বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘মাথার ওপর দণ্ড নিয়ে এমপি থাকা যায় না’

33586_163বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী নৈতিক স্খলন জনিত অপরাধে কেউ সাজা পেলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারান। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি আদৌ আর সংসদ এবং মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন কিনা তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশিদ আলম বলেছেন, একটি দুর্নীতির মামলায় যেহেতু তার বিরুদ্ধে সাজা বহাল রয়েছে, তাই তিনি আর সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না।

মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরির বিরুদ্ধে যে দুর্নীতির মামলা ঘিরে এই বিতর্ক শুরু হয়েছে, তা দায়ের করা হয় বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে।

অবৈধভাবে ছয় কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের এই মামলায় তাকে ২০০৮ সালে ১৩ বছরের দণ্ড দেয়া হয়। হাইকোর্ট ২০১০ সালে রায়টি বাতিল করে। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশনের এক আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ই জুন সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় খারিজ করে দেয় এবং হাইকোর্টকে আপিলের পুনঃশুনানির নির্দেশ দেয়।

দুপক্ষের আইনজীবীরা এই রায়ের দুরকমের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশিদ আলম বলছেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি যে আর সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না, তা নিয়ে অস্পষ্টতার কোন অবকাশ নেই।

“বর্তমানে তিনি একটি ফৌজদারি আপিল মামলার জামিনপ্রাপ্ত আসামী, যার মাথার ওপর একটি দণ্ড ঝুলছে। কাজেই সেই অবস্থায় আমি মনে করি উনার সদস্যপদ আর থাকে না সংবিধানের ৬৬ (২) ঘ ধারা অনুযায়ী।”

কিন্তু এর সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশ করছেন মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরির আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার।

“নৈতিকতার প্রশ্ন ভিন্ন। আমি এটিকে আইনের বিচারে দেখতে চাই। আপীল বিভাগ মামলাটিকে বিচার করে আবার পুনর্বিচারের জন্য পাঠিয়েছেন। বিচারিক আদালত তাঁকে যে সাজা দিয়েছিলেন সেই সাজা এখন পুনর্বিচার করা হচ্ছে। সুতরাং এটার চুড়ান্ত মীমাংসা এখনো হয়নি। তাই জনপ্রতিনিধি হিসেবে বা মন্ত্রী হিসেবে তাকে অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না।”।

সরকার দলীয় চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজও এই একই মত সমর্থন করে বলছেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংসদ বলতে পারবে না যে তাঁর সংসদ সদস্যপদ নেই। কাজেই আইনি লড়াই শেষ হওয়ার পরই কেবল এর সিদ্ধান্ত দেয়া যেতে পারে।

আ স ম ফিরোজ বলেন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরি এখনও সংসদ সদস্য আছেন এবং মন্ত্রীসভাতেও আছেন। সূত্র : বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুন