পবিত্র হজ নিয়ে কটূক্তি করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে দায়েরকৃত আরো ১০ মামলায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই অভিযোগে আরো সাত মামলায় আগেই জামিন পান তিনি। মামলা বাতিলের আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে ২৩ জুন মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও বিচারপতি মো. ফরিদ আহমদ শিবলীর ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এ সময় লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যের্তিময় বড়ুয়া।
গত বছর ২৯ সেপ্টেমম্বর নিউ ইয়র্কে টাঙ্গাইল সমিতি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পবিত্র হজ ও তাবলিগ জামাত নিয়ে কটূক্তি করেন তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই সব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেশ ও দেশের বাইরে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠনগুলো সাবেক এই মন্ত্রী বিচার দাবি করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ ছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে একের পর এক মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর মহাজোট সরকার মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অপসারণ করে।
গত বছরের ২৩ নভেম্বর রাতে ভারত হয়ে দেশে ফেরেন লতিফ সিদ্দিকী। ২৫ নভেম্বর ধানমণ্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে তিনি নিম্ন আদালতে জামিন চাইলে তা নামঞ্জুর করা হয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ ধারা মোতাবেক মামলা বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন লতিফ সিদ্দিকী।
আবেদনে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৮৮ ধারা অনুযায়ী দেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধ নিজ দেশে বিচার করতে হলে মামলা দায়েরের আগে সরকারের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। এ ছাড়া সংবিধানের ৩৫(২) ধারা অনুযায়ী একই অপরাধের ঘটনায় একাধিক মামলা চলতে পারে না। এই বিবেচনায় মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে জামিন চাওয়া হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


