ভারতের বিপক্ষে ঢাকায় বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মধ্যরাতে যেখানে ধোনি বাহিনী হোটেলে ফিরে কিছু না খেয়েই যে যার রুমে ঘুমিয়ে যায়; সেখানে বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি মোর্তজা নাকি দুই ম্যাচেই বিশ্ব রেকর্ড করা “মুস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে গিয়েছিলেন এম এস ধোনির রুমে! রুমে গিয়ে নাকি মুস্তাফিজুরের জন্য একটি ক্রিকেট ব্যাট চেয়েছেন এবং বলেছেন, দেখুন না দাদা মুস্তাফিজুরকে আইপিএলে সেট করা যায় কি না।” আনন্দবাজার পত্রিকার এই সংবাদকে ডাহা মিথ্যা বলে সাফ জানিয়ে দিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি। ২৪ জুন ঢাকায় সিরিজের শেষ ম্যাচের পরের সাংবাদিক সম্মেলেন বলেন, মুস্তাফিজুরকে নিয়ে আমি কোথায় যাবো? কোথাওই যাইনি। ডাহা মিথ্যা। ‘এ রকম কোনো কিছুই হয়নি। বাসায় ছেলে-মেয়ের চেহারাই দেখার সময় পাচ্ছি না! অন্য কোথাও যাওয়ার তো সুযোগই নেই।’
শুধু মাশরাফিই নয়, দ্বিতীয় ম্যাচের রাতে হোটেলের সিসিটিভি পরীক্ষা করেও দেখা গেছে ওই রুমে মাশরাফি বা মুস্তাফিজ কেউই যাননি। দুইজনের তো এক সঙ্গে যাওয়ার আলাপই নেই। তবে কেন এই ভুল-ভাল গপ্প লেখে আনন্দবাজার। এটা কী শুধুই বাজার ধরে রাখতে পাঠককে বোকা বানানো?
রাজর্ষির এই উদ্ভট তথ্য দিয়ে ‘কালারড’ স্টোরির পর বিশিষ্ট ক্রীড়া সাংবাদিক দেবব্রত মুখোপাধ্যায় নিজের মতো করে অনুসন্ধান শেষে ‘মিথ্যেরও একটা সীমা আছে’ শিরোনামে একটি মন্তব্য প্রতিবেদন লেখেন।
আনন্দবাজারে রাজর্ষির এই মনগড়া রঙিন গপ্প প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে কাটাছেড়া! না, সেটা মাশরাফিকে নিয়ে নয়, রাজর্ষি’কে নিয়ে। টাইগার সমর্থকদের কেউ কেউ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন, আইপিএলে মুস্তাফিজের সুযোগ খোঁজার তত্ত্বটি রাজর্ষি’র মনগড়া! টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি এভাবে এসব চাওয়ার মত ব্যক্তিত্ব নেই। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে বলাবলি হচ্ছে- আনন্দবাজারের এটা কোন জাতের সাংবাদিক, যিনি “নাকি,” “শোনা গেল” ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে পত্রিকায় লেখেন। তাও যদি হতো সত্যি কিছু!
হোটেলের ভেতরে খেলোয়ারদের কক্ষ থেকে কক্ষে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞার কথা সাধারণ পাঠক না জানলেও সাংবাদিকরা তা জানেন। তবুও রাজর্ষি গঙ্গোপাধ্যায় আনন্দবাজারে এই গপ্প লিখে বলেছেন, “শোনা গেল, ম্যাচ শেষে ভারতীয় ড্রেসিংরুমে এমএসডির কাছে নাকি মুস্তাফিজুরকে নিয়ে গিয়েছিলেন মাশরফি মর্তুজা। আইপিএল দরজা খোলার সম্ভাবনা ছেলের আছে কি না জানতে। ধোনির কাছে একটা ব্যাটও নাকি চেয়েছেন দেশের এক নবীন প্রতিভাকে উৎসাহিত করতে।”
ফেসবুকের সমালোচনায় লেখা হয়েছে, ১৯-বর্ষী তরুণ পেসা মুস্তাফিজুর রহমান কাটার ও দুর্বোধ্য স্লোয়ার দিয়ে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের নাকানিচুবানি খাইয়ে সে এখন ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিয়েছেন। ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচেই ১১ উইকেটসহ ১৩ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়া বিস্ময় বালক মুস্তাফিজ নিজস্ব কীর্তিতেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এছাড়া ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মহেন্দ্র সিং ধোনির সাথে তার ধাক্কার কথাও ক্রিকেট ইতিহাসে আলোচনা হবে।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠেই ধাক্কার সমুচিত জবাব দিয়েছেন মুস্তাফিজ। বোকা বানিয়ে আউট করেছেন খোদ ধোনিকেও। এতকিছুর পরেও সেই মুস্তাফিজকে নিয়ে নাকি ভারতীয় ড্রেসিংরুমে গিয়েছিলেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি। উদ্দেশ্য ধোনির সান্নিধ্যে নবীন মুস্তাফিজকে অনুপ্রাণিত করা। ধোনির কাছে নাকি মুস্তাফিজের জন্য একটি ব্যাটও চেয়েছেন মাশরাফি। কিন্তু ধোনি তাকে কোনো ব্যাট উপহার দিয়েছিলেন কিনা সেটা জানা যায়নি।
এবিপি নিউজের সুধীর তত্ত্ব: ঢাকায় নবম বারের মতো আসা টিম ইন্ডিয়ার পাঁড় সমর্থক সুধীর গৌতমের ওপর হামলার বানোয়াট খবরও প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার। যদিও তারা এটি করেছে এবিপি নিউজের বরাত দিয়ে। সুধীর কোনোভাবেই হামলার শিকার না হলেও এবিপি নিউজের প্রতিবেদক এটিকে জোর করে নিজে নিজ হামলার কথা বলে বিষয়টি নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ককে কলুষিত করার প্রয়াস চালিয়েছেন বলেও এখন প্রমাণিত হয়েছে। সুধীর নিজে ঢাকায় পরবর্তীতে গ্যালারিতে তেরঙ্গ নেড়েই খেলা দেখেন। সেই সময় তিনি গ্যালারিতে বাংলাদেশি সমর্থকদের বলেন, তোমরা যেভাবে শুনেছো বা পত্রিকায় পড়েছো আমি তো তা ওকে বলিনি!
বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


