সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জুন বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ১৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার নিমুরিয়া ডুবারপাড় এলাকায় ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল সড়কে পিক-আপ ভ্যানের সঙ্গে সিএনজি চালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন মন্টু মিয়া (৩০), তোফা মিয়া (৭৫), আবুল কাশেম (৭০), মো. ইকবাল (৪০), আবদুস সালাম (৩২), জয়নাল আবেদিন (৬০) ও মোছা. নবীরন (৪৮)। তাঁরা সবাই অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, আজ দুপুর ১২টার দিকে মুক্তাগাছার কালীবাড়ি থেকে মামলার হাজিরা দিতে সাতজন সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে ময়মনসিংহের আদালতে যাচ্ছিলেন। অটোরিকশাটি নিমুরিয়া ডুবারপাড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই জয়নাল আবেদিন, মন্টু মিয়া ও আবদুস সালাম নিহত হন। অন্যদের গুরুতর আহত অবস্থায় মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মারা যান তোফা মিয়া ও আবুল কাশেম। এ ছাড়া বেলা তিনটার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মো. ইকবাল ও মোছা. নবীরণ।
মুক্তাগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আমীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। পিক-আপ ভ্যানটি আটক করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে একটি ট্রাকের সঙ্গে প্রাইভেট কারের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আজ ভোর পাঁচটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানা গেছে। তিনি হলেন, প্রাইভেট কারের চালক শাহ আলম। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি। নিহতেরা সবাই প্রাইভেট কারের যাত্রী। তাঁদের মধ্যে দুজন নারী রয়েছেন। শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবিরের ভাষ্য, ট্রাকটি সিলেট থেকে ঢাকার দিকে আসছিল। আর প্রাইভেট কারটি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। দেবপাড়ায় ট্রাকের সঙ্গে প্রাইভেট কারের সংঘর্ষ হয়। নিহতদের লাশ শেরপুর হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। চালক ট্রাক নিয়ে পালিয়ে গেছে।
গাইবান্ধা: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাশেমবাজার এলাকায় গাইবান্ধা-নলডাঙ্গা-বামনডাঙ্গা সড়কে ট্রাকের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন মতিয়ার রহমান (৫২) ও তাঁর স্ত্রী আসমা বেগম (৩৫)। তাঁরা দুজন স্বামী-স্ত্রী। দুজনই মোটরসাইকেলের আরোহী ছিলেন। তাঁদের বাড়ি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার কুরারপাড়া গ্রামে।
বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক আবদুল করিমের ভাষ্য, মতিয়ার রহমান তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে মোটরসাইকেল যোগে গাইবান্ধা যাচ্ছিলেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে কাশেমবাজার এলাকায় পৌঁছালে গাইবান্ধা থেকে ছেড়ে আসা রংপুরগামী একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশে সিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মতিয়ার রহমান ও তাঁর স্ত্রী মারা যান। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে বামনডাঙ্গা তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়। মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাতিরহাট তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ট্রাকটি আটক করে। সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


