আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এবং ক্রসফায়ারে গত ছয়মাসে ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছে মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের। এছাড়া গত ছয় মাসে রাজনৈতিক সংঘাতের মোট ঘটনা ঘটেছে ৬৬০টি। এতে নিহত হয়েছেন ১৩২ জন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৯২ জন। নিহতদের মধ্যে ৭০ জনই মারা গেছেন অগ্নিদগ্ধ হয়ে। ছয় মাসে সাতটি বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ১৯ বার ১৪৪ ধারা জারির ঘটনা ঘটে। শুধু গণপিটুনিতেই মৃত্যু হয় ৬৯ জনের। বিভিন্ন দৈনিক সংবাদ পত্র এবং আসকের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার ৩০ জুন আসকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে এসে ২৯ জনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে চারজনের লাশ পাওয়া যায়। একজন ফেরত আসে। একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, গত ছয় মাসে র্যাবের ক্রসফায়ারে ২২ জন, পুলিশের ক্রসফায়ারে ৪০ জন, র্যাব ও বিজিবির ক্রসফায়ারে একজন, আনসার বাহিনীর ক্রসফায়ারে একজন, ডিবি পুলিশের ক্রসফায়ারে সাতজন, যৌথ বাহিনীর ক্রসফায়ারে একজন মারা যান। পুলিশের নির্যাতনে চারজন, ডিবি পুলিশের নির্যাতনে একজন, র্যাবের নির্যাতনে একজন এবং বিজিবির নির্যাতনে একজন মারা যান। এ ছাড়া পুলিশের গুলিতে ১৪ জন, ডিবি পুলিশের গুলিতে একজন মারা যান।
গত ছয় মাসে থানা হাজতে আত্মহত্যা করেন তিনজন। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হেফাজতে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে দুজন, র্যাবের হেফাজতে একজন মারা যান। ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি ট্রেনের নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
ছয়মাসে কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে কয়েদি ১৩ ও হাজতি ছিলেন ২১ জন।
সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মারা গেছেন ১৫ জন, নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে আটজনের। গত ছয় মাসে আহত হয়েছেন ৩৮ জন। অপহরণের শিকার হন ৪৯ জন। অপহরণের পর বিজিবির মধ্যস্থতায় ফেরত আসে ২২ জন।
আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও থেমে ছিল না গত ছয় মাসে। এ সম্প্রদায়ের ৯৪টি বাড়ি ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ১৩৭টি প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়। বিভিন্ন ঘটনায় ২৮ জন আহত হন। ১৬১ জন গণমাধ্যমকর্মী বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।
নারী নির্যাতন: ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার হয় ৩২৬ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২৯ জনকে। আত্মহত্যা করেন একজন। ৫২ জনের বেশি নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়।
যৌন হয়রানির কারণে ছয়জন নারী আত্মহত্যা করেন। এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে একজন নারী ও একজন পুরুষ নিহত হন। এ ছাড়া ৯৪ জন হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হন।
২২ জন গৃহকর্মী বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে মারা যান তিনজন। রহস্যজনক মৃত্যু হয় ১১ জনের। সালিস ও ফতোয়ার কারণে নির্যাতনের শিকার হন চারজন নারী।
যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হন ১৩৩ জন। হত্যা করা হয় ৯১ জন নারীকে। আত্মহত্যা করেন চারজন। যৌতুকের কারণে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন ৩৭ জন। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন ২০০ জন। এর মধ্যে ১৪৮ জনকে হত্যা করা হয়। এ ধরনের নির্যাতনে আত্মহত্যা করেন ৩২ জন।
গত বৃহস্পতিবার ২০১৪ সালের মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মানবাধিকার সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিবরণ, ইন্টারনেটে মত প্রকাশের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপসহ সভা-সমাবেশে বাধা প্রদান, সরকারের দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


