বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সীমান্ত হাটে একদিনে তিন হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা

Kasba-Border-Hatভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে সর্বশেষ চালু হওয়া চতুর্থ সীমান্ত হাট কুমিল্লার কসবা ও ত্রিপুরার সিপাহীজালা জেলার সীমান্তে ‘কসবা সীমান্ত হাট’। বৃহস্পতিবার ২৫ জুন এই হাটে দুই দেশের ২ হাজার ৯০০ জন ক্রেতা বিক্রেতাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে বাংলাদেশের ১৭০০ এবং ভারতের ১১০০ জন। সীমান্ত হাটের আশেপাশের ৫ কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী মানুষদের বিশেষ পরিচয়পত্র দিয়ে হাটে বেচাকেনা করার সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। এই কারণে অভ্যাগত অনেকেই হাটে এলেও তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়না। তাই অতিথিরা ফিরলেন মন খারাপ করে৷‌

হাসিনা-মোদির মধ্যে ৬ জুন সই হওয়া চুক্তির পর বৃহস্পতিবার ২৫ জুন ছিল তৃতীয় হাট৷‌ হাটের কাজকর্ম এবং ক্রেতাদের সুখ-সুবিধে দেখতে উপস্থিত হন ত্রিপুরার সিপাহীজলা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ডি কে চাকমা, মহকুমা শাসক প্রসূন দে, এসডিপি অরুণ সরকার প্রমুখ৷‌ এডিএম জানান, হাটে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ মাছ তোলা যায় কি না সে চেষ্টা চলছে। হাট পরিচালনার জন্য গঠিত জয়েন্ট ম্যানেজমেন্ট কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে৷‌

এদিকে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশি ক্রেতারাই সংখ্যায় বেশি ছিলেন৷‌ হাটের হিসেব অনুযায়ী ভারত থেকে হাটে প্রবেশ করতে পেরেছেন ১১০০ ক্রেতা৷‌ বাংলাদেশ থেকে কেনাকাটা করতে এসেছেন ১৭০০ মানুষ৷‌

দ্বিতীয় হাটের দিন ১৮ জুন ভারতীয় ক্রেতাদের আইনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছিল ১৫৮ নম্বর ব্যাটেলিয়ন বিএসএফ৷‌ এর পর প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার পর ১০০ জন ক্রেতাকে অতিথি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

হাট এলাকা থেকে ৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে যাঁরা বসবাস করেন, তারা পাচ্ছেন স্থায়ী পরিচয়পত্র৷‌ এজন্য ৪০ টাকা জমা দিতে হবে। এর বাইরে যাদের বাড়ি, তাদের জন্য অতিথি কার্ডের ব্যবস্হা করছে প্রশাসন, ১০ টাকার বিনিময়ে৷‌ তা কেবল একদিনের জন্য৷‌ এই কার্ড দিচ্ছে মহকুমা প্রশাসন৷‌ হাটের বাইরেই স্থাপন করা অস্থায়ী অফিস থেকে৷‌ অতিথিরা এসে সেই কার্ড সংগ্রহ করেন৷‌

বৃহস্পতিবার দেখা যায়, দূর-দূরান্ত থেকে বহু ক্রেতা এসেছেন হাটে যাওয়ার উৎসাহ নিয়ে৷‌ লম্বা লাইনও তৈরি হয়েছে৷‌ কার্ডের সীমাবদ্ধতার জন্য অনেককেই ফিরে আসতে হয়েছে৷‌ এডিএম ডি কে চাকমা জানান, হাট চালাতে গিয়ে যে সব সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে থাকবে না৷‌ সবে তো শুরু৷‌ বৃহস্পতিবার গোটা দিন ছিল বৃষ্টি৷‌ কখনও মুষলধারে, কখনও ইলশেগুঁড়ি৷‌ সমস্ত কিছু উপেক্ষা করে হাটের দু’দিকেই মানুষের ভিড় জমে৷‌ বাংলাদেশ অংশে বিজিবির ততটা কড়াকড়ি ছিল না৷‌ ভারতীয় অংশে একটু বাড়াবাড়ি করার চেষ্টা করে বি এস এফ৷‌ এডিএমের তৎপরতায় সমস্যা অনেকটাই কেটে যায়৷‌

যারা স্হায়ী পরিচয়পত্র নিয়ে আসেন তাদের আটকানো হয়নি৷‌ গেস্ট কার্ডও ১০০ দেওয়া হয়েছে৷‌ চাহিদার তুলনায় তা ছিল একেবারেই অল্প৷‌ ব্যবসায়ীরা তালিকা অনুযায়ী পণ্যসামগ্রী নিয়েই হাটে গেছেন৷‌ বেচাকেনা ভাল, সবাই খুশি৷‌ এই হাটকে কেন্দ্র করে দু’দিকেই উৎসাহের শেষ নেই৷‌ দিন ভাল হলে এবং কড়াকড়ি কমলে ভিড় উপচে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

আগরতলা সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন