ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গের এক নেতা বাংলাদেশি দুইটি ছিটমহলকে ভারতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ জন্য তিনি ছিটমহল বিনিময় চুক্তির মধ্যে বাংলাদেশি ছিটমহল দহগ্রাম ও আঙরাপোতাকে অন্তর্ভুক্ত করে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করা দাবি জানান। শনিবার পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কোচবিহার জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক সাংবাদিক সম্মেলন করে এই দাবির কথা জানান বিজেপির রাজ্য নেতা বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরী। তিনি বলেন, “বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”
বিশ্বপ্রিয় রায়চৌধুরীর দাবি, ওই ২টি ছিটের ৩ পাশেই ভারত রয়েছে। তাই ওই ২টি ছিটমহলকে বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে ভারতে নেওয়া হোক। তিনি আরও জানান, “এই ২ ছিটের বাসিন্দারাও ভারতে আসতে চান। তাই তাঁদের ভারতের সঙ্গে যুক্ত করা হোক।”
রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাহুল সিনহাও এর আগে একই ধরনের দাবি জানিয়েছিলেন।
এর আগে কেএসএসের উপদেষ্টা ও আরএসএসের নেতা সাধন কুমার পাল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতাকে ভারতের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করে বলেছেন, সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের আগে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ছিল তিন বিঘা করিডোর সমস্যার সমাধান করা। কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকার যে ভুল করেছে তা আগেভাগেই সংশোধন করা উচিত ছিল সরকারের। কিন্তু ভারতের জনগণের স্বার্থে এই সরকার কোন কিছুই করে নি। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘আচ্ছে দিন’ বলতে কি বুঝিয়েছেন। কিন্তু কুচলিবাড়ির মানুষের জন্য কোন আচ্ছে দিন বা সুদিন নেই। সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জাতীয় স্বার্থে। কিন্তু বাংলাদেশের ভিতরে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা সমস্যা রয়েই যাচ্ছে। এই দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতাকে দেখা হয় ভারত বিরোধীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে। এ বিষয়ে কোনই মনোযোগ দেয়া হয় নি। সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়ার পরও তিন বিঘা করিডোর থেকে যাবে।
তিন বিঘা করিডোর বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেছে আঙ্গরপোতা ও দহগ্রামকে। এই দুটি স্থানকে বাংলাদেশী ছিটমহল হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। সাধন কুমার পাল বলেন, কুচলিবাড়ি হলো ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। এটা পরিণত হবে আরেকটি ছিটমহলে। বর্তমানের সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে এমনটা হবে। সাধন কুমার পাল বলেন, সম্প্রতি রাজ্য বিজেপি সভাপতি রাহুল সিনহা বলেছেন, সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে গেলেও শতকরা দুই ভাগ সমস্যা যা আঙ্গরপোতা-দহগ্রামের জন্য থেকে যাবে, তা সমাধান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময় আমরা এ বিষয়ে কলকাতায় নিয়োজিত হাইকমিশনারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানাবো। তাতে তাদেরকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতাকে ভারতের হাতে ছেড়ে দেয়ার আবেদন করবো। তিন বিঘা করিডোর নিয়ে দ্বিতীয়বার বিবেচনা করা হবে।
সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের পরে সহিংসতার আশঙ্কা করছেন ভারতীয় ও বাংলাদেশী ছিটমহলের বেশ কিছু সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত লোকজন। ভূমি ও জাতীয়তা নিয়ে ভারতীয় যেসব ছিটমহলের মানুষকে হুমকি দেয়া হয়েছে সেখানে আগে থেকেই সতর্কতামূলক অবস্থান নিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখেছেন রাজ্যসভার এমপি ও স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান প্রদীপ ভট্টাচার্য এবং কুচ বিহারের এমপি রেনুকা সিনহা।
কোচবিহারভিত্তিক বিণ্নি সংস্থা এরই মধ্যে একই ধরনের চিঠি লিখেছে মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কাছে। এসব চিঠিতে তারা ভারতীয় ছিটমহলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাতে সহযোগিতা দিতে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী বিএসএফের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


