কওমী মাদ্রাসাতেই লেখাপড়া, সেখানেই রাত্রিবাস। তাই মায়ের সঙ্গে বেশ কিছুদিন দেখা হয়না। তবে কথা বলার জন্য পাশের বাজারের দোকানে গিয়েছিল শিশু সিফাত। এটাই তার অপরাধ। না জানিয়ে কথা বলতে দোকানে যাওয়ায় তারই চাচা মসজিদের ইমাম হাত-পা বেঁধে শুরু করেন তার ওপর নির্যাতন। এতে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। মাদারীপুরের পৌর এলাকার দক্ষিণ রাজদী বেপারী বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. ছগির হোসেন এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, ঠান্ডা পানি পান করিয়ে ও মাথায় পানি ঢালার পর তার জ্ঞান ফিরলে আবারও শুরু হয় চরম নির্যাতন। এতে ওই ইমাম শিশুটির সারা শরীরই পিটিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেন।
এমনই কাণ্ড ঘটিয়েছেন মাদারীপুরের পৌর এলাকার দক্ষিণ রাজদী বেপারী বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. ছগির হোসেন গত ৩ জুলাই শুক্রবার বিকেলে।
মোবাইল ব্যবহারে বেশি ঝোক, অবাধ্য হওয়া ও পড়ালেখায় উদাসিনতার কারণেই তিনি এভাবে ‘শাসন’ করেছেন বলে দাবি করেছেন। তবে এ ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে তিনি ভুল করে এ কাজ করে ফেলেছেন বলেও ক্ষমা চান।
নির্যাতনের শিকার সিফাত উল্লাহ (১০) কালকিনি উপজেলার লক্ষিপুর এলাকার সূর্যমনি গ্রামের দিনমজুর মো. আমজাদ বেপারীর ছেলে ও গোপালপুর এলাকার বনগ্রাম কওমি মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সুশীল সমাজ ও মানবাধিকারকর্মীরা।
স্থানীয় ও নির্যাতিত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লক্ষিপুর এলাকার সূর্যমনি গ্রামের দিনমজুর আমজাদ বেপারীর শিশুপুত্র সিফাত উল্লাহ গোপালপুর এলাকার বনগ্রাম কওমি মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। মাদ্রাসাটি ইতোমধ্যে পবিত্র রমাজন উপলক্ষে বন্ধ রাখা হলে পৌর এলাকার দক্ষিণ রাজদী বেপারী বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম ও সিফাত উল্লাহর ছোট চাচা মো. ছগির হোসেনের কাছে পড়ালেখার জন্য থেকে যায়।
চাচার কাছে থাকার প্রায় দুই সপ্তাহ হয়ে গেলে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চায় শিশুটি। তাই চাচাকে না বলে গোপনে মসজিদের পাশের দোকান থেকে গত বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইলে মায়ের সঙ্গে সিফাত কুশলবিনিময় করে।
এ খবর চাচা ছগির জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে শুক্রবার বিকেলে প্রথমে হাত-পা বেঁধে, ঘারে ১০/১৫ কামর দেয় তারপর মুখে গামছা ঢুকিয়ে তিন ঘন্টাব্যাপী বেত্রাঘাত চালায়।
একপর্যায় সিফাত অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে সিফাতকে ঠান্ডা পানি পান করিয়ে ও মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফিরিয়ে করে বেত্রাঘাত শুরু করে সগির। তার চিকৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে সিফাতকে নির্যাতনের হাত থেকে উদ্ধার করে তাকে আহত অবস্থায় গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
এ ব্যাপারে শিশু সিফাতের বাবা মো. আমজাদ বেপারী বলেন, ‘আমার শিশুছেলেকে যেভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তা একজন মানুষ মানুষকে করে না। আমাকে এলাকার মুরুব্বিরা আস্বাস দিয়েছেন, এলাকায় বসে নির্যতনকারী ছগিরের বিচার করবে।’
অভিযুক্ত মসজিদ ইমাম মো. ছগির হোসেন বলেন, ‘রাগের মাথায় ভুল করে এ কাজটি করে ফেলেছি। আমি চরম অন্যায় করেছি। আমাকে মাফ করে দেন।’
রবিবার দুপুরে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ হয়নি।
সংবাদদাতা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


