বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

উইকিলিকসের নথি প্রকাশে খুশি হাসিনা সরকার

sheikh_hasina_Wikileaksসৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ফাঁস করা উইকিলিকসের গোপন নথি প্রকাশ্যে আসায় বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে কিছুটা ‘খুশি খুশি ভাব’ এসেছে। কারণ, যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধে বিএনপি ও জামায়াতের আন্তর্জাতিক দেনদরবারের প্রমাণ এর মাধ্যমেও পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে যে উদ্যোগ ছিল সৌদি তারবার্তায় তা প্রমাণ হওয়ায় বিএনপিও বিষয়টি নিয়ে তেমন স্বস্তিতে নেই। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানায়।

উইকিলিকস ওয়েবসাইটে অনুসন্ধানে এ পর্যন্ত পাওয়া বাংলাদেশে রাজনীতি-সংক্রান্ত কিছু গোপন নথি পর্যালোচনায় বিরোধী বিএনপি ও জামায়াতের প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন সহানুভূতির বিষয়টিও লক্ষ করা গেছে। যদিও সৌদি আরর যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধে জামায়াত ও রাজনৈতিক সংকট মেটাতে মধ্যস্থতা করতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

বিএনপিসহ আওয়ামী লীগের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর অভিযোগ অনুযায়ী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে ‘একদলীয় রাজনীতি’ (সিয়াসাহ আল হিযব আল-ওয়াহিদ) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে ঢাকা থেকে মূল্যায়ন করেছিলেন সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ আল বুসাইরি। ২০১২ সালের ১০ মে রিয়াদে পাঠানো এক কূটনৈতিক বার্তায় তিনি এ কথা জানান। উইকিলিকস ওয়েবসাইটে সদ্য প্রকাশিত তারবার্তাগুলোর মধ্যে একটিতে এ তথ্য জানা গেছে।

২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত আল-বুসাইরি ছিলেন ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত। ১০ মে ২০১২ সালে  সৌদি রাষ্ট্রদূত আল-বুসাইরি এক বার্তায় সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানান, ‘আমি মনে করি, বাংলাদেশের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মনোযোগ বেড়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার অব্যাহতভাবে আমেরিকা ও ভারতের সমর্থন পেয়ে যাচ্ছে, যা তাকে বিরোধীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের মাধ্যমে চাপে রাখার সুযোগ এনে দিয়েছে। আর সরকার একদলীয় রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’

ঢাকা থেকে পাঠানো এই ধরনের একাধিক বার্তায় দেখা যায়, সৌদি আরব বাংলাদেশে মার্কিন মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের সফরের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখছে। ওই বার্তাটির সঙ্গে বুসাইরি ২০১২ সালের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য মার্কিন কর্মকর্তা, যারা বাংলাদেশ সফর করেছিলেন তাদের নামের তালিকা রিয়াদে পাঠান।

২০১২ সালের নভেম্বরে ঢাকার দূতাবাসের বরাতে বাদশাহ আবদুল্লাহর কাছে পাঠানো এক বার্তায় বলা হয়, পার্লামেন্ট সদস্যরা যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধ করার ওই হুমকিকে বাংলাদেশের সংবিধানবিরোধী বলে মনে করেন। সৌদি দূতাবাস রিয়াদে তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এক দাপ্তরিক নোটে জানায়, ‘বর্তমান সরকার তার সকল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থন লাভে সক্ষম হয়, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সব সময় এ বিষয়ের ওপর জোর দিয়ে আসছিল, বিচারটি হতে হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এবং স্বচ্ছ।’ ওই বার্তায় আরো বলা হয়, ‘এই বিচারের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজনৈতিক এবং এই বিচারের বিষয়ে বিরোধী দল প্রবল প্রতিবাদ জানাচ্ছে।’

২০১২ সালের ১০ মে প্রেরিত ওই তারবার্তার মাত্র তিন মাস আগেই অপর একটি গাপনীয় তারবার্তায় (নং ২১৮/৭/৩/৩২৫ তাং ২০/৩/১৪৩৩) সৌদি দূতাবাস তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আল সউদকে (এখন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় বাদশাহর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা) জানিয়েছিল: ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশ সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করা, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে “প্রতিশোধ গ্রহণ” করা।’ এই বার্তাটির পুরো অংশ পাওয়া যায়নি।

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন