১৯৫৩ সালের এদিনে জন্ম নেয়া দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ৬৩তম বছরে পদার্পণ করল আজ। দীর্ঘ এ পথচলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির যেমন রয়েছে সাফল্য, তেমনি রয়েছে রক্তাক্ত ইতিহাস। তবে দীর্ঘ এ পথপরিক্রমায় অপ্রাপ্তির পাল্লাও কম নয়। এখনও ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসি) চালু হয়নি। প্রায় ৩১ বছর ধরে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন হয়নি।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছেন। আটটি অনুষদের আওতায় ৫২টি বিভাগে চার বছরমেয়াদি স্নাতক (সম্মান) এবং এক বছরমেয়াদি স্নাতকোত্বর ডিগ্রি প্রদান করছে প্রতিষ্ঠানটি। এমফিল ও পিএইচডিসহ উচ্চতর গবেষণার জন্য এখানে রয়েছে পাঁচটি ইন্সটিটিউট।
বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দফতর জানায়, সোমবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন ভিসি প্রফেসর ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হবে। সকাল ১১টায় সিনেট ভবনে আলোচনা সভা হবে। এর আগে সকাল ১০টায় সিনেট ভবন চত্বরে অতিথিদের উপস্থিতিতে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং পতাকা উত্তোলন করা হবে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭টি আবাসিক হলের পতাকাও উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়াও ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণের কর্মসূচিও পালন করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও ভবনগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। সেখানে শোভা পাচ্ছে রঙ-বেরঙের আলোকসজ্জা।
১৯৫০ সালের ১৫ নভেম্বর রাজশাহীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ৬৪ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ১৯৫৩ সালের ৩১ মার্চ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন-১৯৫৩ পাস হয়। ওই বছরের ৬ জুলাই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিদ্যাপীঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
অস্ট্রেলিয়ান স্থপতি ড. সোয়ানি টমাসের স্থাপত্য পরিকল্পনায় ১৯৬৪ সালে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে মতিহারের সবুজ চত্বরের ৩শ হেক্টর জমিতে ১৬১ শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে এ বিশ্ববিদ্যালয়।
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও গবেষণা কাজে সার্বক্ষণিক দিকনির্দেশনার দায়িত্বে রয়েছেন প্রায় ১৪শ শিক্ষক। ৬২র বিতর্কিত শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাতিল, ৬৯র গণঅভ্যুত্থান, ৭১র মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ছাত্রদের জীবন বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের গুলিতে শহীদ হন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর ড. শামসুজ্জোহা। এ ছাড়াও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধে প্রাণ দেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হবিবুর রহমান, অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দার, মীর আবদুল কাইয়ুমসহ অসংখ্য শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
সংবাদদাতা, রাজশাহী
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


