ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরাও প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে। সড়কের যানবাহনের পাশাপাশি রেলওয়ের ঢাকা স্টেশনকে কেন্দ্র করে ২৫ থেকে ৩০ জনের নেতৃত্বে তিনশতাধিক অজ্ঞান পার্টিরর কর্মী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বলা হয়ে থাকে, রেলওয়ের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও এরা ম্যানেজ করে চলে। রেলওয়ে পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও বিভিন্ন সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, পুলিশের খাতায় অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের চিহ্নিত করা হয়েছে বোরকা, লালসালু, কৃষ্ণবালাসহ নানা নামে। সরদারদের নাম রয়েছে চেয়ারম্যান হিসেবে।
সূত্র জানায়, ঈদকে সামনে রেখে শুধু ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে ২ শতাধিক অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের লক্ষ্য বিভিন্ন ট্রেন থেকে যাত্রীদের মালামাল ছিনিয়ে নেয়া। অজ্ঞান পার্টির অধিকাংশ সদস্য তরুণ-তরুণী। গত এক বছরে অজ্ঞান পার্টি ও ছিনতাইকারী চক্রের শতাধিক সদস্য এবং তাদের সরদারদের গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হলেও কিছুদিন না যেতেই তারা মুক্ত হয়ে ফিরে আসে। এরাই এখন ঈদকে সামনে রেখে সংগঠিত হচ্ছে। নির্দিষ্ট চুক্তিতে বিভিন্ন স্টেশন ও ট্রেনে থাকা কতিপয় হকার, টোকাই ও ভবঘুরদের নিজেদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে। ঈদের সময় যাত্রী ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অজ্ঞান পার্টির মহিলা সদস্যরা টার্গেট করা নির্দিষ্ট যাত্রীদের পাশে দাঁড়ায়। সাংকেতিক ভাষায় ইঙ্গিত করতেই অজ্ঞান পার্টির পুরুষ সদস্যরা এগিয়ে আসে। তারা যাত্রীদের কাতর হয়ে অনুরোধ জানান, মেয়েমানুষ দাঁড়িয়ে রয়েছে, প্লিজ ভাই- একটু বসতে দেন। সাধারণ যাত্রীদের পাশে বসেই এসব মহিলা কৌশলে পাশের যাত্রীর সঙ্গে খাতির জমায়। কিছুক্ষণ পরই যাত্রীটি হেলে পড়েন। এরপর যাত্রীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় সবকিছু। রোজার সময় ইফতারের যাত্রীদের অজ্ঞান করা হয় বিভিন্ন স্পের মাধ্যমে।
শুক্রবারও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে এক যাত্রীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে তিনি সবকিছু হারিয়েছেন।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইফতারের আগে ইনজেকশনের সিরিজ দিয়ে কচি ডাবের ভেতর ঢুকানো হয় নেশাজাতীয় দ্রব্য। একইভাবে ঝালমুড়ি, ফলমূল, চানাচুর ভাজা, শসা, আমড়া, সিগারেট, পান, তরল জাতীয় জুসসহ নানা খাদ্যদ্রব্যে নেশাজাতীয় জিনিস মিশিয়ে যাত্রীদের অজ্ঞান করে চক্রটি। অনেক সময় সবকিছু হাতিয়ে নেয়ার পর ভুক্তভোগীকেই অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর খরচের দোহাই দিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার থেকে আদায় করে ৩০-৪০ হাজার টাকা। পুলিশের কাছে ধরা পড়ার পর চক্রের একাধিক সদস্য এমনটা স্বীকারও করেছে।
রেলওয়ে রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল এসএম রুহুল আমিন জানান, রেলওয়েতে অজ্ঞান পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচিত অপরাধীদের একটি তালিকা করা হয়েছে। তালিকানুযায়ী তাদের গ্রেফতার শুরু হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ৪শ পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ১০৫ সদস্য দেয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


