বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে আবারও বিতর্ক

Asaduzzaman-Khan-Kamalজুতা নিয়ে শহীদ মিনারে উঠে যাওয়া, যুদ্ধাপরাধী কামারুজ্জামানের ফাঁসি প্রসঙ্গে ‘আর সময় দেওয়া হচ্ছে না’, ঢাকার শাহজাহানপুরে রেল কলোনিতে পানির পাইপে পড়ে মারা যাওয়া শিশু জেহাদ সম্পর্কে ‘পাইপে বাচ্চা নেই’ কিংবা টেকনাফে বিজিবি নায়েক রাজ্জাককে ধরে নিয়ে যাওয়াকে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলাসহ নানা বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় তল্লাশি প্রসঙ্গে ‘ওয়ারেন্ট’ পৌঁছলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবেসহ নানা বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।

অমর একুশের বইমেলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে প্রকাশে কুপিয়ে ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যা করে খুনিরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর সুশীলসমাজ থেকে রাজনৈতিক মহল- সবাই তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিলেন। শাহজাহানপুরে পাইপে পড়ে শিশু জেহাদের মৃত্যু এবং তার পিতাকে পুলিশের হয়রানির পরও নানা মহল থেকে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল- ‘পাইপে বাচ্চা নেই’ বলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর উদ্ধার অভিযান বন্ধ হয়ে যায় এবং তার পিতাকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। ফলে নির্মমভাবে মৃত্যু হয় নিষ্পাপ শিশুটির।

সর্বশেষ বিতর্ক সৃষ্টি করলেন সোমবার ৬ জুলাই জাতীয় সংসদে। যেখানে তিনি বলেছেন, পহেলা বৈশাখের যৌন হয়রানিতে জড়িত কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অথচ এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্যে বিস্মিত খোদ পুলিশ বিভাগ। আটকের কথা অস্বীকার করে পুলিশ বলেছে, ‘নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।’

জাতীয় সংসদে সোমবার প্রশ্নোত্তর পর্বে বর্ষবরণ উৎসবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যৌন নিপীড়নের ঘটনার কয়েকজনকে ‘ধরার’ কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, চিহ্নিত ব্যক্তিদের (ধরার বিষয়ে) আমাদের আইজি সাহেব (পুরস্কারের) ঘোষণাও দিয়েছেন। কয়েকজনকে আমরা ধরেছি। তাদের আইনের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। দু-একজন বাকি আছে। তাদেরও ধরব।

গত ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখের উৎসবের সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ফটকে ভিড়ের মধ্যে একদল যুবক নারীদের ওপর চড়াও হয়। তাতে বাধা দিতে গিয়ে আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি লিটন নন্দীসহ কয়েকজন। সে সময় চার নিপীড়ককে ধরে দুই পুলিশ কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি স্বীকার করা হয়।

বর্ষবরণ উৎসবে যৌন নিপীড়নের ঘটনার এই আটজনের ছবি প্রকাশ করে পরিচয় জানতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ। ওই ঘটনায় পুলিশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এক মাসেও কাউকে গ্রেফতার করতে না পেরে ছবি ও ভিডিও দেখে চিহ্নিত আটজনের পরিচয় শনাক্ত করার জন্য গত ১৭ মে ১ লাখ টাকা করে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।

ওই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে- তা উচ্চ আদালতও জানতে চেয়েছিল। এ বিষয়ে রুল পাওয়ার পর গত ১৯ মে পুলিশের মহাপরিদর্শক আদালতে একটি প্রতিবেদন দেন। তবে ওই প্রতিবেদনে কি আছে, তা গণমাধ্যমকে জানানো হয়নি।

সোমবার সংসদে প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের পর এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম অনলাইন সংবাদপত্র বিডিনিউজকে বলেন, ওই ঘটনার পর বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে কয়েকজনের ছবি প্রচার করে তাদের দোষী বলা হয়। কিন্তু এদের মধ্যে দুজন পুরুষ ও একজন নারী এসে আমাদের বলেছে, তারা ঘুরতে গিয়েছিলেন, নিপীড়নে জড়িত নন। আমরাও এর সত্যতা পেয়েছি।

তিনি জানান, নিপীড়নে জড়িত একজনের সম্পর্কে তথ্য পেয়ে পুলিশ বরিশালে তার বাড়িতেও গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে এক বৃদ্ধকে পাওয়া যায়; গত পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি ঢাকায় আসেননি। গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার শেখ নাজমুল আলম বলেন, পুরস্কার ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত কারও কাছ থেকে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।

আরও পড়ুন