বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখার চেষ্টা হচ্ছে: খালেদা

photo-1435679361বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, জাতিকে পুরোপুরি ধ্বংস করার লক্ষ্যে ষড়যন্ত্র করে পরিকল্পিতভাবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে। এখন তাদের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রাখারও চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদ সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর। সংসদে বিরোধী দল বলে কিছু নেই। সংসদে বিতর্ক করার জন্য কোনো এজেন্ডা থাকে না। তাই আজ দেশের এ অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো অতি দ্রুত একটি নির্বাচন করা, যে নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে। এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে।’

মঙ্গলবার ১২ তম রোজায় রাজধানীর ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে ২০-দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির ইফতারে অংশ নিয়ে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন। তবে কারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসিয়েছে বা কারা ক্ষমতায় রাখার চেষ্টা করছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

বিএনপির চেয়ারপারসন বলেন, আজ জনগণকে সজাগ হতে হবে। যাঁরা দেশকে ভালোবাসেন, পরিবারকে ভালোবাসেন, মুক্তিযুদ্ধকে সম্মান করেন, তাঁদের জেগে উঠতে হবে। অন্যায়, জুলুম, অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে হবে। তবেই দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ও গণতন্ত্র ফিরে আসবে।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন কথা বলে যাচ্ছি। কিন্তু তাদের কোনো গায়ে লাগছে না। জাতীয় সংসদে কোনো আলোচনা হয় না। সংসদে কোনো এজেন্ডা থাকে না। এটা গান-বাজনার আসর হয়ে গেছে। সংসদে বিরোধী দল বলে কিছু নেই। সেখানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত হয় না।’

বিএনপির নেত্রী বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হল নির্বাচন এবং সেই নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়া, যাতে কোনো কারচুপি না হয়। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। সারা বিশ্ব এই নির্বাচন কমিশনকে অথর্ব বলে আখ্যা দিয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেন, প্রশাসনে ভালো ভালো কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে দলীয় লোকদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলার ধার ধারছে না। দেশে মানবাধিকার বলে কিছু নেই। কেউ সরকারের সমালোচনা করতে পারে না। করলেই তাঁকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করে। তারা নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

ইফতার অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফিজুর রহমান ইরান। এতে আরও অংশ নেন অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, আ ফ ম ইউসূফ হায়দার, মাহবুব উল্লাহ, সদরুল আমিন, সুকোমল বড়ুয়া, জাফরুল্লাহ চৌধুরী, সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ, বিএনপির নেতা আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ২০ দলের নেতা অলি আহমেদ, শাহাদাত হোসেন সেলিম, শফিউল আলম প্রধান, মোস্তফা জামাল হায়দার, আবদুল লতিফ নেজামী, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, রেদওয়ান উল্লাহ শাহেদী প্রমুখ।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন