বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মন্ত্রী এমপি বড় নেতাদের মধ্যমেয়াদী আমলনামা শেখ হাসিনার কাছে

al_Newsworldbdআওয়ামী লীগের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের এই সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং এমপি ও দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাজের মূল্যায়ণের একটি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছেছে। সরকারি একাধিক সংস্থা এবং বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে মূলত একটি সার সংক্ষেপ প্রতিবেদন এটি। এতে আসলে বিতর্ক সৃষ্টিকারী মন্ত্রী, উপদেষ্টা, এমপি ও কয়েকজন দলীয় নেতার ব্যাপারে বিরূপ প্রতিবেদন রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, আগামী ২০১৯ সাল পর্যন্ত সঠিকভাবে সরকার পরিচালনার জন্য বিতর্ক সৃষ্টিকারীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী কঠোর মনোভাব দেখানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। সরকার ও দলকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দলে প্রয়োজনীয় শুদ্ধি অভিযান চালাতে পারেন। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে হাজির করা আমলনামায় অন্তত সাতজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও প্রায় ১৩-১৪ জন এমপির নাম রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। রয়েছেন অদক্ষ একাধিক উপদেষ্টা।

একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অন্য কর্মকর্তাদের ব্যাপারেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুসন্ধানী চোখে দুর্নীতি কিংবা কর্তব্যে অবহেলা পেলেই তার বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা। এ তালিকায় আরও কর্মকর্তা রয়েছেন। ইতিমধ্যে কাজের গাফিলতির কারণে খোদ প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব এ কে এম শামীম চৌধুরীকেও অপসারণ করা হয়েছে। সেখানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সাংবাদিক ইহসানুল করিমকে। শেখ হাসিনার আগের মেয়াদে কখনোই কোনো প্রেসসচিবকে মেয়াদ শেষের আগে অপসারণ করা হয়নি।

সূত্রমতে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের শীর্ষনেতাদের ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী ও টেন্ডারবাজির অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে দলের কোনো প্রভাবশালী নেতা কাউকে প্রশ্রয় দিলে সে ব্যাপারেও খোঁজ নেওয়া হবে। শেখ হাসিনা কোনোভাবেই বিতর্কিত কোনো নেতাকে দলে প্রশ্রয় দেবেন না আইনের শাসনের প্রশ্নে।

গত বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই উন্নয়ন পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দৃঢ় অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। উন্নয়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কঠোর হন শেখ হাসিনা। এরই ধারাবাহিকতায় গত মেয়াদে যারা বিতর্কিত ছিলেন তাদের বেশির ভাগই বাদ পড়ে যান। নতুন-পুরনো ও সম্ভাবনাময় নেতৃত্ব নিয়ে গঠন করা হয় চলতি মেয়াদের মন্ত্রিসভা। এখনো অনেকে আছেন নেতিবাচক তালিকায়।

আওয়ামী লীগ সূত্রের খবর, গত দেড় বছরেই সরকারি নিয়োগ, অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডারবাজিসহ কম-বেশি কোনো না কোনো দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন অভিযুক্তদের কেউ কেউ। অতিকথনের কারণে সমালোচিত হয়েছেন অনেকে। একটি সূত্র বলছে, এসব তথ্য বিচার-বিশ্লেষণ করে কাউকে সতর্ক করা হবে, কাউকে দেওয়া হবে বাদ। তারপরও শুদ্ধি না হলে সরকারের হাইকমান্ড যে কারও বিরুদ্ধে নিতে পারে কঠোর ব্যবস্থা। সরকারের মূল লক্ষ্যই হবে উন্নয়নের স্বার্থে ক্ষমতার মেয়াদ পূরণ করা।

সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কাউকেই ছাড় দিতে রাজি নন। ক্ষমতায় এসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে রদবদল করেছেন শেখ হাসিনাও একই কৌশলে রয়েছেন। অনিয়মে জড়িত এবং অদক্ষরা বাদ পড়বেন। যুক্ত হবেন নতুনরা।

মহাজোট সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছিলেন মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। কিন্তু অতিকথনের দায়ে ইতিমধ্যে দায়িত্ব হারিয়েছেন তিনি। পবিত্র হজ নিয়ে কটূক্তি করে মন্ত্রিসভা থেকে ছিটকে পড়েন এই হেভিওয়েট নেতা। নিউইয়র্কে মন্তব্য করে দেশে না ফিরে বেশ কিছু দিন ভারতে পালিয়ে বেড়ান তিনি। পরে ফেরামাত্রই তাকে গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানো হয়। শুধু মন্ত্রিত্ব নয়, দল থেকেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা। দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও প্রাথমিক সদস্য পদ হারান তিনি।

গত সপ্তাহের ১৪ জুন দুর্নীতির মামলায় ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াকে খালাস দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের এ আদেশের ফলে এখন তার সাজা বহাল রয়েছে এবং এটি এখন হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন বলে মত দেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, পুনরায় আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ যে রায় দেবেন, সেটাই এখন প্রযোজ্য হবে তার ক্ষেত্রে। বর্তমানে তার ক্ষেত্রে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশও বহাল রয়েছে বলে জানা গেছে।

দুর্নীতির মামলায় ছাড় পাননি আওয়ামী লীগ দলীয় এমপিরা। এরই মধ্যে কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির দুর্নীতির মামলা তদন্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) গোয়েন্দা শাখাকে চিঠি দিয়েছে দুদক। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন। একইভাবে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী সৈয়দা হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধেও মামলা করেছে দুদক। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলাটি এখনো চলছে। একইভাবে সারা দেশে সরকারদলীয় সব এমপি ও নেতাকে পর্যবেক্ষণে রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন