বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে তৎপর হয়ে উঠেছে পুরনো একটি সিন্ডিকেট। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই সিন্ডিকেটই প্রভাব বিস্তার করছে কয়েক বছর ধরে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০২ সালে তৈরি হয়েছে এই সিন্ডিকেট। ছাত্রলীগের সাবেক এক সভাপতি এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই সিন্ডিকেট আগে মাহমুদ হাসান রিপন-মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন এবং বদিউজ্জামান সোহাগ-সিদ্দিকী নাজমুল আলম কমিটি করে দেয়। বর্তমানে একই প্রক্রিয়ায় নতুন কমিটি নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এই সিন্ডিকেটই আলোচনা সাপেক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটি দিয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। ছাত্রলীগের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে, এই তিন কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারিরা ওই সিন্ডিকেটের আশীর্বাদপুষ্ট। ফলে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচন হলে আবারো ছাত্রলীগের নেতৃত্ব পাচ্ছে সিন্ডিকেট কমিটিই।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, বর্তমান কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমান সোহাগ ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সেক্রেটারি আজিজুল হক রানা রয়েছেন সিন্ডিকেটের প্রথম পছন্দ। তবে অন্যদিকে শক্ত প্রার্থী হলেন ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামসুল কবির রাহাত। তিনিও সাবেক এক ছাত্রলীগ সভাপতির পছন্দের। যিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।
যুবলীগ কিংবা আওয়ামী লীগের কোথাও স্থান হয়নি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের লিয়াকত-বাবু কমিটির সভাপতি লিয়াকত শিকদারের। তারই কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু সংসদের দুবারের এমপি। এক সময়ে তার গ্রামের কর্মী জুনাইদ আহমেদ পলক সরকারের প্রতিমন্ত্রী। নিজের কোথাও স্থান না হওয়ায় এখনও ছাত্রলীগ আঁকড়ে আছেন লিয়াকত শিকদার। বলা হচ্ছে, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে তার হাত রয়েছে। অভিযোগ আছে, পদ বাণিজ্যেরও।
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পর পদবঞ্চিতরা হামলা চালায় লিয়াকত শিকদারের বাড়িতে। ছাত্রলীগের সোহাগ-নাজমুল কমিটি বের করে আনার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর হাত ছিল। পরবর্তীতে কমিটির অন্য সম্পাদকীয় পদ অনেকটা প্রকাশ্যেই বিক্রি হয়েছে। যাতে ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতি না থেকেও সহ-সভাপতি থেকে শুরু করে সম্পাদকীয় পদে এসেছেন অনেক নতুন মুখ।
ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে এখন ভূমিকা রাখেন সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের। এবারও তার আশীর্বাদ টিকিয়ে রাখতে চীন থেকে দেশে ফেরার সময়ে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানাতে গিয়েছিল সিন্ডিকেটের সদস্যরা। ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে অন্য কেউ ওভাবে মাথা না ঘামানোয় সিন্ডিকেটকে অপ্রতিরোধ্যই মনে হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে সতর্ক নীতিনির্ধারকরাও। বিষয়টি ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কানে দিয়েছেন তার সঙ্গে কাজ করা সাবেক এক ছাত্রলীগ নেতা। প্রধানমন্ত্রী তাকে উল্টো প্রশ্ন করেছিলেন, ‘ও এখনও ছাত্রলীগ নিয়ে কি করে?’।
এদিকে সম্মেলনে এবার ভোট হবে নাকি সিলেকশন হবে তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। ইতোমধ্যে সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে গঠন করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনও। সম্মেলনের আর বেশি দিন বাকি না থাকলেও এখনও অন্যান্য বছরের মতো কোনো কেন্দ্রীয় নেতাকে দায়িত্ব দেননি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই ছাত্রলীগের সিন্ডিকেটে আপাতত কপালের চিন্তার ভাঁজ সরছে না।
ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এর সাংগঠনিক নেত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আশির দশকে দেশে ফেরার পর থেকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি নিজেই ভূমিকা রেখেছেন। যাতে সহযোগিতা করতেন জিল্লুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু। নেতাদের কাছে সম্ভাব্য সভাপতি-সম্পাদকের নাম নেওয়ার পর খোঁজখবর নিয়ে তিনিই ঘোষণা করতেন নাম। পরবর্তীতে এ দায়িত্ব পালন করেন ওবায়দুল কাদের, আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসেনরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডট কম।


