বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বর্ষা: পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে ডামাডোল, দক্ষিণে হাহাকার

Rain-North-Bengalবর্ষার প্রশ্নে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি এখন যেন একেবারে বিপরীত। কলকাতা সমেত দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বর্ষা আসব আসব করেও কোথাও যেন দাঁড়িয়ে থাকছে, ঠিক তখন সে হাত খুলে ব্যাট চালাতে শুরু করে দিয়েছে উত্তরবঙ্গে, বিশেষ করে সেখানকার ৪ জেলা – কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও দার্জিলিঙে। উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় তো বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়ে গেছে।

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, জুন মাসে এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হলে কোচবিহার জেলায় তা হওয়ার কথা ৩৮৪ মিলিমিটার । কিন্তু, হিসেব বলছে, সেখানে ইতিমধ্যেই ৪৩০.১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়ে গেছে । অর্থাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ বেশি । দার্জিলিং জেলায় জুন মাসের এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ যেখানে হওয়া উচিত ২৭২.৪ মিলিমিটার, সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ৩০৭.৬ মিলিমিটার। অর্থাৎ ১৩ শতাংশ বেশি। আর এই ২ জেলাকে ছাপিয়ে গেছে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলা । এই ২ জেলায় যেখানে এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে ৩৭০.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়া উচিত ছিল, সেখানে হয়েছে ৫৭৫.৬ মিলিমিটার। অর্থাৎ ৫৫ শতাংশ বেশি ।

অথচ, দক্ষিণবঙ্গের চিত্র, বিশেষ করে কলকাতার পরিস্থিতি একেবারেই উলটো । আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কলকাতায় স্বাভাবিকভাবে যেখানে ১৫৬.৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়া উচিত ছিল, সেখানে হয়েছে মাত্র ৫৯.৯ মিলিমিটার । কম-বেশি প্রায় একই অবস্থা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতেও। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে এই মরশুমে এখনও পর্যন্ত ৩৩ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে ।

কিন্তু কেন ?
আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমী বায়ুর গতি কম থাকাই মূলত এই ঘটনার জন্য দায়ি। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের আধিকারিক গণেশকুমার দাসের কথায়, “কলকাতা সমেত দক্ষিণবঙ্গের বেশিরভাগ জেলাতেই এখনও বর্ষা পৌঁছয়নি। কিন্তু, উত্তরবঙ্গের ৪ জেলায় বেশ কয়েকদিন হল বর্ষা ঢুকে গেছে। আর তার জেরেই সেখানে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হচ্ছে।”

কেন বর্ষার এই খামখেয়ালিপনা ?
আবহাওয়াবিদরা এর জন্য প্রধান কয়েকটি কারণকে দায়ি করেছেন। এক, কিছুদিন আগে আরবসাগরে সৃষ্ট ঘৃর্ণিঝড় আশোবা দক্ষিণবঙ্গের দিকে ধাবমান মৌসুমি বায়ুর গতিরোধ করে। ফলে বর্ষা আসার গতিও ব্যাহত হয়। দুই, এল নিনোর প্রভাব মৌসুমি বায়ুর ওপর পড়ায় বর্ষার গতি রুদ্ধ হয়েছে। তিন, প্রকৃতিগত দিক দিয়ে উত্তরবঙ্গের ব্যাপ্তিকেও খানিকটা কারণ হিসেবে ধরছেন আবহাওয়াবিদরা। অর্থাৎ প্রকৃতি উত্তরবঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় অনেকটাই দরাজ। বনাঞ্চলের পরিমাণও বেশি। তাই সেখানে বৃষ্টি বেশি হওয়ার সম্ভাবনা একটা থেকেই যাচ্ছে।

আশার কথা
এবারের বর্ষায় গোটা দেশেই যে বৃষ্টি খানিকটা কম হবে তা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে কেন্দ্র। যদিও জুনে বৃষ্টি ঠিকঠাক হবে বলে জানানো হয়েছে আজই। কিন্তু, মরসুমের শুরুতেই কলকাতা সমেত দক্ষিণবঙ্গে এই বৃষ্টির ঘাটতির কারণ হিসেবে সেই বর্ষা না আসার কারণকেই তুলে ধরা হয়েছে। বর্ষা একবার পুরোদমে ঢুকে পড়লে কলকাতা সমেত গোটা দক্ষিণবঙ্গও যে ক্রিজ়ে বেশ চালিয়েই খেলবে সে বিষয়ে আশাপ্রকাশ করা হয়েছে আবহাওয়া দপ্তরের তরফে।

কলকাতা ব্যুরো
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন