বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শেষ সময়ে রানের চাকা সচল টিম ইন্ডিয়ার

Dhoni-IND_BD-ODI-3 ভারত: ৩১৭/৬ (৫০ ওভার)

ঢাকায় ‘বড় হয়ে যাওয়া শিশু’ বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মান বাঁচানোর লড়াইয়ে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩১৭ রান। ইনিংসের শুরুতে উড়ন্ত সূচনা হলেও মাঝে রানের গতি কমে যায়। কয়েকবার জীবনও পান ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের শেষ পর্যায়ে এসে চার-ছক্কায় রানের গতি বেশ বাড়িয়ে দেয় টিম ইন্ডিয়া। সবমিলিয়ে ৪৮.২ ওভারে রানকে ৩০০ পার করানো হয়।

সর্বশেষ ৪৮.৩ ওভারে ব্যক্তিগত ৩৮ রানে আউট হন সুরেশ রায়না। তিনি অবশ্য দলের রানকে ৩০০ পার করে দেন।

এর আগে ধোনির আউটের সময় সুরেশ রায়না মাঠে নামেন ছিলেন। স্টুয়ার্ট বিনি মাঠে আসেন ধোনির পর।

পঞ্চম উইকেট হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনি আউট হন ৬৯ রানে। দলের রান তখন ২৬৮। মাশরাফির বলে মুস্তাফিজুর রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় হন ধোনি। ভারতের ইনিংসে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করেন।

এর আগে চতুর্থ উইকেটের পতন হয় অম্বাতি রাইডুর বিদায়ের মাধ্যমে। ৪৩.৩ ওভারে মাশরাফির বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার সময় টিম ইন্ডিয়ার রান ছিল ২৫১। অম্বাতি আউট হন নিজের ৪৪ রানে। অম্বাতির পর মাঠে নামেন সুরেশ রায়না।   এর আগে তৃতীয় উইকেট হিসেবে বিদায় নেন শেখর ধাওয়ান। ইনিংসের ২৬.৩ ওভারে মাশরাফি বিন মুর্তজা বলে শর্ট মিডউইকেটে নাসির হোসেনের চমৎকার ক্যাচে পরিণত হন শেখর ধাওয়ান (৭৫)। তখন দলের রান ছিল ১৫৮।

এর আগে বোলিংয়ে এসে নিজের প্রথম ওভারেই ভালো খেলতে থাকা বিরাট কোহলিকে আউট করেন এই মুহুর্তে বিশ্বের সেরা ওডিআই অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বিরাট কোহলি (২৫) রানে আউট হন। বিরাট কোহলি আউট হওয়ার সময় ১৯.৫ ওভারে দলের রান ছিল ১১৪।

ভারতের প্রথম উইকেটের পতন হয় ৬ষ্ঠ ওভারের শেষ বলে। মারমুখী খেলতে থাকা রোহিত শর্মাকে আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান। তখন ভারতের স্কোরবোর্ডে রান ছিল ৩৯।

টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে এদিন শুরুতেই উড়ন্ত সূচনা করেন রোহিত শর্মা। শেখর ধাওয়ান কার সঙ্গী ছিলেন। প্রথম উইকেট জুটিতে ওঠে ৩৯ রান। রোহিতের আউটের পর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি রানের চাকা দ্রুত ঘোরাতে থাকেন। কোহলি ও ধাওয়ানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ৭৫ রান যোগ করে। এরপর ধাওয়ান আউট হলে রানের গতি কিছুটা কমে আসে। উইকেটে আসেন ধোনি। ধোনি ও ধাওয়ানের তৃতীয় উইকেট জুটি ৪৪ রান যুক্ত করে।

ঢাকায় ওডিআই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে দলীয় সপ্তম ওভারেই আঘাত হেনে ভারতের প্রথম উইকেটের পতন ঘটান বাংলাদেশ দলের নয়া সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। রোহিত শর্মাকে ২৯ রানে সাজঘরে ফেরান তিনি। এটি সিরিজে তার ১২তম উইকেট।

রোহিতের আউট হওয়ার সময় টিম ইন্ডিয়ার সংগ্রহ ৭ ওভার শেষে ৩৯/১। এরপর কোহলি এসে হাল ধরেন দলের। অপর প্রান্তে আগে থেকেই ছিলেন শেখর ধাওয়ান।

২৪ জুন ভারত ও বাংলাদেশের ওডিআই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে যায় ভারত। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃষ্টির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে বেলা তিনটায় শুরু হয়।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা যেন উইকেট এবং বোলারদের বল বোঝার কাজেই ব্যায় করতে চাইছিলেন দুই ওপেনার রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ান। ব্যাট করছিলেন বেশ সাবধানী। বাংলাদেশের দুই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান এবং মাশরাফি বিন মর্তুজাকে দেখে শুনেই খেলছিলেন তারা দু’জন। একই সঙ্গে মনযোগি হওয়ার চেষ্টা করছিলেন দ্রুত রান তোলার দিকেও। কিন্তু সপ্তম ওভারের শেষ বলে এসেই ঘটলো ছদ্মপতন।

প্রথম দুই ম্যাচের মত তৃতীয় ম্যাচে এসেও মুস্তাফিজুরের অফ কাটারে ধরা পড়লেন রোহিত শর্মা। প্রথম দুই ম্যাচে ভালো করতে না পারায় তৃতীয় ওয়ানডেতে এসে বেশ মারমুখি ভুমিকায় খেলার চেষ্টা করেন রোহিত। ২৯ বলে খেলে ফেলেন ২৯ রানের ইনিংস। দুটি বাউন্ডারি আর একটি ছক্কাও মেরে ফেলেন তিনি।

কিন্তু সপ্তম ওভারের শেষ বলে এসেই সেই অফ কার্টার। বুঝতেই পারলেন না রোহিত। জায়গায় দাঁড়িয়ে ভাবলেন সজোরে হিট করবেন। কিন্তু কাটার লাগলো তার ব্যাটের কানায়। জমা পড়লো উইকেটের পেছনে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। ৩৯ রানে পড়লো প্রথম উইকেট। সিরিজের তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই মুস্তাফিজের অফকাটারে কাটা পড়লেন ভারতীয় ওপেনার এই ওপেনার।

রোহিত আউট হয়ে গেলেও উইকেটে সেট হয়ে বসে যাচ্ছিলেন বিরাট কোহলি আর শিখর ধাওয়ান। মাশরাফি একের পর এক বোলার ব্যবহার করেও সাফল্য পাচ্ছিলেন না। সর্বশেষ ষষ্ঠ বোলার হিসেবে ইনিংসের ২০তম ওভারে সাকিবকে আক্রমণে আনেন মাশরাফি। ওভারের ৫ম বলেই সাকিবের ঘূর্ণিতে কুপোকাত হন কোহলি। সাকিবকে তিনি চেয়েছিলেন স্লগ সুইপ করতে। কিন্তু বলের ফ্লাইটই বুঝতে পারেননি। হয়ে গেলেন সরাসরি বোল্ড।

ধাওয়ানের সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। ৩৫ বলে আউট হন ২৫ রান করে। বাউন্ডারির মার ছিল মাত্র একটি। রোহিত শর্মার মত পুরো সিরিজেই যারপরনাই ব্যর্থতার পরিচয় দিলেন বিরাট কোহলি।

এরই মধ্যে অবশ্য ক্যারিয়ারে ১৪তম হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে ফেলেছেন শিখর ধাওয়ান। শুধু তাই নয়, ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর ঝেঁকে বসতে শুরু করেন তিনি। ৭৩ বলে করে ফেলেন ৭৫ রান। বাউন্ডারি মারেন ১০টি। শেষ পর্যন্ত নাসির হোসেনের এক অসাধারণ ক্যাচে ফিরলেন শিখর ধাওয়ান।

বোলার মাশরাফি বিন মর্তুজা। ধাওয়ানকে তিনি দিয়েছিলেন স্লোয়ার অফকাটার। বলটা ছিল খেলার মতই। উইকেটের মাঝে পিচ করে। ধাওয়ান যে দিকে ইচ্ছা খেলতে পারতেন। তিনি বেছে নিলেন মিড উইকেট অঞ্চলকে। চেয়েছিলেন ফিল্ডারের ওপর দিতে বল পাঠিয়ে দিতে। কিন্তু নাসির তো আর শুধু শুধু ফিল্ডার নন। অসাধারণ ফিল্ডার। ক্রিকইনফো তাদের কমেন্ট্রিতে লিখেছে, ‘ ‘হুসাইন ইজ জাস্ট নট অ্যা ম্যান। হি ইজ অ্যা প্লেন, হি ইজ অ্যা বার্ড। হি ইজ এ ফক্স হু হ্যাজ বিকাম এ টাইগার। হি ইজ সুপার ম্যান। হি টেকস দ্য ক্যাচ এট শর্ট মিড উইকেট।’

এদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন হয়েছে। চোটের কারণে দলে নেই পেসার তাসকিন আহমেদ, তার জায়গায় একাদশে ফিরেছেন বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি।

ভারত দলে দুটি পরিবর্তন এসেছে। বাদ পড়েছেন রবিন্দ্র জাদেজা ও ভুবনেশ্বর কুমার। দলে ফিরেছেন স্টুয়ার্ট বিনি ও উমেশ যাদব।

সফরকারী ভারতের বিপক্ষে এরই মধ্যে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-০ তে এগিয়ে থেকে সিরিজ জয় করেছে বাংলাদেশ। এর আগে বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাওয়াশ হয়েছে জিম্বাবুয়ে ও পাকিস্তান। সিরিজে ভারতের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের নতুন সেনশেসন বোলার মুস্তাফিজ রহমান। তার বোলিংয়ের সামনেই গত দুই ম্যাচে কুপোকাত হয়েছে ভারত। প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে তিনি নিয়েছেন ৬ উইকেট।

বাংলাদেশ: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটল দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, আরাফাত সানি, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজ রহমান।

ভারত: মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, শেখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, আম্বাতি রাইডু, সুরেশ রায়না, স্টুয়ার্ট বিনি, অক্ষর প্যাটেল, অশ্বিন, কুলকারনি ও উমেশ যাদব।

ক্রীড়া প্রতিবেদক, মিরপুর থেকে
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন