ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টিতে সারা বাংলা নাকাল হলেও, আসল ইলিশের দেখা মিলছে না কোথাও। ভরা মৌসুম চললেও বলতে গেলে শূন্যহাতে মোকামে ফিরছেন জেলেরা। তাছাড়া প্রকৃতির বৈরী আচরণে ৪-৫ দিন ধরে সাগরে যেতে পারছে না মাছধরার ট্রলার। সব মিলিয়ে ইলিশের রাজ্যে এখন দারুণ আকাল। তাই হু হু করে বাড়ছে দাম। পাইকারি বাজারেই প্রতি কেজির মূল্য এখন ১৩ থেকে ১৪শ টাকা। খুচরায় গিয়ে তা দাঁড়াচ্ছে ১৫-১৮শ পর্যন্ত।
বাংলাদেশে ইলিশের মোট চাহিদার ৮৯.৩৭ ভাগ পূরণ করে সমুদ্র। বাকি জোগান আসে অভ্যন্তরীণ নদী ও নদী মোহনা থেকে। এখন ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। জুনের প্রথমদিকে শুরু হয়েছে, চলবে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। প্রায় ১ মাস আগে মৌসুম শুরু হলেও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না ইলিশ। যাও বা ধরা পড়ার সম্ভাবনা ছিল তাতে আবার বাদ সেধেছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কালাবদর নদীর ইলিশ জেলে রহমান মাঝি জানান, খানিকটা ঝড়ো আবহাওয়া আর একটানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলছে এখন। এমন আবহাওয়ায় সাগরে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। এর কিছু ছিটেফোঁটা ঢোকে অভ্যন্তর ভাগের নদীতে। কিন্তু বর্তমানে মিলছে না কিছুই।
সাগর পাড়ের আলীপুর-মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান গাজী বলেন, নদী এবং নদী মোহনায় ইলিশ ধরা পড়ার মানেই হচ্ছে উপকূলের সাগরে অবস্থান করছে ইলিশের ঝাঁক। আমরাও তেমন বুঝে নেমে পড়ি সাগরে। কিন্তু বর্তমানে উত্তাল থাকায় সাগরে যেতে পারছে না কেউ।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত চলছে উপকূলে। বিশাল বিশাল ঢেউ উঠছে সাগরে। গত কয়েক দিন ধরেই এমন পরিস্থিতি। উপকূলের বিভিন্ন মোকামে নিরাপদ আশ্রয়ে নোঙ্গর করে আছে শত শত ট্রলার। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে যাওয়া যাচ্ছে না সাগরে। যতদিন বন্ধ থাকবে সাগরে যাওয়া, ততদিনে কাটবে না ইলিশ সংকট। কারণ সাগর থেকেই আসে ইলিশের মূল জোগান। পরিস্থিতি এমন যে শুক্রবার মাত্র ১৫-২০ মণ ইলিশ এসেছে পাথরঘাটায়। অথচ এ সময় কমপক্ষে হাজার মণ ইলিশ আসার কথা এ মোকামে।
বাংলাদেশের মোট চাহিদার শতকরা ৪৩ ভাগ ইলিশ সরবরাহ করা বরিশাল ইলিশ মোকামের ব্যবসায়ী জহির সিকদার বলেন, মাসব্যাপী খরার পর গত কয়েকদিন ধরে মোকামে আসছে নদীর কিছু লোকাল ইলিশ। এতেই দারুণ খুশি এখানকার আড়তদাররা। একেবারে বসে থাকার তুলনায় কিছু কাজ তো জুটছে। শুক্রবার ২৬ জুন মোকামে এসেছে মাত্র ১০০ মণের মতো ইলিশ। কাছাকাছি নদী ও নদী মোহনা থেকে এসব ইলিশ ধরে আনেন জেলেরা। পুরো চালানে সাগরের মাছ ছিল না বললেই চলে। সাগরের ইলিশ না আসা পর্যন্ত অভাব যাবে না। যেখানে ফিবছর এ রকম মৌসুমে মোকামে আসত দৈনিক আড়াই থেকে ৩ হাজার মণ ইলিশ সেখানে ১-২শ মণ তো কিছুই নয়।
বরিশাল ইলিশ মোকামের মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল বলেন, দক্ষিণের মোকামগুলোতে কিছু ছিটেফোঁটা ইলিশ আসছে। তবে বড় চালানের কোনো খবর নেই। চলমান সংকটে দাম চলে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
শুক্রবার ২৬ জুন বরিশাল মোকামে কেজি সাইজের ইলিশের পাইকারি রেট ছিল প্রতি মণ ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। এছাড়া মাঝারি ৩৫ হাজার এবং ছোট সাইজ ২৭ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছে আড়তদাররা। কয়েক হাত ঘুরে এ ইলিশ যখন খুচড়া বাজারে যাচ্ছে তখন তার দাম দাঁড়াচ্ছে আরও ২-৩ গুণ বেশি। ফলে ১৫শ থেকে ১৮শ টাকা কেজি দরে স্ট্যান্ডার্ড সাইজের ইলিশ কিনতে হচ্ছে ক্রেতাকে।
বরিশালের মতো উপকূলের অন্যান্য মোকাম থেকেও পাওয়া গেছে বাড়তি দামের খবর। সাগর পাড়ের আলীপুর-মহিপুরে শুক্রবার ইলিশের মণ ছিল ৪২ হাজার টাকা (স্ট্যান্ডার্ড সাইজ)। বরগুনার পাথরঘাটায় বিকিকিনির দর ছিল ৪০ হাজার টাকার উপরে।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


