আগামীকাল থেকে ঈদের আগাম টিকিট বিক্রি করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। প্রতি ঈদেই কাঙ্খিত টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ করেন যাত্রীরা। যার অন্যতম কারণ কোটা ব্যবস্থা। ভিআইপিদের জন্য মাত্র ৫ ভাগ বরাদ্দের কথা থাকলেও; ঈদের সময় তা বেড়ে যায় ১০ গুণ। এ বছরও কি থাকবে একই চিত্র? রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক হুঁশিয়ারি দিলেন, কোটার বাইরে কেউ টিকিট বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ঈদ আসলে শুরু হয় টিকিটের জন্য ছুটোছুটি। রাতভর জেগেও মেলেনা স্বপ্নের টিকেট। যতজন লাইনে দাড়িয়ে থাকেন তার অর্ধেকেকে ফিরতে হয় শুন্য হাতে। তারপরও বাদুর ঝোলা হয়ে মানুষের ছুটে চলা আপন গন্তব্যে। কিন্তু নেপথ্যের কথা হলো সরকারি ঘোষণায় যত টিকেট বিক্রির কথা বলা হয় সাধারন মানুষের কাছে যায় অর্ধেকেরও কম। কারন টিকিট ব্লক। এই কথার অর্থ হলো ভিআইপি, সরকারি কর্মকতা, বিচারপতি সহ তিন বাহিনীর জন্য টিকিটের বিশেষ বরাদ্দ।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সবচে ভালো মানের ট্রেন সূর্বণ এক্সপ্রেস। এসি ও নন এসি মিলিয়ে এই ট্রেনে টিকিট থাকে সাধারনত ৯শটি। ভিআইপিদের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা ৫ ভাগ অর্থাৎ ৪৫টি। কিন্তু বিভিন্ন কোটা সহ ভিআইপিদের জন্য বরাদ্দ থাকে ৪শ ১৫টি টিকিট। অর্থাৎ ৫০ ভাগ টিকিট থাকছে সৌভাগ্যবাদ ভিআইপিদের জন্য। আর সাধারণ মানুষের জন্য মোবাইল ও এসএমএসের মাধ্যমে বুকিং এর জন্য বরাদ্দ ২২৫টি। যারা কাউন্টারে দাড়িয়ে কেনেন তাদের জন্য ২৬০টি।
সব যেনে শুনে রেলমন্ত্রী বললেন এমন অনিয়মের সাথে রেলের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেবেন তিনি। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদে থাকছে সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন। কমলাপুর থেকে ২৮টি আন্ত:নগর ট্রেনের মোট আসন ১৩ হাজার ৭০৮টি কোটায় বন্দি থাকে ৫ হাজার ২২৮টি, আর বাকী ৮ হাজা ৪৮০টি কিনতে পারে সাধারণ মানুষ। এর মধ্যে থেকেও ভিআইপি ও কোটায় জোগান দিতে হয়।
প্রতি ঈদে গড়ে প্রতি ট্রেনে ভিআইপিদের জন্য ৫ ভাগ৩৩টি, রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারী ৫ভাগ৩৩টি , ১০-১২ ভাগ রেগুলার কোটায়,বিজেএমইএ, এফবিসিসিআই, বিচারপতি ও তিনবাহিনীর জন্য ৮০টি, ২৫ভাগ থাকে অনলাইন ও মোবাইলে ১৬৬টি, তাও আবার পাওয়ায় জন্য পড়তে হয় প্রযুক্তির বেড়াজালে। সারাদেশে প্রতিদিন ১লাখ ৫০ হাজার যাত্রী পরিবহন করে থাকে ঈদে বেড়ে যায় প্রায় ৩ লাখ, ঢাকা ছাড়ে ১৪ হাজার ঈদে যা বেড়ে দাড়ায় ৪০ হাজারের বেশি।
বিশেষ প্রতিনিধি,ঢাকা
নিউজওয়ার্ল্ডবিডি ডটকম


