বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, আইনজীবীরা এমনকি বিচারকরা একদিন আন্দোলন করেছিল বিচার বিভাগ পৃথক করার জন্য। আইনের শাসনের জন্য আমরাই বিচার বিভাগ পৃথক করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তখন কোন হস্তক্ষেপ করি নাই। আমরা আওয়ামী লীগ-বিএনপি দেখি নাই। বিচার বিভাগ পৃথক হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনো স্বাধীন হয়নি। এর স্বাধীনতা এখন খর্ব করা হচ্ছে। এর আগে সুপ্রিম জুডিশয়াল কাউন্সিল ছিল, এখন বিচারকদের অপসারনের ক্ষমতা সংসদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এভাবে বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ৪ জুলাই শনিবার সুপ্রিমকোর্ট মিলনায়তনে এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্যের ব্যানারে এ ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন পুলিশের প্রতি অভিযোগ করে বলেন, এ পুলিশ সরকারকে টিকিয়ে রেখেছে। এরা বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। বাসে পেট্রোল বোমা মেরেছে। বিএনপি এবং ২০ দলের আন্দোলন বন্ধ হতো না, যদিনা পুলিশ বাসে আগুন না দিত। এভাবে মানুষ হত্যা করে বিএনপি এবং ২০ দলের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। জেলে আটকে রাখা হয়েছে। এই পুলিশের নামে কেন মামলা হয় না, তাদেরকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় না? এজন্য আমাদের নেতা-কর্মীদের ছেড়ে দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, দেশে এখন ন্যায় বিচার নেই, আইনের শাসন নেই। আমরা দেখেছি সরকারি দল হলে এক রকম বিচার হয়, আর বিরোধী বা সাধারণ মানুষের বেলায় আরেক রকম বিচার হয়। এ বিচার ব্যবস্থা চলতে পারে না। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন আইনের চোখে সবাই সমান।
খালেদা জিয়া বলেন, সারা দেশে বিএনপি এবং বিশ দলীয় জোটের নেতাদের নামে অসংখ্য মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। তাহলে বিএনপির কি সব অপরাধী? আর আওয়ামী লীগ এবং চৌদ্দ দলের সবাই সুফি হয়ে গেছে?
তিনি বলেন, বিএনপি কোনো সন্ত্রাসী দল নয়, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। তিনমাসের আন্দোলনে বিএনপি কিংবা বিশদলের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের সন্ত্রাস করেনি। অথচ বর্তমানে আওয়ামী লীগ পদে পদে সন্ত্রাস করছে। এর আগে পঁচানব্বই-ছিয়ানব্বইয়ে বাসে গান পাউডার দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করেছে। লগী-বৈঠা দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। তারা সন্ত্রাসী দল।
বিচারপতি টিএইচ খানের সভাপতিত্বে এবং বারের সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের পরিচালনায় এতে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. এমাজ উদ্দিন আহমেদ, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন ও সাংবাদিক মাহফুজ উল্যা প্রমুখ।


