তীব্র যানজটে রোববার নাকাল হয়েছে রাজধানীবাসী। রমজানের শুরুর পর থেকেই শুরু হয়েছে এই ভোগান্তি। সপ্তাহের প্রতিটি কর্মদিবসেই সকাল থেকেই নগরীর সব সড়কেই থাকে পরিবহন জট। অসহনীয় যানজটের কারণে কর্মব্যস্ত মানুষের বেশিরভাগেরই গন্তব্যে পৌঁছাতে দেরি হয়েছে। ১ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাবে বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। রিকশা, অটোরিকশা চালকদের দ্বিগুন-তিনগুন ভাড়া দেয়ার প্রস্তাব করেও কোনো কোনো সড়কে নেয়া যেতে চায়না।
সরেজমিন দেখা গেছে, রবিবার গাবতলী-আজিমপুর রোডে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তীব্র যানজট ছিল। বিশেষ এ সড়কের ধানমণ্ডি-নিউমার্কেট অংশে পরিবহনগুলো ছিল প্রায় গতিহীন। দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার কারণে গাড়ি ছেড়ে যাত্রীদের অনেককেই হেঁটেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
গাউছিয়া মার্কেটের দোকানদার আদেল হোসেন বলেন, ‘মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে জিগাতলা পর্যন্ত বাসে যেতে সময় লেগেছে ১ ঘণ্টা। স্বাভাবিক সময়ে যাতে লাগে ১৫-২০ মিনিট। তিনি বলেন, জিগাতলা মোড়ে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত গাড়ি আটকে থাকায় বাস ছেড়ে হেঁটে মার্কেটে এসেছি। জানা গেছে, যানজটের ভয়াবহ চিত্র ছিল মতিঝিল, দিলকুশা, পুরান ঢাকার চকবাজার, জুরাইন, সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, ফার্মগেট, গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা এলাকায় প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি সর্বত্র।
কুড়িল বিশ্বরোডে কথা হয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পল্টন মোড় থেকে দুপুর ২টায় রওনা হয়ে বসুন্ধরা গেটে পৌঁছাতে বিকাল সাড়ে ৪টা বেজে গেছে। অন্যদিন এ দূরত্ব আসতে সময় লাগে ১ ঘণ্টা। রমজানের শুরু থেকেই রাজধানীতে যানজট বেড়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো যানজট নিরসনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’
ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের তথ্যমতে, রমজানের কিছুদিন আগ থেকে রাজধানীর ফুটপাত দখল করে জেঁকে বসেছে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বেশিরভাগ এলাকায় সড়কসহ ফুটপাত দখল করে কাপড়ের পসরা সাজিয়েছে হকাররা। ঈদ সামনে তাই হকারদেও উচ্ছেদ করছে না সিটি কর্পোরেশন। ঈদের পরে উচ্ছেদে নামবে দুই সিটি কর্পোরেশন।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


