রহস্য এবং ধোঁয়াশাতেই রয়েছে রবিনসন স্ট্রিট কাণ্ড। এরইমধ্যে সোমবার বেশ কয়েকটি সম্ভাবনা সম্পর্কে মোটামুটি ভাবে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। যেমন, পার্থ দে-র দিদি দেবযানী দেবীর মৃত্যু উপবাসের কারণেই হয়েছে। এমনকী, তাঁর মৃত্যু যে ডিসেম্বরেই হয়েছে সে ব্যাপারেও এ দিন মোটামুটি নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা।
কিন্তু, কী ভাবে? গোয়েন্দাদের দাবি, দেবযানী দেবীর লেখা যে সমস্ত চিরকূট পাওয়া গিয়েছে তা থেকেই এটা অনুমান করা হচ্ছে। কেননা, তারিখ অনুযায়ী লেখা ওই সব চিরকূট ডিসেম্বরের পর আর লেখা হয়নি। এরই পাশাপাশি এ দিন পার্থবাবুকে পাভলভ হাসপাতাল থেকে ইন্সটিটিউট অব সাইকিয়াট্রিতে স্থানান্তরিত করার নির্দেশ দিল আদালত। এর আগে কলকাতা পুলিশের তরফে ব্যাঙ্কশাল আদালতে এই মর্মে আবেদন জানান হয়।
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, গোটা ঘটনা নিয়ে পার্থবাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এ দিন, রবিনসন স্ট্রিটের দে বাড়িতে দমকল এবং ফরেন্সিক দফতরের কর্মীরা যান। নতুন করে করা কিছু পরীক্ষার পর তাঁরা সেখানে কোনও রক্তের অস্তিত্ব পাননি। গোয়েন্দারা সেই সূত্রে মোটামুটি নিশ্চিত, অরবিন্দবাবু আত্মহত্যাই করেছিলেন। তবে, সম্পূর্ণ ভাবে নিশ্চিত হতে পার্থবাবুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।
গত ১০ জুন বুধবার রাতে রবিনসন স্ট্রিটের একটি ফ্ল্যাটের জানালা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। দমকলকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে শৌচাগারের বাথটব থেকে অরবিন্দ দে (৭৭) নামে এক বৃদ্ধের মৃতদেহ উদ্ধার করে। অরবিন্দ পেশায় প্রকৌশলী ছিলেন। সন্দেহ হওয়ায় অরবিন্দর ছেলেকে পার্থকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী ওই ফ্ল্যাট থেকেই কাপড় জড়ানো অবস্থায় তিনটি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই বেড়িয়ে পড়তে থাকে ভয়ঙ্কর সব কাহিনী।
পার্থ জানায়, কঙ্কাল তিনটি তার বড় বোন দেবযানী দে (৪৭) এবং বাড়ির দুই পোষ্য কুকুরের। কুকুরগুলো গত বছরের অগাস্টে মারা যায়। তারপর থেকেই খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন পেশায় গানের শিক্ষিকা দেবযানী। ৬ মাস আগে অপুষ্টিজনিত কারণে মারা যান দেবযানী। তার কঙ্কালটি শোয়ানো ছিল খাটের উপরে।
তবে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া না করে মেয়ের মৃতদেহের সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটেই বসবাস করছিলেন বাবা অরবিন্দ ও ভাই পার্থ। রোজ রাতে বোনের মৃতদেহকে ‘খাওয়াতেন’ পার্থ। এমনকি বোনের আত্মা তাদের সঙ্গেই রয়েছে এমন আবহ সৃষ্টি করার জন্য বাড়িজুড়ে লাগানো হয়েছে সাউন্ড সিস্টেম। সেখান থেকেই নানা ধরনের ‘ভৌতিক’ আওয়াজ শোনা যেতো।
পুলিশ আরো জানায়, খাটে দেবযানীর কঙ্কালের পাশেই শুয়ে থাকতেন পার্থও। তিনি কাজ করতেন একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায়। বেশ কিছু দিন ধরে তিনি আর অফিসে যেতেন না। বাড়িতেই থাকতেন।
জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ জানিয়েছেন, বোন যে মারা গেছে সে বিষয়টি তিনি মানেন না। সেই কারণেই বোনের মৃত্যুর পর দেহটি কাপড় দিয়ে জড়িয়ে খাটে শুইয়ে রেখেছিলেন। তাকে রোজ খাবারও দিতেন। আসলে পার্থ যৌনতার চক্রে আষ্টেপৃষ্টে বাধা পড়েছিল।
কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


