প্রথমটি জেতায় বাংলাদেশের সামনে এখন সিরিজ জয়ের হাতছানি এবং ভারতের সিরিজে ফেরার। এমন সমীকরণের ম্যাচ আবার মাশরাফিদের ইতিহাস গড়ারও। যদি আজ রবিবার ২১ জুন প্রজাপতির ডানায় ভেসে বেড়ান, উচ্ছ্বাস-উৎসবে মেতে উঠেন মাশরাফিরা, তাহলে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এ হবে এক অনন্য প্রাপ্তি। তিন তিনটি বিশ্বচ্যাম্পিয়নকে ওয়ানডে সিরিজ হারানোর বিরল স্বাদ নিবেন মাশরাফিরা।
২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর পর এই এপ্রিলে পাকিস্তানকে হোয়াইওয়াট ওয়াশের তিক্ত স্বাদ দিয়েছে বাংলাদেশ। এখন সেই লাইনে ভারত!
প্রথম ওয়ানডে জিতে অনেক নির্ভার মাশরাফিরা। শুক্রবার অনুশীলন ছিল না। ছিল ছুটির দিন। অধিকাংশ ক্রিকেটারই পরিবার পরিজনের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। অলস সময় কাটিয়ে ক্রিকেটাররা দলের সঙ্গে যোগ দেন কাল সকালে।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে ছয় ম্যাচে জয় দরকার দুটি। সেই পরিসংখ্যানের একটি হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মাশরাফিদের উপর চাপ কম। তার চেয়েও বেশি নির্ভার প্রতিশোধের ম্যাচ জিতে।
গত মার্চে ‘হার্ট অব ক্রিকেট’ মেলবোর্নে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনাল হেরেছিল বাংলাদেশ। দেশের অগুনতি ক্রিকেটপ্রেমীর বিশ্বাস, ওই ম্যাচ ভারত জিতেছিল আইসিসির পরোক্ষ এবং আম্পায়ারের প্রত্যক্ষ সহায়তায়।
ক্রিকেট মহাযজ্ঞের ওই ম্যাচের পর দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্কও শীতল হয়ে পড়েছিল। তবে সেটা এখন অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ এবং আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।
প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক মাঠের বাইরে যতটা বন্ধুত্বপূর্ণ, ঠিক ততটাই উল্টো ডাগ আউটে। অন্য যে কোনো দলের চেয়ে অনেক বেশি উত্তেজনাপূর্ণ।
২০ বছরের তরুণ মুস্তাফিজকে যেভাবে আঘাত করেন ‘মি. কুল’ মহেন্দ্র সিং ধোনি, কিংবা উইকেট নেওয়ার পর যেভাবে শূন্যে লাফিয়ে বুকে বুক মেলান মাশরাফি-তাসকিন, তাতেই পরিষ্কার মাঠের বাইরে সম্পর্ক যতই বন্ধুত্বপূর্ণ হোক না কেন, মাঠের ভিতর কিন্তু যুদ্ধোংদেহী মনোভাব বিরাজ করে! সেখানে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ।
আজ মিরপুরে কি হবে?
সিরিজ শুরুর আগে কেউ কি নিশ্চিত করে বলতে পারছিলেন ভারতকে বলে কয়ে হারাবে বাংলাদেশ?
ভারতকে ফেবারিট ধরেই জেতার কথা বলতেন হয়তো। কিন্তু প্রথম ম্যাচ জয়ের পর সবাই এখন গলা উঁচিয়ে বলছেন, আজও জিতবে বাংলাদেশ। শুধু আজ নয়, ভারতকে প্রথমবারের মতো হোয়াইটওয়াশের লজ্জায়ও ডোবাবে। পারবেন কি মাশরাফিরা?
ইতিহাস কিন্তু বাংলাদেশের পক্ষে। বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত যে ১৭টি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে, তার অধিকাংশেরই প্রথম ম্যাচ জিতেছিল। তাই ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিতে এখন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে মাশরাফিরা। সুতরাং স্বপ্ন দেখতেই পারে টাইগাররা।
অবশ্য পরিসংখ্যানের এমন হিসাবের কথা শুনে হেসেই খুন(!) কোচ চন্ডিকা হাতুরাসিংহে, ‘আপনি যদি পরিসংখ্যানের পথে হাঁটেন, তাহলে অনেক কিছুই হতে পারে। মূল কথা অন্যটি। ২১ জুন আমরা কি ভাবে আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব, তার উপরই নির্ভর করবে সাফল্য। ভারতের বিপক্ষে জিততে হলে অনেক অনেক ভালো করতে হবে। কেননা ভারত অনেক শক্তিশালী দল।
শনিবার তিন ধাপে অনুশীলন করেন মাশরাফিরা। মাশরাফিসহ দুই-তিন জন অধিকাংশ সময় কাটান জিমন্যাসিয়ামে। সেন্টার উইকেটে বোলিং অনুশীলন করেন প্রথম ম্যাচের নায়ক মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন এবং ইনডোর স্টেডিয়ামে ব্যাটিং-বোলিং করেন মুশফিক, সাকিবরা।
তিন ধাপে অনুশীলনের পরও একটি বিষয় অস্পষ্ট, আজ কোন একাদশ খেলবে? ক্রিকেটের সাধারণ নিয়মে উইনিং কম্বিনেশন ভাঙা হয় না। সে ভাবনায় প্রথম ওয়ানডের একাদশের খেলার সম্ভাবনাই বেশি। কিন্তু রুবেল হোসেন প্রথম ওয়ানডেতে ৬ ওভারে ৩৬ রান দেওয়ায়, তার পক্ষে না খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে বাঁ হাতি স্পিনার আরাফাত সানি খেললে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। কোচ হাতুরাসিংহে অবশ্য ম্যাচের দিন সকালে একাদশ সাজানোর কথা জানিয়েছেন, ‘একাদশ নিয়ে এখনো ভাবিনি। সকালে ঠিক করব কারা খেলবেন।’
ইতিহাস গড়ার হাতছানির ম্যাচ। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের হাতছানির ম্যাচ। এমনই এক ম্যাচ, যাকে ঘিরে প্রচণ্ড গরমেও পুরো দেশ ফুটছে খইয়ের মতো। এমন পরিস্থিতি যখন পুরো দেশের, তখন অজানা একটি আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে!
ক্রীড়া প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।
ষড়যন্ত্র করেই বাংলাদেশের কাছে হেরেছে ভারত: পাকিস্তানের দাবি


