নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়া-না হওয়া বিষয়ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর ঐতিহাসিক হয়ে যাওয়া উক্তি নিয়ে খোদ মন্ত্রীসভাতেও সমালোচনা হয়েছে। কারণ, তিনি যা বলেছেন তা টেলিভিশনগুলো ‘বাইট’ হিসেবেই প্রচার করেছে। সেখানে ওই ঘটনার বারোদিন পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে যেভাবে সাংবাদিককে রাজনৈতিক রং দিয়ে নিজের অপদার্থতাকে ঢাকার চেষ্টা করলেন- তাতে ৫ জুন সেখানে থাকা সাংবাদিকরা তো বটেই পুরো গণমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যাখ্যা নিয়ে নতুন করে আর কোনো বিতর্ক কেউ করতে চায় না। কিন্তু তিনি তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেছেন, “বিএনপিপন্থী এক সাংবাদিকের প্রশ্নে…”। সেদিন যিনি প্রশ্ন করেছিলেন- তার নাম মাহফুজ মিশু। এখন আছেন যমুনা টিভিতে। মিশুকে যারা চেনেন তারা জানেন ছাত্রজীবন থেকেই তিনি আওয়ামী ঘরানার মানুষ। ফেসবুকে তার স্টাটাসগুলোও বরাবরই আওয়ামী লীগকে রক্ষা করেই দেওয়া হয়। সেই মিশুকে সরাসরি এভাবে “বিএনপিপন্থী” হিসেবে আখ্যায়িত করা নিয়ে তো প্রশ্ন আছেই; উপরন্তু সংসদের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে এভাবে কাউকে “পন্থী” আখ্যায়িত করা মন্ত্রীর জন্য কতটুকু যৌক্তিক, কারণ সংসদে তো ভুক্তভোগী মিশুর বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নেই!
মোদি-খালেদা বৈঠক নিয়ে মাহমুদ আলীর ঐতিহাসিক বক্তব্য- কতটুকু অসার ছিল তা সেদিন বিকেলই ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের বক্তব্য থেকে পাওয়া যায়। কিন্তু তার সেই গোয়ার্তুমি মার্কা আচরণ আবার করলেন ১৬ জুন রাতে। তিনি সংসদে নিজের সাফাই গাইতে গিয়ে একজন সাংবাদিককে ‘পন্থী’ হিসেবে উল্লেখ করলেন। মাহমুদ আলীর এই বক্তব্যর পর ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য করেছেন অনেকেই। যদিও ‘মন্তব্য করে আবার না জানি কি হয়’ সেই ভয়েও অনেকে রাখঢাক করে কথা বলেছেন।
মিশুকে ‘বিএনপিপন্থী’ বলা নিয়ে ফেসবুকে নাতিদীর্ঘ একটি বক্তব্য দিয়েছেন ইন্ডিপেন্ডন্ট পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া। তিনি ১৭ জুন সকালে তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “…তর্কের খাতিরে ধরে নিলাম তিনি ভুল করেছেন। কোনো সাংবাদিক ভুল করলে তো তার প্রতিকার আছে। তা না করে সংসদে দাঁড়িয়ে একজন সাংবাদিককে বিএনপিপন্থী বা বিজেপিপন্থী ডাকার অধিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কে দিলেন! মিশু কি পন্থী এটা যারা ওকে চেনেন তারা ভালোভাবেই জানেন। মন্ত্রীর কাছে কি কোনো দালিলিক প্রমাণ আছে যে মিশু বিএনপিপন্থী? প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকরা যান সাংবাদিক হিসেবে, কোনো পন্থী হিসাবে না। আর, উনি যদি জেনেই থাকেন যে প্রশ্নকারী সাংবাদিক বিএনপিপন্থী তাহলে তো উনার আরও সাবধান হওয়ার কথা ছিলো উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে।”
হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া লেখেন, “মন্ত্রী মহোদয় একটা ভুল করেছেন যেটা তিনি মানতে চাইছেন না। আর একটা ব্যাপার। প্রশ্নটা হয়েছে পাঁচ তারিখে, কিন্তু উনি বক্তব্য দিলেন ১৬ জুন। তিনি তো বিষয়টা ওইদিন বা পরেরদিনই পরিষ্কার করতে পারতেন। আসলে, খালেদা জিয়ার অভিযোগ পত্রিকায় আসার পরেই তার টনক নড়েছে। দলের চাপতো আছেই।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে হুমায়ূন কবীর ভূঁইয়া বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষক এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সাহসী ভূমিকা পালন করা একজন কূটনীতিক হিসেবে আমি আপনাকে অনেক শ্রদ্ধা করি। আশা করছি, আপনি আমার কাছে আরও শ্রদ্ধাভাজন হবেন আমার সহকর্মী বিষয়ক নেতিবাচক বক্তব্যটা প্রত্যাহার করে। আর, সেসঙ্গে অনুরোধ করবো কোনো সাংবাদিক যদি দলীয় কর্মীর মতো আচরণ না করেন তা হলে তাকে কোনো দলের লেবেল দেবেন না। কোনো সাংবাদিক যদি মনে মনে কোনো দল সমর্থন করেন, সেটাতো দোষের হতে পারে না যতক্ষণ না তার কাজে এটার প্রভাব পড়ে।”
এদিকে কবীর ভূঁইয়ার এই স্ট্যাটাসে অনেকেই তাদের নিজস্ব মতামত দিয়েছেন।
সাংবাদিক উম্মুল ওয়ারা সুইটি লিখেছেন, “আপনার লেখাটি যদি মন্ত্রি পড়তো ভালো হতো, তাকে এরপর প্রশ্ন করতে হবে একটি তালিকা দিন, কে কোনপন্থী সাংবাদিক!”
মোরশেদ হাসিব লিখেছেন, “নতুন সব পরিচয় মিলছে মানুষজনের। মজার সীমা পরিসীমা সব লাটে উঠছে।”
মাহবুব শরীফ লিখেছেন, “সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে এ ধরনের মন্তব্য দল নিরপেক্ষ সাংবাদিকদের দলপন্থী হওয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে না কি?”
মিডিয়া ডেস্ক
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


