বিশেষ প্রতিনিধি॥
৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। ২৩৯ বছর আগে এ দিনে ফিলাডেলফিয়ায় স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়। সেই থেকে প্রতিবছর এ দিনে পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে সকল বর্ণ, ধর্ম, বিশ্বাস, লিঙ্গ, সংস্কৃতি ও প্রজন্মের মধ্যে স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে বিশেষ সম্মিলন, বনভোজন, কুচকাওয়াজ ও আতশবাজি পোড়ানোসহ নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।
ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তির জন্যে ১৭৭৬ সালের ৪ঠা জুলাই উত্তর আমেরিকার ১৩টি উপনিবেশের প্রতিনিধি ফিলাডেলফিয়ায় সম্মেলনের আয়োজন করে ব্রিটিশ উপনিবেশের শৃঙ্খল ছিঁড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ করে। ১৭৭৬ সালে জুন মাসে এই স্বাধীনতার খসড়াটি তৈরি করেন টমাস জেফারসান। এক সপ্তাহ পর ৪ঠা জুলাই এই ঘোষণা পত্রটি কন্টিনেন্টাল কংগ্রেসে অনুমোদিত হয়।
স্বাধীনাতা দিবস উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে হার্ডসন নদীতে “ফায়রওয়ার্ক” অনুষ্ঠিত হয়। রাত ৯টা ৩১মিনিটে শুরু হয়ে পরবর্তী ২৫ মিনিট ধরে চলে ফায়ার ওয়ার্কস। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকজন যান এই বিশাল আয়োজন দেখতে। বিভিন্ন রকমের আকর্শনীয় ডিজাইনের এই ফায়ার ওয়ার্কস ৩৮ বছর যাবত পালিত হচ্ছে বিশ্ববিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ‘ম্যাসি’র উদ্যোগে। এদিকে নদীর ওপর পাড়ে সারা বিশ্বের গণতন্ত্রের সুপরিচিত নিদর্শন ‘স্ট্যাচু অব লিবার্টি’ স্বাধীনতা দিবসে চমত্কার ও নয়নাভিরাম আতশবাজি দিয়ে সাজানো হয়। নিউইয়র্ক বন্দরে প্রবেশপথে স্থাপিত এই বিশাল মূর্তিটি ৯৩ মিটার উঁচু। ফ্রান্স ১৮৮৬ সালে উপহার হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে মূর্তিটি প্রদান করে।
এছাড়া রাজধানী ওয়শিংটনে চৌঠা জুলাই এর প্রধান উৎসব হচ্ছে মনুমেন্ট এবং ক্যাপিটল হিলের মধ্যে বিস্তৃত বিশাল মাঠ দ্য ন্যাশনাল মলে। হোয়ইট হাউজ সংলগ্ন লেইকেও আতশবাজির বর্ণাঢ্য উৎসব হয়। লাসভেগাস, ডিজনিওয়াল্ড, আটলান্টিক সিটি, প্রভৃতি স্থানের লাখো আমেরিকানের সমাগম ঘটে স্বাধীনতা দিবসের বর্ণাঢ্য উৎসবে।
এদিকে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব্লুম বার্নিকাট এক বাণীতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক গতিশীল, বহুমুখী এবং অপরিহার্য। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ৫ লাখ বাংলাদেশী বসবাস করছে। এদের মধ্যে অনেকে লেখাপড়া করছে। কেউ ব্যবসা করছে। কেউ চাকরি করছে। বাংলাদেশেও অনেক আমেরিকান বসবাস করছে। তাদের সংখ্যা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দু’দেশের জনগণ আমাদের সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট বলেন, ২৩৯ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছিল, সকল মানুষ সমান। তিনি বলেন, বছরের পর বছর আমাদের এই আত্মবিশ্বাস আমেরিকান জনগণকে আরো বিচিত্র করে তুলেছে। আমরা মনে করি, সকল পুরুষ ও নারী সমান। আমাদের গণতন্ত্র সর্বদাই তাদের স্বীকৃতি দিচ্ছে এবং স্বার্থ সংরক্ষণ করছে।
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


