ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ৩১৭ রানের জবাবে জয়ের লক্ষ্যে ৩১৮ রান করতে নেমে শুরুতে ভালো করলেও এক পর্যায়ে পর পর তিন উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। রান রেটও শুরুর দিকে ভালোই ছিল। তবে নিয়মিত বিরতিতে বালখিল্যতার পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা আউট হতে থাকে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৩৮ ওভারে ৭ উইকেটে ২১৬ করেছে টাইগার বাহিনী।
ভারতের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৫ উইকেট হারিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে গেলেও সাব্বির রহমান ও নাসির হোসেনের দৃঢ়তায় এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ৪৩ রান করা সাব্বিরকে বোল্ড করে ভারতকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন স্টুয়ার্ট বিনি।
৩১৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে তামিম ইকবালকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেছেন ধাওয়াল কুলকার্নি। অন্য ওপেনার সৌম্য সরকার অবশ্য তাতে ভ্রুক্ষেপ না করে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে এগিয়ে নিচ্ছিলেন বাংলাদেশকে। কিন্তু কুলকার্নিকে তুলে মারতে গিয়ে মিডঅনে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন এই বাঁ-হাতি ওপেনার। ৩৪ বলে ৫টি চার ও দুটি ছক্কায় সৌম্যর অবদান ৪০ রান।
এরপর লিটনকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মুশফিক। তৃতীয় উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়েন দুজনে। ২৪ রান করা মুশফিককে কট বিহাইন্ড করে জুটিটা ভাঙেন সুরেশ রায়না। কিছুক্ষণ পর অক্ষর প্যাটেল বোল্ড করেন লিটনকে (৩৪)। সাকিবও (২০) রায়নার শিকার। অযথা তুলে মারতে গিয়ে লংঅন থেকে ছুটে আসা ধাওয়াল কুলকার্নির দারুণ ক্যাচে পরিণত হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার।
দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার বাংলাদেশকে দারুণ সূচনা এনে দেয়ার লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামেন। তবে ৫ রানে দলীয় ৮ রানের মাথায় আউট হন তামিম। এরপর লিটন দাস ও সৌম্য সরকার খেলতে থাকেন। দলীয় ৬২ রানে ব্যক্তিগত ৪০ রানে আউট হন সৌম্য সরকার। মাঠে নামেন মুশফিকুর রহিম।
প্রথম উইকেট হিসেব ধাওয়াল কুলকর্নির করা দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন তামিম ইকবাল। আম্পায়াররা অবশ্য ‘নো’ বল হয়েছে কী-না সেটি পরীক্ষা করে দেখেন। যদিও এই যাত্রায় রক্ষা হয়নি তামিমের।
শুরুতেই তামিমকে হারিয়ে থমকে যায়নি বাংলাদেশের ইনিংস। বরং দ্বিতীয় উইকেটে লিটন দাসকে নিয়ে ভারতীয় শিবিরে পাল্টা আঘাত হানেন সৌম্য সরকার। একের পর এক বাউন্ডারিতে ধোনির কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেন এই তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটার। তবে দশম ওভারে সৌম্যকে আউট করে ভারতকে ম্যাচে ফেরান কুলকর্নি।
কুলকর্নির করা দশম ওভারে দ্বিতীয় বলে ‘স্লোয়ারে’ বিভ্রান্ত হয়ে মিড-অনে ক্যাচ তুলে দেন সৌম্য সরকার। সহজ ক্যাচ তুলে নিতে কষ্ট হয়নি অশ্বিনের। ৩৪ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ৪০ রান করেন তিনি।
ভারতের ইনিংস: টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ৫০ ওভার শেষে ভারতের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩১৭ রান। ইনিংসের শুরুতে উড়ন্ত সূচনা হলেও মাঝে রানের গতি কমে যায়। কয়েকবার জীবনও পান ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। ইনিংসের শেষ পর্যায়ে এসে চার-ছক্কায় রানের গতি বেশ বাড়িয়ে দেয় টিম ইন্ডিয়া। সবমিলিয়ে ৪৮.২ ওভারে রানকে ৩০০ পার করানো হয়। সর্বশেষ ৪৮.৩ ওভারে ব্যক্তিগত ৩৮ রানে আউট হন সুরেশ রায়না। তিনি অবশ্য দলের রানকে ৩০০ পার করে দেন। এর আগে ধোনির আউটের সময় সুরেশ রায়না মাঠে নামেন ছিলেন। স্টুয়ার্ট বিনি মাঠে আসেন ধোনির পর।
পঞ্চম উইকেট হিসেবে মহেন্দ্র সিং ধোনি আউট হন ৬৯ রানে। দলের রান তখন ২৬৮। মাশরাফির বলে মুস্তাফিজুর রহমানের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় হন ধোনি। ভারতের ইনিংসে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করেন।
এর আগে চতুর্থ উইকেটের পতন হয় অম্বাতি রাইডুর বিদায়ের মাধ্যমে। ৪৩.৩ ওভারে মাশরাফির বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হওয়ার সময় টিম ইন্ডিয়ার রান ছিল ২৫১। অম্বাতি আউট হন নিজের ৪৪ রানে। অম্বাতির পর মাঠে নামেন সুরেশ রায়না। এর আগে তৃতীয় উইকেট হিসেবে বিদায় নেন শেখর ধাওয়ান। ইনিংসের ২৬.৩ ওভারে মাশরাফি বিন মুর্তজা বলে শর্ট মিডউইকেটে নাসির হোসেনের চমৎকার ক্যাচে পরিণত হন শেখর ধাওয়ান (৭৫)। তখন দলের রান ছিল ১৫৮।
এর আগে বোলিংয়ে এসে নিজের প্রথম ওভারেই ভালো খেলতে থাকা বিরাট কোহলিকে আউট করেন এই মুহুর্তে বিশ্বের সেরা ওডিআই অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বিরাট কোহলি (২৫) রানে আউট হন। বিরাট কোহলি আউট হওয়ার সময় ১৯.৫ ওভারে দলের রান ছিল ১১৪।
ভারতের প্রথম উইকেটের পতন হয় ৬ষ্ঠ ওভারের শেষ বলে। মারমুখী খেলতে থাকা রোহিত শর্মাকে আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান। তখন ভারতের স্কোরবোর্ডে রান ছিল ৩৯।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে এদিন শুরুতেই উড়ন্ত সূচনা করেন রোহিত শর্মা। শেখর ধাওয়ান কার সঙ্গী ছিলেন। প্রথম উইকেট জুটিতে ওঠে ৩৯ রান। রোহিতের আউটের পর ধাওয়ান ও বিরাট কোহলি রানের চাকা দ্রুত ঘোরাতে থাকেন। কোহলি ও ধাওয়ানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ৭৫ রান যোগ করে। এরপর ধাওয়ান আউট হলে রানের গতি কিছুটা কমে আসে। উইকেটে আসেন ধোনি। ধোনি ও ধাওয়ানের তৃতীয় উইকেট জুটি ৪৪ রান যুক্ত করে।
ঢাকায় ওডিআই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে দলীয় সপ্তম ওভারেই আঘাত হেনে ভারতের প্রথম উইকেটের পতন ঘটান বাংলাদেশ দলের নয়া সেনসেশন মুস্তাফিজুর রহমান। রোহিত শর্মাকে ২৯ রানে সাজঘরে ফেরান তিনি। এটি সিরিজে তার ১২তম উইকেট।
রোহিতের আউট হওয়ার সময় টিম ইন্ডিয়ার সংগ্রহ ৭ ওভার শেষে ৩৯/১। এরপর কোহলি এসে হাল ধরেন দলের। অপর প্রান্তে আগে থেকেই ছিলেন শেখর ধাওয়ান।
২৪ জুন ভারত ও বাংলাদেশের ওডিআই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে যায় ভারত। মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বৃষ্টির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে বেলা তিনটায় শুরু হয়।
এদিনের ম্যাচে বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন হয়েছে। চোটের কারণে দলে নেই পেসার তাসকিন আহমেদ, তার জায়গায় একাদশে ফিরেছেন বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানি।
ভারত দলে দুটি পরিবর্তন এসেছে। বাদ পড়েছেন রবিন্দ্র জাদেজা ও ভুবনেশ্বর কুমার। দলে ফিরেছেন স্টুয়ার্ট বিনি ও উমেশ যাদব।
বাংলাদেশ: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটল দাস, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, আরাফাত সানি, রুবেল হোসেন ও মুস্তাফিজ রহমান।
ভারত: মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, শেখর ধাওয়ান, বিরাট কোহলি, আম্বাতি রাইডু, সুরেশ রায়না, স্টুয়ার্ট বিনি, অক্ষর প্যাটেল, অশ্বিন, কুলকারনি ও উমেশ যাদব।
ক্রীড়া প্রতিবেদক, শেরেবাংলা স্টেডিয়াম থেকে
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


