কর আদায়কারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল খালেক একজন দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা হয়ে পেয়েছেন টাকার খনি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা এখন রাজধানী ঢাকার বুকে ৬ তলা ও ৫ তলা বিশিষ্ট তিনটি বাড়ির মালিক। সেই সঙ্গে আছে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ২টি গাড়িসহ কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স। এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ উপার্জিত আয়ের চেয়ে বেশি মনে হওয়ায় তার সম্পদ অর্জনের রহস্য উদঘাটনে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকে আসা এক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ যথাযথ মনে হওয়ায়, তা অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এজন্য দুদকের সহকারী পরিচালক মোসা. সেলিনা আক্তার মনিকে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দুদকের একটি সূত্র এ তথ্য জানায়।
দুদকে আসা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মিরপুর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের কর আদায়কারী কর্মকর্তা হচ্ছেন মো. আব্দুল খালেক। অল্প কিছু দিন আগে স্বল্প বেতনভুক্ত একজন কর্মচারী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর এই কর্মকর্তায় পদোন্নতি হয়েছে তার। কিন্তু এই স্বল্প বেতনের চাকরি করেই এখন প্রায় শত কোটি টাকার মালিক তিনি।
আব্দুল খালেক ঢাকার উত্তর বাড্ডার মিস্ত্রিটোলা এলাকায় নজরমাহমুদ রোডে ২ ইউনিট বিশষ্ট ৬ তলার দুইটি বাড়ি (বাড়ি নং- শ-৯৩/১ এবং শ-১১০/ ) গড়ে তুলেছেন। এছাড়া উত্তর বাড্ডা সাতারকূল রোডে আলীর মোড়ে ২ ইউনিট বিশিষ্ট ৫ তলা বাড়ি (বাড়ি নং-২৮৭) আছে তার। সেই সঙ্গে আছে ব্যক্তিগত ও পারিববারিক দুইটি গাড়ি ( যেগুলোর নম্বর হচ্ছে- ব্যক্তিগত গাড়ি ঢাকা- মেট্রো-গ-২৭-৯৩১৯ এবং পারিবারিক গাড়ি নং- ঢাকা- মেট্রো-গ-৩১-০২৪৬)।
এছাড়াও রয়েছে কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স। আর এগুলো তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণই অসঙ্গতিপূর্ণ বা অবৈধ সম্পদ।
অভিযোগে আরও বলা আছে, আব্দুল খালেক ঢাকার কর অঞ্চল-৪ এর সার্কেল-৭১ এ আয়কর জমা দিয়ে থাকেন (যার টিআইএন-১৬৭৭৪১৮১৫০৪০)। আয়কর প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি তার আয়কর ফাইলে এসব সম্পদের কথা উল্লেখ করেন না। অথচ তিনি এই তিনটি বাড়ির মালিক হিসেবে প্রতিমাসে অনেক টাকা আয় করছেন। আর এভাবে আয়কর ফাঁকি দিয়ে গড়ে তুলছেন অবৈধ সম্পদ।
দুদকের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, কর আদায়কারী এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আসলে তা আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই শাখায় পাঠাই দুদক। যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগটি যথাযথ বলে মনে হওয়ায় গত ২৮ জুন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেই কমিশন।
বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য গত বৃহস্পতিবার উপপরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনকে তদারকি কর্মকর্তা ও সহকারী পরিচালক মোসা: সেলিনা আখতার মনিকে অনুসন্ধানী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


