সরকারের দুর্নীতি ও অপশাসনের কড়া সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকারের পরিণতি হীরক রাজার কাহিনির মতো ‘দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হলো খান খান’ হবে। তিনি বলেন, জনগণ দড়ি ধরে টান দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। আল্লাহও জালেম, অত্যাচারী ও অবৈধ সরকারকে পরীক্ষা করছে। তারা কত খারাপ কাজ করতে পারে, কত দুর্নীতি করতে পারে। যেদিন দড়ি টান দেবে তখন এরা খান খান হয়ে যাবে।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জনগণ আজ জেগে উঠছে। সাবধান হওয়ার এখনই সময়। খালেদা জিয়া সরকারকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন, ‘জনগণ আজ জেগে উঠছে। সাবধান হওয়ার এখনই সময়। ধর্মকে কটূক্তিকারী বর্তমান সরকারের সাবেক এক মন্ত্রী জামিন পেয়ে জনরোষের ভয়ে লুকিয়ে আছেন। এ সরকারের সবার পরিণতি একই হবে। জনগণ আপনাদের সব জায়গা থেকে খুঁজে বের করবে। তাই পালাবার পথ দেখে রাখুন।’
বুধবার বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির রাজদর্শন হলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) রাজনৈতিক ও পেশাজীবীদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে তিনি একথা বলেন।
খালেদা জিয়া বলেন, গণবিচ্ছিন্ন সরকার জনগণের কথা ভাবছে না। তারা কেবল নিজেদের কথা ভাবছে। দুর্নীতি-লুটপাটের মাধ্যমে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে। বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ওপর চালাচ্ছে নির্যাতন। এ অবস্থা জনগণ আর মেনে নেবে না। তারা ভেতরে ভেতরে তৈরি হচ্ছে। গণঅভুত্থানের মাধ্যমেই সরকারের পতন হবে। গণবিস্ফোরণেই এ সরকার বিদায় নেবে।
তিনি বলেন,বর্তমান সরকার ২০ দলের পেছনে লেগেই আছে। অপরাধ করছে তাদের দলের লোক আর মামলা দেয়া হচ্ছে ২০ দলের নেতাকর্মীদের নামে। আবার তারা জামিনে মুক্ত হলেও তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
খালেদা জিয়া বলেন, সরকারি দলের লোক প্রকাশ্যে খুন করলেও তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পচা গম আমদানি করে সাধারণ মানুষদের তা আটা বানিয়ে খাওয়ানো হচ্ছে।
বেগম জিয়া সরকারি দলের লোকজন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ’অতি উত্সাহী’সদস্যদের পালানোর জায়গা ঠিক করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, কোথায় যাবেন? পালানোর জন্য জায়গা ঠিক করে রাখুন। জনগণ আজ জেগে উঠেছে। সাবধান হওয়ার এখনই সময়। আপনারা যে অপকর্ম করছেন সেদিন বুঝবেন যেদিন আপনাদের বিচার হবে।
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন,মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহম্মদ ইসহাক, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) মহাসচিব সালাহ উদ্দিন মতিন, জাতীয় পার্টির (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, জাগপার সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনডিপির সভাপতি খন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মুসলীম লীগের সভাপতি এইচ এম কামরুজ্জামান খান, ইসলামিক পাটির্র অতিরিক্ত মহাসচিব আবু তাহের চৌধুরী, পিপলস লীগের (পিএল) সভাপতি গরীবে নেওয়াজ, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি অ্যাড. আজহারুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মহিউদ্দিন একরাম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ,
বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, যুব বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নির্বাহী সদস্য শামা ওবায়েদ প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ, ড. মাহবুব উল্লাহ, ড. মাহফুজ উল্লাহ প্রমুখ। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
বিশেষ প্রতিনিধি,ঢাকা
নিউজওয়ারর্ল্ডবিডি ডটকম


