ছিটমহল হস্তান্তর প্রক্রিয়া কার্যকরে ছিটমহলের বাসিন্দাদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ ও নাগরিকত্ব পরিবর্তনের লক্ষ্যে শুমারি শুরু করছে বাংলাদেশ ও ভারত। ৬ জুলাই শুরু হচ্ছে এ কার্যক্রম, যা চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ৭৫টি যৌথ দল এ নাগরিকত্ব পরিবর্তন ও গণনা করবে। এর মধ্যে ভারতের ভেতরে থাকা ছিটমহলে গণনা করবে ২৫টি দল। আর বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ছিটমহলে গণনা করবে বাকিরা। এ গণনার ফল প্রকাশ করা হবে ২০ জুলাই। এতে অংশ নিতে গত শনিবার ভারত থেকে বাংলাদেশে এসেছেন ৫৬ জন প্রতিনিধি। অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে গেছেন ৩৬ জন প্রতিনিধি। এর আগে ২০১১ সালের শুমারির পর কত শিশু জন্মেছে আর কতজন মারা গেছে, তার তালিকা করা হবে।
সূত্র জানায়, নাগরিকত্ব পরিবর্তনের জন্য জুলাইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ কমিটি ছিটমহলবাসীর মতামত নেয়া শুরু করে দিয়েছে। একই সঙ্গে শুমারির কাজটিও শেষ করে ফেলতে চাইছে দুই দেশ। ফলে জুলাইয়ে দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে নাগরিকত্ব পরিবর্তন এবং ছিটমহলবাসীর সংখ্যা নিরূপণের কাজ শেষ হবে।
স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দুই দেশের মধ্যকার মোট ১৬২টি ছিটমহলে যৌথ গণনা শুরু হচ্ছে সোমবার ৬ জুলাই। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম।
৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে ভারতের ভেতরে থাকা সব বাংলাদেশী ছিটমহল ভারতের ভূখণ্ড হিসেবে এবং বাংলাদেশের মধ্যে থাকা সব ভারতীয় ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবে।
২০১১ সালে দুই দেশের গণনা অনুযায়ী বর্তমান সব ছিটমহলবাসী এবং গণনার পর যেসব শিশু জন্ম নেবে তারা ভারতীয় বা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে যেসব ছিটমহলবাসী ভারত ছেড়ে বাংলাদেশে আসতে চায় না এবং একইভাবে যেসব ছিটমহলবাসী বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে ফিরে যেতে চায় না, তাদের ৬ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত দুই দেশের যৌথ জরিপকালে দুটি ফরম পূরণ করতে হবে। এ সময়ের মধ্যেই এক দেশ থেকে অন্য দেশে যেতে ইচ্ছুক ছিটমহলবাসীর প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে।
জানা গেছে, ভারতের ভূখণ্ডে ৫১টি বাংলাদেশী ছিটমহল আর বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ১১১টি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে।
২০১১ সালের শুমারি অনুযায়ী, ভারতে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলে আছে ১৪ হাজার ২২১ জন বাংলাদেশী। আর বাংলাদেশের ভূখণ্ডে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলে আছে ৩৭ হাজার ৩৬৯ জন ভারতীয়।
জানা গেছে, যদি কোনো ব্যক্তি বর্তমানে অবস্থানরত নাগরিকত্ব বহাল রাখতে চায়, তাদের আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে। সেই সঙ্গে নিজের পছন্দের দেশের মূল ভূখণ্ডে চলে যেতে হবে। ছিটমহলবাসীর দেয়া ট্রাভেল পাসের মাধ্যমে চিলাহাটি-হলদিবাড়ী, বুড়িমারী-চেংড়াবান্ধা, বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী চেক পয়েন্ট দিয়ে নিজ নিজ দেশে যেতে পারবে তারা।
জানা গেছে, যারা ভারত ছেড়ে বাংলাদেশ অথবা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারত যাবে, তারা টাকা-পয়সাসহ অস্থাবর সম্পত্তি সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে। আগ্রহী ব্যক্তিকে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে ভারতের আথবা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে চলে যেতে হবে। তবে যদি কোনো ব্যক্তি ৩০ নভেম্বরের আগে স্থাবর সম্পত্তি রেখে ভারতে অথবা বাংলাদেশে যেতে চায়, সেক্ষেত্রে সম্পত্তির দলিলের কপি (যদি থাকে) স্থানীয় জেলা প্রশাসনের হেফাজতে রেখে যেতে পারবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


