বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শেয়ার বেচাকেনার ৩৩ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে

SEC_BOটাকা জমা দিয়ে নবায়ন না দেয়ায় ৩৩ হাজার বেনিফিশারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। লেট ফি দিয়েও এসব অ্যাকাউন্ট আর চালু করা যাবে না। বিভিন্ন হাউস থেকে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে শেয়ার সংরক্ষণকারী কোম্পানি সেন্ট্রাল ডিপোজেটরি বাংলাদেশ লিমিটেডে (সিডিবিএল) এ বন্ধের তালিকা পাঠানো হয়। নবায়নের শেষ সময় ছিল ৩০ জুন। ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিনিয়োগকারীদের ২৫ জুন পর্যন্ত সময় দেয়। এরপরই হাউসগুলো থেকে বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়া শুরু হয়। সর্বশেষ হিসাবে দেশের শেয়ারবাজারে বিও অ্যাকাউন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১ লাখ ৯০ হাজার।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বিও অ্যাকাউন্ট নবায়ন করতে ৫০০ টাকা লাগে। এর মধ্যে সিডিবিএল ১৫০ টাকা, হিসাব পরিচালনাকারী ব্রোকারেজ হাউস ১০০ টাকা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশন (বিএসইসি) ৫০ টাকা এবং বিএসইসির মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ২০০ টাকা জমা হয়। আর এ খাত থেকে চলতি বছরে সরকারকে ৮১ কোটি টাকা দিয়েছে বিএসইসি। প্রতি বছর ৩০ জুনের মধ্যে এই ফি সিডিবিএলে জমা দিতে হয়। ব্রোকারেজ হাউসগুলো বিনিয়োগকারীদের ২৫ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছিল। এরপরই নবায়ন ফি দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করা শুরু হয়।

সূত্র জানায়. পুঁজিবাজারে আইপিও আবেদনের জন্য নামে-বেনামে প্রচুর বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। একই ব্যক্তি এক থেকে দেড়শ’ পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে। আর এসব বিওতে শুধু আইপিও আবেদন করা হয়। ২০০৯ সালের জুন পর্যন্ত বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ। কিন্তু ২০১০ সাল শেষে তা ৩৩ লাখ ছাড়িয়ে যায়। আর এই প্রবণতা রোধে বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়।

২৫ জুন শেয়ারবাজারে মোট বিও অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ২৩ হাজার। এর মধ্যে গত বছরের শেষ ৪ মাসে ১ লাখ ৭১ হাজার অ্যাকাউন্ট বেড়েছিল।

সর্বশেষ হিসাবে ২ জুলাই বিও অ্যাকাউন্ট কমে ৩১ লাখ ৯০ হাজারে নেমে এসেছে। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারী ৩০ লাখ ২৮ হাজার, প্রবাসী বাংলাদেশী ১ লাখ ৫১ হাজার এবং বিভিন্ন কোম্পানি ১০ হাজার ৫১৬টি। এ হিসেবে ৩৩ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়েছে।

তবে সিডিবিএল সূত্র বলছে, এই সংখ্যা আরও বাড়বে। কারণ ৩০ জুন পর্যন্ত সময় দেয়া হলেও তারা আরও ৭ দিন নবায়ন ফি জমা নেবে। ফলে ৭ জুলাইয়ের পর এ সংখ্যা আরও বাড়বে। গত বছর এ প্রক্রিয়ায় তারা ১ লাখ ৪১ হাজার বিও অ্যাকাউন্ট বাতিল করেছিল। তবে যেসব অ্যাকাউন্টে শেয়ার আছে অথবা টাকা জমা আছে, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেয়া হয়। এছাড়া বেশ কিছু হাউস অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য সিকিউরিটি ডিপোজিট বা জামানত জমা দিয়েছে। ওইসব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়নি।

সিডিবিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভ্রকান্তি চৌধুরী বৃহস্পতিবার ২ জুলাই বলেন, ব্রোকারেজ হাউস থেকে এ তালিকা পাঠানো হয়। এখানে সিডিবিএলের খুব বেশি কিছু করার নেই।

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) ডিপোজিটরি (ব্যবহারিক) প্রবিধানমালা, ২০০৩-এর তফসিল-৪ অনুযায়ী, বিও হিসাব পরিচালনার জন্য ডিপজিটরি অংশগ্রহণকারী বা বিনিয়োগকারীকে নির্ধারিত হারে বার্ষিক হিসাবরক্ষণ ফি দিয়ে হিসাব নবায়ন করতে হয়।

এর আগে পঞ্জিকা বর্ষ হিসেবে প্রতি বছর ডিসেম্বরে এই ফি জমা নেয়া হতো। তবে ২০১০ সালের জুন মাসে বিএসইসি বিও হিসাব নবায়নের সময় পরিবর্তন করে বার্ষিক ফি প্রদানের সময় জুন মাস নির্ধারণ করে। এ সময়ে বিও নবায়ন ফি ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করা হয়।

এরপর বিএসইসির জারি করা ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল এক সার্কুলারে ৩০ জুনের মধ্যে বিও অ্যাকাউন্ট নবায়নের বাধ্যবাদকতা আরোপ করা হয়। না হলে অ্যাকাউন্ট বাতিল করা হবে বলে ওই সার্কুলারে করা হয়েছিল।

সিডিবিএলের তথ্য অনুসারে, সারা দেশে সাড়ে ৩১ লাখ ৯০ বিও অ্যাকাউন্টের মধ্যে ঢাকাতে ২৫ লাখ এবং ঢাকার বাইরে ৭ লাখ ৯০ হাজারের মতো। কিন্তু গত জানুয়ারি শেষে ১৪ লাখ বিও অ্যাকাউন্ট সক্রিয় ছিল। এগুলোতে শেয়ার আছে এবং এগুলো থেকে নিয়মিত লেনদেন হয়। এছাড়া ১০ লাখ বিও অ্যাকাউন্টে কখনও কখনও শেয়ার থাকলেও মাঝে মাঝে শূন্য হয়ে যায়। ১২ লাখ বিও অ্যাকাউন্টে কখনোই কোনো শেয়ার ছিল না। এসব বিও অ্যাকাউন্ট সাধারণত আইপিওর জন্য ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ঢাকাতে বিও অ্যাকাউন্টের জন্য মেশিন রিডেবল হিসাব ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বিপুল পরিমাণ অ্যাকাউন্টে মেশিন রিডেবল তথ্য নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন