০ রানের ইনিংসটি গড়েন বিজয়। এ ছাড়া মাত্র ২ রানের জন্য ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হন অজিঙ্কা রাহানে। ৯৮ রানে সাকিবের শিকার হন তিনি। বল হাতে বাংলাদেশের সেরা বোলার সাকিব আল হাসান। ৪ উইকেট নেন তিনি। এ ছাড়া লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখন নেন ২ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত : প্রথম ইনিংস, ৪৬২/৬ ডিক্লেয়ার, ওভার ১০৩.৩ (ধাওয়ান ১৭৩, বিজয় ১৫০, রাহানে ৯৮; সাকিব ৪/১০৫, জুবায়ের ২/১১৩)
বাংলাদেশ : প্রথম ইনিংস, ২৫৬/১০, ওভার ৬৫.৫ (ইমরুল ৭২, লিটন ৪৪, সৌম্য ৩৭; অশ্বিন ৫/৮৭, হরভজন ৩/৬৪) দ্বিতীয় ইনিংস, ২৩/০, ওভার ১৫ (তামিম ১৬, ইমরুল ৭)
ফল : ম্যাচ ড্র
ক্রীড়া প্রতিবেদক, ফতুল্লা থেকে
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


