ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিরিজ জিতলেও ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার জিওফ্রে বয়কট বলেছেন, ‘পারলে দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট জেতো। তখন বলব যে তোমরা ভালো দল, ক্রিকেটের নতুন শক্তি!’ যদিও বয়কট হয়তো ভুলে গেছেন, তার দল ইংল্যান্ডকে গত বিশ্বকাপে হারিয়ে দিয়ে বাংলাদেশই বিশ্বকাপ থেকে বাইরে ফেলে দিয়েছিল।
এছাড়া বাংলাদেশের পেছনে আইসিসির ‘টাকা ঢালা’-সংক্রান্ত কথা-বার্তা বলেও খোঁচা দিয়েছেন বয়কট। তার এই কথা জবাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা বলেছেন, ‘পৃথিবীর যেকোনো দেশেই ভালো খেলার সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কেবল ঘরের মাঠেরই ‘বাঘ’ নয়।’
অ্যাডিলেডের সেই জয়ের প্রসঙ্গ টেনেও মাশরাফি বলে দিয়েছেন কিছু কথা, ‘দেখেন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডে খেলতে গিয়ে অনেক দলই সমস্যায় পড়ে। ওখানে বিশ্বকাপটাও আমাদের জন্য খুব একটা সোজা কিছু ছিল না। কিন্তু আমরা ওখানে ভালো করেছি। আমরা ওখানে ভালো করেই আত্মবিশ্বাসী হয়েছি। আমরা এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই ভালো করতে পারি। জিততে পারি যেকোনো কন্ডিশনেই।’
ক্রিকেট সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন এমন মানুষরা জানেন, বয়কট খুব সম্ভবত কথাগুলো বলতে গিয়ে ভুলে গিয়েছিলেন যে তাঁর দেশের বিপক্ষে তিনটি জয়ের দুটিই বাংলাদেশ পেয়েছে ঘরের বাইরে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম জয়টি পেয়েছিল ইংল্যান্ডেরই মাটিতে। সাম্প্রতিক অতীতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে ইংল্যান্ডকে বিদায় করে দেওয়ার স্মৃতিটা কিন্তু ক্রিকেট বিশ্বে বেশ টাটকা। অ্যাডিলেডের সেই জয়টা যে বাংলাদেশের ক্রিকেটের খোলনলচেই পাল্টে দিয়েছে, সে কথাটি বয়কট পুরোপুরি চেপে না গেলেও মন্তব্যে এর সঠিক মর্যাদাটা দিতে পারেননি।
মাশরাফি বলেন, “ভারতের বিপক্ষে সিরিজের আগে সবাই বলাবলি করছিল, অন্তত একটা জয় চাই। ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ মিলিয়ে দুটি জয় পেলেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পারব আমরা; সেটুকু হলেই অনেক। সেখানে আমরা প্রথম দুই ম্যাচেই সিরিজ জিতে গেলাম। অথচ শেষ ম্যাচের পর থেকে সব জায়গাতেই দেখছি বাংলাওয়াশ হলো না, এই আলোচনা। আমাদের সিরিজ জয়ের চেয়ে বাংলাওয়াশ না হওয়ার আলোচনাই বেশি।”
‘বাংলাওয়াশ’ ব্যাপারটি নিয়ে অতি বাড়াবাড়িতেও বিরক্তি মাশরাফির কণ্ঠে। “কথায় কথায় ‘বাংলাওয়াশ’, ‘বাংলাওয়াশ’ করা ঠিক নয়। সব সিরিজেই তো আর আমরা সব ম্যাচ জিততে পারব না! সবসময় বাংলাওয়াশের প্রত্যাশা করা একটা চাপও। আমাদের প্রতিপক্ষও দলও জিততে মাঠে নামে; তারাও জিততে পারে, এটা মাথায় রাখা উচিত সবার।”
বাংলাদেশ অধিনায়কের মতে, ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রত্যাশার সীমা বাড়া উচিত আস্তে আস্তে। আর শুধু সমর্থকদের কাছ থেকেই নয়, সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকেও এই ব্যাপারে একটু সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করেন মাশরাফি। “মিডিয়ারও এই ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখা উচিত। মিডিয়ায় যখন এসব বেশি বেশি লেখা বা বলা হয়… এমনকি ম্যাচের পরও যখন বাংলাওয়াশ হলো না বলে লেখালেখি বা আলোচনা হয়, তখন তা আসলে মানুষদের প্রভাবিত করে।”
এদিকে বুধবার তৃতীয় ওয়ানডে শেষে সন্তানদের সঙ্গ পেতে সকালের অপেক্ষাও করেননি মাশরাফি। হোটেলে ফিরে শেষ রাতে সেহেরি খেয়েই বাসায় ফিরে যান তিনি। মেয়েটা তার একদম বাবা ন্যাওটা। ছোট ছেলেটাও বাবাকে চিনতে শুরু করেছে। দ্রুত ফিরে গেছেন বাসায়।
ক্রীড়া প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।



