হিমাচল প্রদেশের শিমলায় জমি কিনে বাড়ি করা নিয়ে তথ্য লুকানোর জন্য সমালোচনার মুখে পড়েছেন কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়ার গান্ধির মেয়ে প্রিয়াঙ্কা ও তার স্বামী রবার্ট ভদ্র। সেখানে বাড়ি ও জমি নিয়ে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য পাওয়ার আবেদন করে না পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ২৯ জুন হিমাচল প্রদেশের রাজ্য তথ্য কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ তাদের রায়ে জানিয়ে দেয়, দশ দিনের মধ্যে জমি কেনা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে হবে রাজ্য প্রশাসনকে।
শিমলায় জমি কিনে ভিন রাজ্যের লোকেরা সচরাচর বাড়ি করতে পারেন না। নিয়মকানুনের অনেক ফিকির রয়েছে। কিন্তু আলোচ্য মানুষ দু’জন তো আর সাধারণ নন! প্রিয়াঙ্কা ও সোনিয়া। প্রিয়াঙ্কা-রবার্ট শিমলায় একটা বাড়ি বানাচ্ছেন। এ বার বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করল তা নিয়েই। প্রিয়ঙ্কা কী ভাবে জমি পেলেন সে ব্যাপারে তথ্যের অধিকার আইনের আওতায় আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু শুরুতে তা জানাতে চাননি স্থানীয় তথ্য আধিকারিক ও জেলা তথ্য কর্মকর্তারা। বরং তারা এ ব্যাপারে প্রিয়ঙ্কার মত জানতে চান। আবার প্রিয়াঙ্কা স্থানীয় ও জেলা তথ্য কর্মকর্তাকে একটি আবেদন জানিয়ে বলেন, ’এ বিষয়ে তথ্য যেন প্রকাশ করা না হয়। কারণ, তাঁর নিরাপত্তার ব্যাপারটি এ ক্ষেত্রে জড়িত।’
এমনিতেই রবার্ট ভদ্রের বিরুদ্ধে জমি কেলেঙ্কারির অভিযোগ নিয়ে জেরবার কংগ্রেস ও গান্ধি পরিবার। শিমলার জমি নিয়ে কোনও অনিয়মের আঁচ পাওয়া গেলে সন্দেহ নেই তা বিজেপি-র কাছে গান্ধি পরিবারের বিরুদ্ধে ফের নতুন অস্ত্র হয়ে উঠবে।
মজার ব্যাপার হল, এমনিতে রবার্টের বিরুদ্ধে যত বারই কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে, আগ বাড়িয়ে মুখ খুলেছে কংগ্রেস। শিমলার জমি বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কংগ্রেস মুখপাত্র শাকিল অাহমেদ বলেন, ‘‘এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনও তথ্য নেই। বিষয়টা প্রিয়াঙ্কার একেবারেই ব্যক্তিগত।’’
হিমাচল প্রদেশের বাসিন্দা তথা সামাজিক আন্দোলনকারী দেবাশিস ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘কিছু একটা অনিয়ম না থাকলে চাপা দেওয়ার চেষ্টা হবে কেন? আইনানুযায়ী জমি কেনা হলে তা নিয়ে লুকোছাপার তো কারণ দেখছি না!’’ তিনি জানান, হিমাচল প্রদেশ জমি ও টেনান্সি আইনের ১১৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, শর্তসাপেক্ষে হিমাচল প্রদেশের বাইরের মানুষ সেখানে গৃহনির্মাণের জন্য জমি পেতে পারেন। তবে পাঁচশো বর্গমিটারের বেশি জমি কেউ পাবেন না। তা ছাড়া কোনও এক জন ব্যক্তিকে দু’বার জমি দেওয়া যাবে না। আবার জমি পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে। তার দাবি, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আইনজীবী ও একদা আম আদমি পার্টির সদস্য কিছু দিন আগে পালমপুরে একটি চা বাগান কিনেছিলেন। কিন্তু তথ্যের অধিকার আইনে তার চাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে সেই কেনাবেচা খারিজ হয়ে যায়। প্রিয়াঙ্কার জমি কেনার ক্ষেত্রেও অনিয়মের আশঙ্কা রয়েছে বলে তার মত। কারণ, তার দাবি, প্রিয়ঙ্কাকে দু’বার জমি দেওয়া হয়েছিল। একবার ২০০৭ সালে। পরের বার লাগোয়া একটা জমি ২০১২ সালে তাকে দেওয়া হয়। তা ছাড়া নির্মাণকাজও এখনও শেষ হয়নি।
হিমাচলের এক কংগ্রেস নেতা বলেছেন, বাইরের কোনও ব্যক্তি হিমাচলে জমি কিনলে রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিতে হয়। তার পর ভূমিরাজস্ব মন্ত্রক চূড়ান্ত ছাড়পত্র দেয়। প্রিয়ঙ্কাকে যখন প্রথম বার জমি দেওয়া হয়েছিল তখন রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় ছিল। কোনও অনিয়ম হলে তখনই বা তার পরেও বিজেপি নিশ্চয়ই প্রশ্ন তুলত। প্রিয়ঙ্কা এসপিজি নিরাপত্তা পান। তিনি কোথায় বাড়ি কিনেছেন, তার ঠিকানা কী, তা ঢাক পিটিয়ে বলা সে কারণেই সমস্যার। তথ্য কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ পেলেই সব ধোঁয়াশা কেটে যাবে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


