লন্ডনে বাংলা মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে ইফতারে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগের চেয়ে তার শরীর একটু ভালো হলেও এখনো সপ্তাহে একদিন করে ফিজিওথেরাপি নিতে হয়।
দীর্ঘ সাত বছরের প্রবাস জীবনে এই প্রথম তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং খোলামেলা আড্ডায় বসেন। পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেনে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য বিএনপি এই ইফতারের আয়োজন করে। এতে তারেক রহমান ছিলেন প্রধান অতিথি। প্রায় তিন ঘণ্টার আড্ডায় প্রশ্ন আর পাল্টা প্রশ্নে উঠে আসে বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পরবর্তী পদক্ষেপ, সরকারের অপশাসন, বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল এবং ভবিষ্যতের নানা দিক।
ইফতারের পূর্বে এবং পরে তিনি দীর্ঘ আড্ডায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। আবার নিজেও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নানা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন। ‘চিকিৎসার সর্বশেষ পরিস্থিতি কি?’ এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান জানান, শরীর আগের চেয়ে অনেক ভালো। এখন সপ্তাহে একদিন ফিজিও থেরাপি দিতে হয়। ভাঙ্গা হাড় জোড়া লাগলেও পূর্বের অবস্থায় আরে ফেরে না।
৮ জুলাই পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছেন বলেও তিনি জানান। একইসময়ে তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ওমরাহ পালন করবেন এবং সৌদিতে তাদের সাক্ষাৎ হবে বলে জানান তারেক রহমান।
ইফতার পার্টিতে বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ, প্রধান উপদেষ্টা শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস, যুক্তরাজ্য বিএনপির মিডিয়া টিমের আহ্বায়ক তাজউদ্দীন, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সদস্য ড. এম মুজিবুর রহমান, নাজমুল হোসেন জাহিদ, আখতার মাহমুদ প্রমুখ।
সাংবাদিকদের মধ্যে ছিলেন লন্ডন বাংলা পত্রিকার সম্পাদক কেএম আবু তাহের চৌধুরী, সাবেক সম্পাদক শাহ ইউসুফ, বিবিসি’র মাসুদ হাসান খান, জনমতের প্রধান সম্পাদক নাহাস পাশা, নিউজ এডিটর মুসলেহ উদ্দিন, চ্যানেল আই ইউরোপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী শোয়েব, চ্যানেল এস’র এক্সিকিউটিভ এডিটর সালেহ শিবলী, সুরমার পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ ময়েজ, সাংবাদিক নজরুল ইসলাম বাসন, বাংলাপোস্টের ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, লন্ডনবাংলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহিব চৌধুরী, দেশ পত্রিকার সম্পাদক তাইছির মাহমুদ প্রমুখ।
২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তারের পর জামিনে মুক্তি নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক। তখন থেকে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন তিনি। এদিকে তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
লন্ডন সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


