কোপা আমেরিকার ৪৪তম আসরের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে কষ্টের সাগরে ভাসিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে চিলি।টাইব্রেকারে তারা আর্জেন্টিনাকে ৪-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো লাতিন-আমেরিকান ফুটবল-শ্রেষ্ঠত্বের আনন্দে মেতে উঠল। ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে কোনো দলই গোল করতে পারেনি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট হলে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় শিরোপা প্রত্যাশী দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধেও কোনো গোল না হলে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ায়। অতিরিক্ত সময়েও কোনো গোল না হলে পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায় ফাইনাল।
চিলির হয়ে প্রথম শট থেকে গোল করেন ফার্নানদেজ। আর মেসির শটে গোল হলে সমতায় থাকে আর্জেন্টিনা। পরের শটে ভিদাল গোল করলে ২-১ এ এগিয়ে যায় চিলি। নিজেদের দ্বিতীয় শটে গঞ্জালো হিগুয়েন গোলবারের অনেক উপর দিয়ে বল মেরে দিয়ে দলকে বিপদে ফেলেন।
চিলির হয়ে তৃতীয় শটটিতে গোল করেন আরানগুয়েজ। আর নিজেদের তৃতীয় শটে গোল করতে ব্যর্থ হন এভার বেনেগা। তার শটটি ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দেন বার্সার গোলরক্ষক চিলিয়ান ব্রাভো। চতুর্থ শটে গোল করে শিরোপা নিশ্চিত করেন চিলির সেরা অস্ত্র অ্যালেক্সিজ সানচেজ।
সান্তিয়াগোর ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে শুরু থেকে লম্বা পাসে খেলার চেষ্টা করা চিলি ম্যাচের প্রথম তিন মিনিটের মধ্যে দুটো ক্রস থেকে গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিল। কিন্তু দুটো ক্রসই ধরতে সমস্যা হয়নি আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর। সপ্তম মিনিটে আর্জেন্টিনার সামনেও সুযোগ এসেছিল। তবে অ্যাঞ্জেল দি মারিয়ার বাঁ দিক থেকে নেওয়া ক্রস চলে যায় পোস্টের ওপর দিয়ে।
চার মিনিট পর রোমেরোর দৃঢ়তা বাঁচিয়ে দেয় আর্জেন্টাইনদের। ডান দিক থেকে আসা ক্রসে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া আর্তুরো ভিদালের বাঁ পায়ের শট কোনো রকমে ঠেকিয়ে দলকে বিপদ থেকে রক্ষা করেন মেসির দলের গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর মেসির একটি প্রচেষ্টা কর্নারের বিনিময়ে ঠেকিয়ে দেন চিলির ডিফেন্ডার গ্যারি মেদেল।
২০ মিনিটের সময় আবার আলবিসিলেস্তেদের জন্য হতাশা। বক্সের ডান দিক থেকে নেওয়া মেসির দুর্দান্ত ফ্রিকিকে হেড করেছিলেন সার্জিও আগুয়েরো। কিন্তু দারুণ দক্ষতায় হেডটা ঠেকিয়ে দেন ব্রাভো। পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণ থেকে এদুয়ার্দো ভার্গাসের জোরালো শট চলে যায় আর্জেন্টিনার ক্রসবার উঁচিয়ে।
২৯ মিনিটে আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা—পায়ের পেশিতে টান পড়ায় মাঠের বাইরে চলে যান দি মারিয়া।
৩৫ থেকে ৪০ মিনিটে চিলির রক্ষণদুর্গে বেশ কয়েকটি আক্রমণ শানিয়েও গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। মেসির ফ্রিকিক থেকে কর্নার হলেও সেই কর্নার কোনো রকমে রক্ষা করেছে চিলির রক্ষণভাগ। প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিট অবশ্য গোলের চেষ্টা করেছে স্বাগতিক দল। বিরতির ঠিক আগে আলেক্সিস সানচেজের শট রোমেরো ধরে ফেলায় আর দি মারিয়ার বদলে নামা এজেকিল লাভেজ্জির জোরালো শট ব্রাভো ফিস্ট করে ঠেকিয়ে দিলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একটা সুযোগ পেয়ে যায় চিলি। ডানদিক থেকে নেওয়া সানচেজের ক্রসে হেড করেছিলেন ভিদাল। কিন্তু বল চলে যায় রোমেরোর গ্লাভসে। এই আক্রমণে উজ্জীবিত চিলি প্রথম পাঁচ মিনিটে দুটো কর্নার আদায় করে নিলেও গোলের দেখা পায়নি।
এরপরই আস্তে-আস্তে খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ করে একাধিক কর্নারও পেয়ে যায় আকাশী-সাদা জার্সিধারীরা। কিন্তু গোলের দেখা কিছুতেই পাচ্ছিলেন না মেসি-আগুয়েরো-মাসচেরানোরা।
চিলির সামনেও সুযোগ এসেছিল। ৬৭ মিনিটে সানচেজের ক্রসে ভিদাল শট নিলেও আর্জেন্টিনার এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে হতাশ করে চিলিকে।
৮২ মিনিটে আবার চিলিয়ানদের জন্য হতাশা। প্রায় ৩৫ মিটার দূর থেকে নেওয়া চার্লস আরাঙ্গিজের লং বল বক্সের মধ্যে অরক্ষিত সানচেজকে খুঁজে পেয়েছিল। সানচেজের কোনাকুনি শট রোমেরোকে ফাঁকি দিলেও বল চলে যায় সাইডবার ঘেঁষে।
দুই মিনিট পর মেসির ডিফেন্সচেরা থ্রু লাভেজ্জিকে খুঁজে পেলেও অফসাইডের কারণে সুযোগটা নষ্ট হয় আর্জেন্টিনার।
ইনজুরি সময়ে আবার হতাশ হতে হয় আর্জেন্টাইনদের। মেসির মাধ্যমে গড়ে ওঠা দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ পেলেও আগুয়েরোর বদলে নামা গঞ্জালো হিগুয়াইনের শট একটুর জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তাই ৯০ মিনিট শেষেও ম্যাচের বন্ধ্যাত্ব ঘোচেনি।
অতিরিক্ত সময়েও দারুণ উপভোগ্য ছিল লড়াই। অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে দারুণ একটা সুযোগ পেয়েছিল চিলি। তবে পাল্টা আক্রমণ থেকে সানচেজের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে স্বাগতিকদের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস।অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে তেমন কোনো গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি। তাই দুদলকে দাঁড়াতে হয় টাইব্রেকারের লটারির সামনে।
ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


