লন্ডনে নির্বাসিত বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের পাসপোর্ট মেয়াদ শেষের আগেই লন্ডন থেকে নবায়ন করা এবং তার নামে এর আগে কিভাবে চারটি পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছিল তার ব্যাখ্যা চেয়েছে হাই কোর্ট। মঙ্গলবার ২৩ জুন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের বেঞ্চ নতুন করে দুই বিষয়ের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন।
মেয়াদ শেষের আগেই তারেক রহমানের পাসপোর্ট লন্ডন থেকে কীভাবে নবায়ন করা হয়েছিল এবং তা আইন অনুযায়ী হয়েছিল কি না, তা জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিবকে ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া ২০০০ সাল থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে তারেক রহমানের নামে চারটি পাসপোর্ট কীভাবে ইস্যু করা হয়েছে, পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পুলিশের মহাপরির্শকের মাধ্যমে আদালতে এই বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে হবে।
এই বছরের শুরুতে ঢাকার এক আইনজীবীর করা রিট আবেদনে হাই কোর্ট দুটি প্রতিবেদন দিতে আদেশ দিয়েছিল পররাষ্ট্র সচিব ও আইজিপিকে। ওই দুটি প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মঙ্গলবার এই আদেশ দেন আদালত।
লন্ডনে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে গত ৭ জানুয়ারি আইনজীবী নাসরিন সিদ্দিকী লিনা একটি আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই দিনই আদালত তারেক আইনের দৃষ্টিতে ‘পলাতক’ থাকা পর্যন্ত তার বক্তব্য-বিবৃতি প্রচার ও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা দেয়। পাশাপাশি তারেকের বিদেশে অবস্থানের অবস্থা জানাতে বলা হয় পররাষ্ট্র সচিবকে। পুলিশ মহাপরিদর্শককে তারেকের পাসপোর্টের মেয়াদ জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দুইটি প্রতিবেদন মঙ্গলবার আদালতে দাখিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস তা আদালতে উপস্থাপন করেন।
খালেদা জিয়ার ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের নামে বিভিন্ন ধারায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। সাত বছর ধরে তিনি ব্রিটেনে অবস্থান করছেন। তাকে দেশে ফেরাতে ওয়ারেন্ট জারি সহ নানাবিধ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে হাসিনা সরকার।
চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার পর তারেক ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ পাসপোর্ট নবায়ন করেছিলেন বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। তার মেয়াদ ২০১৩ সালে শেষ হয়েছে। তিনি এখন শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে গ্রেপ্তার হয়ে বছর খানেক কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে লন্ডন পাড়ি জমান তারেক। এরপর আর তিনি ফেরেননি।
মঙ্গলবার আদালতে প্রতিবেদন জমা প্রসঙ্গে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল তাপস বিশ্বাস বলেছেন, ২০০৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর যে পাসপোর্ট নিয়ে তারেক রহমান লন্ডনে গিয়েছিলেন, তার মেয়াদ ছিল ২০১০ সাল পর্যন্ত। তবে লন্ডনে যাওয়ার পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বর আবার পাসেপোর্টর নবায়ন করা হয়, যার মেয়াদ সেপ্টেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত ছিল। এই যে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় বছর আগে লন্ডন থেকে কীভাবে আবার পাসপোর্ট নবায়ন করা হল, তা আইন অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা পররাষ্ট্র সচিবকে জানিয়ে প্রতিবেদন দিতে বলেছেন আদালত।
পুলিশ প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে এই ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ২০০০ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তারেক রহমানের নামে চারটি পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে এক ব্যক্তির নামে একাধিক পাসপোর্ট ইস্যু করা যায় কি না, সে বিষয়ে আইজিপির মাধ্যমে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
মুদ্রা পাচারের একটি মামলায় খালাস পেলেও তারেককে পলাতক দেখিয়ে বিচার চলছে ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায়। আরও কয়েকটি মামলায়ও তিনি অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে সারা দেশে রয়েছে অনেকগুলো মানহানির মামলা।
ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল বলেন, ২০১৩ সালে তারেক রহমানের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর নবায়ন হয়নি। এ অবস্থায়ই তারেক রহমান লন্ডনে অবস্থান করছেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


