‘মিথ্যা হিসাব দিয়ে দেশকে মধ্য আয়ের দেশ বলে দাবি করা হচ্ছে’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম শুক্রবার ৩ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সিপিবি-বাসদ আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন। ১০ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাসসহ বকেয়া পরিশোধের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রতিবছর ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় অনুসারে দেশগুলোকে চারটি গ্রুপে ভাগ করে। সেই ধারাবাহিকতায় বুধবার এ আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃত দেয়। বিশ্বব্যাংক মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে: নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ ও উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ।
বিশ্বব্যাংকের মানদণ্ড অনুযায়ী, যাদের মাথাপিছু জাতীয় আয় ১ হাজার ৪৫ ডলার বা তার নিচে, তারা নিম্ন আয়ের দেশ। মূলত ১ হাজার ৪৬ ডলার থেকে শুরু করে যেসব দেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় ১২ হাজার ৭৩৬ ডলার, তারা মধ্যম আয়ের দেশের অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে আবার আয় ১ হাজার ৪৬ ডলার থেকে শুরু করে ৪ হাজার ১২৫ পর্যন্ত হলে তা হবে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ এবং আয় ৪ হাজার ১২৬ ডলার থেকে শুরু করে ১২ হাজার ৭৩৬ ডলার হলে দেশগুলোকে বলা হয় উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ। এর চেয়ে বেশি মাথাপিছু জাতীয় আয় হলে সেই দেশগুলোকে বলা হয় উচ্চ আয়ের দেশ।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম বলছেন, ‘মিথ্যা হিসাব দিয়ে দেশকে মধ্য আয়ের দেশ বলে দাবি করা হচ্ছে। সব মানুষের আয় কি ১ লাখ টাকা? এটা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকার ধনীকে আরো ধনী এবং গরিবকে আরো গরীব বানাচ্ছে। মধ্য আয়ের দেশ বলে মিথ্যাচার না করে সরকারকে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।’
সেলিম বলেন, ‘প্রতি বছর ঈদ আসলেই শ্রমজীবী মানুষের আতঙ্ক নেমে আসে। এই আতঙ্ক বেতন-বোনাস না পাওয়ার আতঙ্ক। এবার আগে থেকেই আমরা বেতন-বোনাসের দাবি জানাচ্ছি। আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শ্রমমন্ত্রী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে বেতন এবং ১৪ জুলাইয়েল মধ্যে বোনাস দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের প্রশ্ন, বোনাস কেন দেরিতে দেয়া হবে? তাহলে বোনাস যাতে না দিতে হয়, সেই ব্যবস্থা করতে কি শ্রমমন্ত্রী মালিকদের জন্য একটা রাস্তা বের করে দিচ্ছেন? বেতন-বোনাস না দেয়ার কোনো অজুহাতই মানা হবে না।’
বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. মন্টু ঘোষ, বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টনে এসে শেষ হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


